ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল

আরও বিবেচনার দাবি রাখে

  অনলাইন ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এখন এটি আইনে পরিণত হলো। এই বিলটি সংসদে উত্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের সব কটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এর কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ দুই সংস্থার প্রবল সমালোচনার মুখে সরকারের তিন মন্ত্রী তাদের নেতাদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, বিষয়টি তিনি মন্ত্রিসভায় তুলবেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে জানাবেন। কিন্তু কার্যত দেখা গেল বিষয়টি মন্ত্রিসভায় ওঠেনি, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার জন্যও কিছু বলা হয়নি।

সম্পাদক ও সাংবাদিক সংস্থার নেতাদের অধিকাংশই বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। তারাও সবাই এই বিলের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আদতে পূর্ববর্তী তথ্য অধিকার আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে আপত্তি ওঠার পর সরকার তা স্থগিত করেছিল। পরবর্তীকালে এর আওতা আরও বাড়িয়ে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়। এটি প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন। তাদের বিভিন্ন পরামর্শ শোনা ও অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার একতরফা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখল।

এ ধরনের আইনের অপপ্রয়োগ আমরা আগেও দেখেছি। বর্তমানেও একজন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ আইনে কারারুদ্ধ রয়েছেন। এ আইন ও এ ধরনের প্রয়োগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। আজকাল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল জাতীয় ইস্যু নয়, এর রয়েছে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব। বাংলাদেশ সে অঙ্গনেও ইতোমধ্যেই সমালোচিত হচ্ছে।

আমরা মনে করি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন আছে। আজকের দিনে নানাভাবে সাইবার ক্রাইমের ঘটনা ঘটছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনা আমরা ভুলব না। কিন্তু সেই নিরাপত্তার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যা সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত, তা ক্ষুণœ হলে চলবে না। সরকারের সমালোচনা গণতন্ত্রের আবশ্যিক অঙ্গ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আইনের সুযোগ নিয়ে সমালোচনাও কুৎসা হিসেবে বর্ণিত হচ্ছে। মামলায় নিষ্কৃতি পাওয়ার আগেই ভুক্তভোগীর অনেক ভোগান্তি হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের অধিকার পুলিশি তৎপরতা বাড়িয়ে দেবে। এসবই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।

কোনো সরকারই চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু আইন হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি। প্রধানমন্ত্রী তার হাতে এ আইনের অপব্যবহার হবে না বলে যে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন তাতে গণমাধ্যম ও সচেতন মানুষ কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকবে? আমাদের মনে হয় বিষয়টি আরও গভীর ভাবনার দাবি রাখে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে