নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি

ইঙ্গিত দিয়েছেন খালেদা ও তারেক # আসবে ভোটগ্রহণ পেছানোর দাবি

  হাসান শিপলু

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০১:৪৮ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। তফসিল ঘোষণা নিয়ে ২০ দল এবং ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষেই বিএনপির অবস্থান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম-স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও প্রায় সব সদস্য নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

দলের একটি সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুজনই গতকাল নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন নেতাদের। চূড়ান্ত মতামতের জন্য আজ-কালের মধ্যে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা আসবে শিগগির।

যদিও গতরাতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি বলেছে, একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল দিয়েছে। এতে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এর মাধ্যমে নির্বাচনে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটল।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট এবং তাদের প্রধান শরিক বিএনপি ঘোষিত তফসিল পেছানোর জন্য সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করতে চায়। আনুষ্ঠানিক সংলাপ শেষ হলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তারা এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছতে চান।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্ট মনে করছে, পুনঃতফসিল করতে পারলে তাদের কথা বলার একটি জায়গা তৈরি হবে। অন্তত ভোটের দিন পরিবর্তন করতে পারলে তাদের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করা যাবে।

বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যাব, এটা বলতে পারছি না, আবার নির্বাচনে যাব না, তা-ও বলার সময় আসেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিভিন্ন বিশ্লেষণ করছে স্থায়ী কমিটি। তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন কী করা উচিত।’

স্থায়ী কমিটির তিন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার বার্তা অনেক আগে থেকেই তৃণমূলকে দিয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে সেই ঘোষণা আসবে।

ওই নেতা বলেন, নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলবে বিএনপি। কারণ বিএনপিকে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দরকার। সেই জন্য বিএনপি চায় নির্বাচন কয়েকদিন পিছিয়ে দেওয়া হোক।

দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, অনেকেই আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে, কেউ কেউ আন্দোলন করে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। আবার কেউ কেউ আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। দলের হাইকমান্ডের প্রায় সবাই আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষেই মত দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এখন আন্দোলন করলে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে, নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে। এতে শক্তি ক্ষয় হবে। নির্বাচন করার মতো নেতা-কর্মী থাকবে না। পোলিং এজেন্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে আনতে তাদের নেতা-কর্মীরা যেন মাঠে থাকতে পারে, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মোকাবিলা করতে পারে; সে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আসল আন্দোলন তখনই হবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাদের জানিয়েছেন, গতকাল পুরনো কারাগারে অস্থায়ী আদালতে নাইকো মামলার শুনানি চলাকালে আদালতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। খালেদা জিয়া তাকে নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দুই নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি আরও আগেই নিয়েছে। এখন শুধু ঘোষণা বাকি। এক নেতা বললেন, বিএনপি এতদিনে আন্দোলন করেনি। তাহলে কি বুঝতে বাকি কিছু। এসব তো নির্বাচনে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ।
এদিকে গতকাল তারেক রহমানের সঙ্গে দলের শীর্ষ পর্যায়ের যারা বৈঠক করেছেন সবাইকে তিনি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। কৌশলগত কিছু প্রস্তুতি এবং দলের প্রার্থী তালিকা নিয়েও কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা হয়।

একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল : একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এতে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এর মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটল। গতকাল বৃহস্পতিবার চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন না ঘটিয়ে কমিশন একতরফাভাবে আবারও একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। এ তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, নিজেদের আশার পরিপন্থী কোনো নির্বাচন দেশের জনগণ গ্রহণ করবে না।’

 

 

 

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে