২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা

রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন হোক

  মিল্টন বিশ্বাস

১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত এক দশকে যত উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ১০ অক্টোবর (২০১৮) ঘোষিত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার রায় যে কোনো প্রশ্নে, যে কোনো মানদ-ে গভীর তাৎপর্য বহন করে। ২০০৪ সালের ওই ঘটনায় কেবল ২৪টি তাজা প্রাণের মর্মান্তিক মৃত্যু নয়, সেদিন শেখ হাসিনার প্রাণনাশের যে চেষ্টা করা হয়েছিল এবং শত শত আহত মানুষের আহাজারিতে এ দেশ জঙ্গিবাদের তকমা পেয়েছিল সেসব আলোড়িত ঘটনারও পরিসমাপ্তি হলো এ রায়ে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে; যা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে আমাদের। মামলার জীবিত ৪৯ আসামির মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছেন বিচারক। উল্লেখ্য, মামলার ৫২ আসামির মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলমের ফাঁসি হয়েছে অন্য মামলায়। বাকি আসামিদের মধ্যে ৩১ জন কারাবন্দি। তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের মধ্যে ৯ জন যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। ভারতে কারাবন্দি রয়েছে দুজন। অন্য সাত আসামির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পলাতক আসামিদের ধরে এনে রায় কার্যকর করার জন্য এখন আমাদের অপেক্ষার পালা শুরু হলো।

২.

আগেই লিখেছি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায় তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারে প্রমাণিত হলো যে, বিএনপি-জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকারের কথা যার মুখে সর্বদা উচ্চারিত হয় সেই তৃণমূল মানুষের প্রিয় মুখ শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য টার্গেট করেছিল। যদিও তা ব্যর্থ হয়েছিল। আসলে শেখ হাসিনার জন্য ২১ আগস্ট ছিল মৃত্যু উপত্যকার ভয়ঙ্করতম দিন আর এ দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়। তার ওপর এই হামলা ছিল চতুর্দশতম। ১৩টি আর্জেস গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সমাবেশে। ট্রাকের ওপর স্থাপিত মঞ্চে শেখ হাসিনা ভাষণ শেষ করামাত্রই একটার পর একটা মানববিধ্বংসী সামরিক গ্রেনেড ফুটতে থাকে আর লুটিয়ে পড়তে থাকেন নিরস্ত্র মানুষ। নিরস্ত্রের ওপর সশস্ত্র খুনিদের হামলার রূপ ছিল ভয়ঙ্কর। ছিন্নভিন্ন লাশের স্তূপে ভরে গিয়েছিল সেদিনের রাজপথ। ট্রাক লক্ষ্য করে ছোড়া গ্রেনেডটি ভাগ্যক্রমে বিস্ফোরিত না হওয়ায় আহত হয়েও বেঁচে যান শেখ হাসিনা এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। হত্যাযজ্ঞের পর হামলার দায় স্বীকার না করলেও পরে আমরা আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানতে পেরেছি আফগান ফেরত মুফতি হান্নানের হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম আল বাংলাদেশের (হুজি) জঙ্গিরা গ্রেনেড ছুড়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং পুলিশ-গোয়েন্দাদের শীর্ষস্থানীয়রাও জড়িয়ে পড়েছিল হামলা বাস্তবায়নে এবং জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে সুযোগ করে দিয়েছিল অপরাধীদের পালিয়ে যেতে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সেদিন বিকল্প হিসেবে অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক সশস্ত্র পথ বেছে নিয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির রাজনীতি। চলতি বছর (২০১৮) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঘটাতেই এই জঘন্য ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, বিএনপি তখন ক্ষমতায়। খালেদা জিয়া, তার দল, তার ছেলে এবং তার কেবিনেটের মন্ত্রী পর্যন্ত জড়িত। এই ধরনের খুনি জালেম, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী, একদিনে যারা ৫শ’ জায়গায় বোমা হামলা করে, আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএম কিবরিয়াকে হত্যা করে, এদের হাতে যেন বাংলাদেশের ক্ষমতা না যায়।... তারা ভেবেছিল, আমাকে হত্যা করার মাধ্যমে আমার কণ্ঠ রোধ করা যাবে। জনগণের জন্য উৎসর্গীকৃত আমার বাবার জীবন সম্পর্কে আমি জানি। আমিও প্রস্তুত রয়েছি তাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে। কারণ আমার বাবার অসমাপ্ত কাজ আমাকে শেষ করতেই হবে।’

৩.

এই বাংলাদেশে একাধিকবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই চেষ্টার ঘটনাগুলো ১৯৮১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হয়েছে। বরং তার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে সেসব ঘটনায় নেত্রীকে প্রাণনাশে ব্যর্থ হলেও অনেক নেতাকর্মীকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকা-ের ত্রিশ বছর পর সেই আগস্ট মাসেই আবারও গণহত্যার ঘটনা ঘটে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট তথা খালেদা-নিজামীর নীলনকশা আর জঙ্গিবাদ উত্থানের ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় তিনশর বেশি নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন; নিহত হন আওয়ামী মহিলা লীগের নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। বিশ্বজুড়ে তোলপাড় করা গ্রেনেড হামলার সেই ঘটনার ভয়াবহতা আমাদের হতবাক করে দিয়েছিল। পরের বছর (২০০৫) ঠিক একই মাসের ১৭ তারিখে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে পাঁচ শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ও নিহত মানুষের স্বজনদের আর্তনাদ এবং আহত মানুষের কান্নায় আমাদের মনে ক্ষোভ ও ঘৃণা আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বোমা হামলার ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলো শুরু হয়েছিল তারও আগে থেকে। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরের টাউন হল মাঠে উদীচীর সমাবেশে এক বোমা হামলায় নিহত হয় ১০ জন। একই বছর ৮ অক্টোবর খুলনার নিরালা এলাকায় অবস্থিত কাদিয়ানিদের উপাসনালয়ে বোমা বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত হয়। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলায় ৬ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। ১৪ এপ্রিল রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসবে সংঘটিত বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় ১১ জন। ৩ জুন বোমা হামলায় গোপালগঞ্জের বানিয়ারচর গির্জায় সকালের প্রার্থনার সময় নিহত হয় ১০ জন; আহত হয় ১৫ জন। সিলেটে একাধিক বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া নিহত হন গ্রেনেড হামলায়। ২০০৪ সালের ২১ মে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গেলে গ্রেনেড হামলায় আহত হন তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার হোসেন; যিনি সিলেটি বাংলাদেশির সন্তান। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমাবেশে, অফিসে, নেতার গাড়িতে, সিনেমা হলে একাধিক বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে বোমা ও গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছে শতাধিক ব্যক্তি। অথচ ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। হামলা প্রতিরোধ ও জঙ্গি দমনে তৎকালীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তা জঙ্গিবাদ উত্থানে সহায়ক হয়ে উঠেছিল; ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা-নিজামী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা আজ প্রমাণিত।

আমাদের স্পষ্ট মনে আছে, সে সময় খালেদা-নিজামী জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানো হয়েছিল; নষ্ট করা হয়েছিল গ্রেনেড হামলার সব আলামত। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে জজ মিয়াদের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি। বরং ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৫২ জনকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হলে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। প্রধান আসামিদের তালিকায় নাম রয়েছেÑ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টু, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান প্রভৃতি। এদের নিজ ভাই ও সঙ্গীদের অনেকেসহ হুজি নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এখন প্রমাণিত সত্য। অর্থাৎ একদিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা, অন্যদিকে জঙ্গিদের সঙ্গে তৎকালীন জোট সরকারের সুসম্পর্ক বর্তমানের তথাকথিত ২০-দলীয় বিরোধীদের রাজনীতির ভয়ানক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে। খালেদা-নিজামীরা যে খেলায় মেতেছিল সেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে বর্তমান সরকারের আমলে। মানুষের আস্থা বেড়েছে আওয়ামী সরকারের ওপর। তবে দেশের মধ্যে জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে জঙ্গিবাদের বিস্ময়কর উত্থান বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দেয়। কারণ জোট প্রশাসন জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল। সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২৯ মার্চ ২০০৭ সালে যে শীর্ষ জঙ্গিদের ফাঁসি কার্যকর করে তাদের সবারই জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই অতীতে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ১৫ জুন ২০০৭ সালে দৈনিক পত্রিকা থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত কয়েকজন জেএমবি সদস্য অতীতে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে।

৪.

বিচারকার্য শেষে রায় প্রকাশিত হওয়ায় আমরা পরিষ্কার দেখতে পেলাম, শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বারবার লিপ্ত থেকেছে দেশ-বিদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী এবং এ দেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষত জামায়াত-বিএনপি জঙ্গিবাদী মতাদর্শকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সর্বদা উসকে দিয়েছে। এমনকি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় এবং আগে-পরে বিএনপির ডাকা অবরোধকালীন অগ্নিসন্ত্রাসের পেছনে জঙ্গিদের অপতৎপরতার অনেক দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া গেছে। ফলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনার বিচার ও ঘোষিত রায়ের শিক্ষা হলো জঙ্গিবাদ নিপাত যাক, ধর্মীয় উগ্রবাদিতা রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার পরিবর্তে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমূলে উৎপাটিত হোক। কারণ জঙ্গি হামলার নিশানা হলো মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা; যার ধারক-বাহক ও লালনকারী হলেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। এ জন্য ২১ আগস্টের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন হোক এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশের পুনর্জন্মের ঐতিহাসিক ক্ষণ হিসেবে ১০ অক্টোবর চিহ্নিত হোক বাংলাদেশের ইতিহাসেÑ এই প্রত্যাশা আমাদের।

য় ড. মিল্টন বিশ্বাস : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। [email protected]

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে