ধর্ম

ইসলামে প্রাণীর প্রতি আচরণ

  মুফতি তাউহিদুল ইসলাম

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০১:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামে রয়েছে সব বিষয়ের সর্বোত্তম বিধান। রয়েছে সবার প্রতি আচরণবিধির সুবিস্তৃত বর্ণনা। সে হিসেবে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের আচরণ কেমন হবে তার স্পষ্ট ও চমৎকার নির্দেশনা ইসলামে রয়েছে। একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার পেটের সঙ্গে পিঠ লেগে গিয়েছিল। তিনি প্রাণীটিকে দেখে বললেন, এসব বোবা প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। এতে আরোহণ করলে সুস্থ অবস্থায় আরোহণ করো এবং সুস্থ থাকতেই তাকে ছেড়ে দাও। জবেহ করে খেতে হলেও তা ভালোভাবে করো। (আবু দাউদ শরিফ)

সুন্দরভাবে খাওয়ার অর্থ হচ্ছে প্রাণীটিকে খাওয়ার উপযুক্ত করতে কোনোরূপ জুলুম করা যাবে না। সেমতে ধারালো ছুরি দিয়ে দ্রুত রগ কেটে ফেলতে হবে। যাতে করে ব্রেইনে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে ব্যথার অনুভূতি সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহতায়ালা সব বিষয়ের ওপর অনুগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই যখন জবেহ করতে হয় তখনো অনুগ্রহ করো এবং এ জন্য ছুরি ধার করে নাও। আর প্রাণীটিকে কম কষ্ট দেবে। (মুসলিম শরিফ)

পোষা প্রাণীর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে আর পোষা না হলে সেটিকে আটকে রেখে খাবার গ্রহণ করতে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। একটি হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার সামনে দোজখ উপস্থিত করা হয়। সেখানে বনি ইসরাঈলের একজন নারীকে দেখতে পাই। যাকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেওয়া হচ্ছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। খাদ্যও দেয়নি এবং মুক্তও করেনি। ফলে সেটি ক্ষুধায় মারা যায়।

জীবের প্রতি দয়া করলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়। নবী করিম (স.) বলেন, এক ব্যক্তি পথ চলতে চলতে খুব পিপাসার্ত হলো। একটি কুয়ার কাছে এসে পানি পান করে বের হতে লাগল। হঠাৎ একটি কুকুরকে হাঁপাতে দেখল, যেটি পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চুষছে। লোকটি মনে মনে বলল, কুকুরটির তেমনই লাগছে যেমন আমার লেগেছিল। লোকটি তার মোজাতে পানি ভরে কুকুরটির মুখে দিল। ফলে সে পরিতৃপ্ত হলো। আল্লাহতায়ালা তার কাজের মূল্যায়ন করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। (বোখারি শরিফ)

অপর হাদিসে এসেছে, এক বেশ্যা মহিলা অত্যন্ত গরমকালে দেখল, একটি কুকুর পিপাসায় জিহ্বা বের করে কুয়ার পাশ দিয়ে ঘুরছে। মহিলা কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহতায়ালা তাকেও মাফ করে দিলেন। (মুসলিম শরিফ)

কোনো প্রাণীকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন হলে তার প্রতি দয়ার আচরণ অব্যাহত রাখতে হবে। হাদিসে আছে, হজরত আয়েশা (রা.) একদা একটি উটের ওপর আরোহণ করে চলছিলেন এবং থামাতে হলে খুব শক্তভাবে থামাচ্ছিলেন। নবীজি বললেন, তুমি নম্রতা অবলম্বন করো। (মুসলিম শরিফ)

দুই প্রাণীর মাঝে লড়াই লাগিয়ে সেগুলোকে কষ্ট দেওয়াও নিষেধ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই প্রাণীর মাঝে লড়াই লাগাতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযি শরিফ)।

য় মুফতি তাউহিদুল ইসলাম : মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুফতি, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাতমসজিদ, ঢাকা

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে