বড় দুই দলেই কোন্দল

  আরিফুল ইসলাম দিপু, কচুয়া (চাঁদপুর)

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব আসনের মতো কচুয়ায়ও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এ আসনে দেশের বড় দুই জোটের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মনোনায়নপ্রত্যাশী নিজ নিজ সংগঠনের তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড পর্যন্ত লবিং, তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনী প্রচারে না নামলেও একাধিক প্রার্থী যার যার অনুসারীদের নিয়ে ভেতরে ভেতরে বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন। আর বড় দুটি দলের এই কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ নামে পরিচিত কচুয়া উপজেলা। এ আসনটিতে ১২টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৭৩। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৫ ও মহিলা ১ লাখ ২৫ হাজার ১৯৮ জন।

বর্তমান এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক প্ররিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর কচুয়ায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তবে সম্প্রতি সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশা করে প্রচারে নেমেছেন। তিনি প্রচার শুরু করার পর থেকে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের কিছু নেতাকর্মী গোলাম হোসেনের দিকে ভিড়ছেন।

সপ্তাহে ২-৩ দিন ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি কচুয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও উঠান বৈঠক করে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। গোলাম হোসেনও আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশা করে কর্মিসভা, গণসংযোগ করছেন। সে কারণে আওয়ামী লীগের কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও গোলাম হোসেনকে এক করা না গেলে এ আসনটি নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক তরুণ রাজনীতিবিদ মহিবুল্লাহ মাহিও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

অপরদিকে কচুয়া উপজেলা বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত। এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন ৩৬টি মামলায় আসামি হয়ে কয়েক বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি এলাকায় জনপ্রিয় হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী এ আসন থেকে অপর দুই মনোনায়নপ্রত্যাশীর নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছেন। তারা হলেন মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোশাররফ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোশাররফ হোসেন তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন এবং নিজস্ব কর্মী-সমর্থক তৈরি করে দলীয় ঘোষিত সব কর্মকাণ্ড পালন করে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও উপজেলা বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মনে করছেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন মামলা জটিলতায় নির্বাচন করতে না পারলে এ আসনে তার সহধর্মিণী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি এখনো লক্ষ করা যায়নি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভিতরগত গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিয়ে মাঠ গোছাচ্ছে জাতীয় পার্টি। জাপার মনোনায়নপ্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এমদাদুল হক রুমন। তিনি জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সভা-সমাবেশ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জয়লাভ নিশ্চিত করতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে বড় দুই জোটে কে পাচ্ছেন দলীয় টিকিট, সে অপেক্ষায় কচুয়ার সাধারণ ভোটাররা। কারণ তারা মনে করেন, নির্বাচন কীভাবে হবে এবং কোন দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন, এর ওপরই নির্ভর করবে ফলাফল।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে