জাতিসংঘে বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৩ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

  আমাদের সময় ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৪৭ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তিন দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থী সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। খবর : বাসস।

প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব হচ্ছে- প্রথমত, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ, রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ ও তাদের সে দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বদানের সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় মিয়ানমারের ভেতরে ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাসস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। অথচ তারা সেখানে কয়েকশ’ বছর ধরে বসবাস করে আসছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার এ বৈঠকের আয়োজন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের জন্য ৬ হাজার একরের  বেশি জমি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার সরকারই তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছি। এটা করে আমরা শুধু তাদের জীবন রক্ষা করিনি, বরং আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত নেওয়া দেখতে চায়। রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ভাসানচর নামক একটি দ্বীপের ব্যাপক উন্নয়ন করে তাদের সেখানে স্থানান্তর করব, যাতে তারা ওই দ্বীপে উন্নত জীবনযাপন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব দেশ শরণার্থীদের বোঝা কাঁধে নেয়, বিশ্বের উচিত তাদের এ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে