বাবাই যখন ঘাতক

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কাম্য

  অনলাইন ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০১:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে মা-বাবা শিশুদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল। অথচ তাদের কাছেও শিশু নিরাপদ থাকছে না। এবার নিজের বাবার পৈশাচিকতার শিকার হলো তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা আক্তার অথৈ। অথৈয়ের বাবা পাম্প অপারেটর কাজী গোলাম মোস্তফা চরবাড়িয়ার সাপানিয়া এলাকার রানা শরীফ নামে এক ব্যক্তির কাছে ৭ লাখ টাকায় কিছু জমি বিক্রি করেন। এ জন্য তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা অগ্রিম নেন। চুক্তি অনুযায়ী ৬ অক্টোবর তাকে দলিল করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিতে পারেননি। এদিকে অগ্রিম নেওয়া টাকাও খরচ করে ফেলেন। দলিল ও টাকা দিতে না পারার চিন্তায় একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত পরিশোধ না করার বিকল্প ফন্দি আঁটেন। নিজের মেয়েকে হত্যা করে পাওনাদার রানা শরীফকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।

তাকে ঘৃণা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এই জঘন্য হৃদয়হীন ও অমানবিক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এ কেমন পন্থা? নিষ্পাপ শিশুদের এই হত্যা প্রমাণ করে, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অবনতির পাশাপাশি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি ঘটেছে। আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকা-।

বাবা-মায়ের হাতে সন্তান হত্যার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি সন্তানের হাতে জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রাণহানিও ঘটছে। পরকীয়ায় জড়িয়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনাও কম নয়। এক ভাই খুন করছে অন্য ভাইকে। সম্পত্তি নিয়ে বড়দের শত্রুতার বলি হচ্ছে শিশুরা। তুচ্ছ ঘটনার জেরে একের পর এক ঘটছে পারিবারিক হত্যাকা-। পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধের প্রধান শিকার নারী ও শিশু। প্রতিটি ঘটনাই মামুলি বা তুচ্ছ কোনো কারণে ঘটে। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। এক কথায় দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি পরিবারের আপন মানুষটির কাছেও এখন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে মানুষ। পুরো সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। দূরত্ব বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। বাড়ছে প্রজন্মের মধ্যে ব্যবধান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতারও দায় রয়েছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, বিচারহীনতার পরিবেশ সব ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে না বা অপরাধের তুলনায় শাস্তির ঘটনা কম। এটাও তো সত্য যে, সম্প্রতি কিছু শিশুহত্যার বিচার ও কঠোর দ- হয়েছে। তার পরও থামেনি শিশুর প্রতি নৃশংসতা। আমরা মনে করি ব্যাপক ও সমন্বিত রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক উদ্যোগ শিশুর প্রতি সব রকমের সহিংসতা বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সব শিশু হত্যাকারীকে বিচারের মুখোমুখি করে তাদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে