বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা চায় যুক্তরাষ্ট্র -বার্নিকাট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিক বলে বিশ^াস করি। সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সবার প্রত্যাশা। দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দল আন্তরিক হবে বলে আশা করি।
সচিবালয়ে গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হকসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বার্নিকাট। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তৈরি পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিকারক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নম্বরে। এ শিল্পের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও শ্রম অধিকারে অনেক উন্নতি হয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর অ্যাকোর্ড, অ্যালায়েন্স, তিন রাষ্ট্রদূত ও ৫ সচিবের কমিটি তৈরি পোশাকশিল্পকে নিরাপদ করতে অনেক অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ এ খাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে সফল বাণিজ্য করছে, দিন দিন এ বাণিজ্য বাড়ছে। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আছে, আগামীতে আরও বাড়বে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, নির্বাচন প্রতিহত করার নামে প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশব্যাপী মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। এটি তাদের সঠিক পথ ছিল না। এখন তারা বুঝতে পেরেছেÑ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। বিএনপি আবারও সে ভুল করবে বলে আমার মনে হয় না। দেশের সংবিধান মোতাবেক আগামী জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো দলকে বাদ দিয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই না।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে এখন তিনশর বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে। বিশে^র এক নম্বর ডেমিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে এখন শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করছেন। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ, বাংলাদেশ এখন নিজেই কারাখানা নিরাপদ রাখতে সক্ষম। নিজ ব্যবস্থাপনায় কারখানার তদারকি করবে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯৮৩.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ১৭০৩.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে