এ রায়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী

কঠিন বাস্তবতায় চাই ধৈর্য ও দূরদর্শিতা

  অনলাইন ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০১:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা এবং এর রায়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী বলেই মনে হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা একটি রাজনৈতিক হত্যাকা- হলেও এবং এর সূত্রে জেনারেল জিয়ার নাম ঘটনার উপকারভোগী হিসেবে উচ্চারিত হলেও রাজনৈতিক দল বিএনপির তখনো জন্ম হয়নি এবং রাজনীতিবিদ জিয়ারও উত্থান ঘটেনি। কিন্তু ২০০৪ সালে বিএনপি কেবল গণতান্ত্রিক আমলেই তৃতীয়বারের মতো সরকারে আসীন ছিল। এ মামলায় সরকারের মন্ত্রী, পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাসহ পদস্থ অফিসার, সেনাবাহিনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সর্বোচ্চ অফিসার অভিযুক্ত হয়ে শাস্তি পেয়েছেন। কীভাবে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে এ দায় এড়াবে? হামলা চলার সময় ও পরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তদন্তকাজকে প্রভাবিত করার দায় নিতে হচ্ছে তারেক রহমান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তা ছাড়া ওই সময়ে প্রধান আসামি মুফতি হান্নানের জবানবন্দি গোপন করার দায়ও সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারবেন না। দেখা যাচ্ছে মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে তারেক রহমানসহ অন্যদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছিলেন। অথচ তখন সরকার জজ মিয়া নামের এক সাধারণ ব্যক্তিকে এককভাবে দায়ী করে মামলা এগিয়ে নিতে চাইছিল। আর এখন বিএনপি এই মামলার আসামিদের জবানবন্দি, শুনানি চলার সময় প্রাপ্ত তথ্য ও বিচারকদের পর্যবেক্ষণকে আমলে নিচ্ছে না। তারা একে সরাসরি ফরমায়েশি রায় আখ্যা দিয়ে এটি প্রত্যাখ্যানের পথই গ্রহণ করেছে। জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের দায়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেও প্রকাশ্যে সে দায় স্বীকার করেনি। এখন একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে অভিযুক্তরা শাস্তি পেলেও বিএনপি অস্বীকৃতির পথেই দায়মুক্ত হতে চাইছে। ঘটনা এবং মামলা এতদূর গড়িয়েছে যে, কেবল অস্বীকৃতি বোধহয় বিএনপির জন্য নৈতিক বাধা মুক্তির পথ তৈরি করবে না।

এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি এক গভীর সংকটের আবর্তে পড়েছে বলে মনে হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ, জানুয়ারির প্রথমার্ধের মধ্যে সাধারণ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে গণতান্ত্রিক চেতনা ও মূল্যবোধের বিবেচনায় জনগণ কি কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছে? মানুষ অপরাধের ন্যায়বিচার চায়, কিন্তু সেই সঙ্গে সমাজজীবনে শান্তি ও স্বস্তি চায়। সব দলের রাজনীতিবিদদের এ বিষয়টি মাথায় রেখেই পথ চলতে হবে। শুধু নির্বাচন বা ক্ষমতা মানুষের চূড়ান্ত অভীষ্ট শান্তি নিশ্চিত করবে না। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ছাড়াও সামাজিক অন্যান্য শক্তিকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে