sara

সর্বোচ্চ ৬০ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

জামায়াত ছাড়া অন্য শরিকদের সঙ্গে খুব একটা দরকষাকষি করতে হবে না মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা

  নজরুল ইসলাম

১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০২ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ আসনে ছাড় দিতে চায় বিএনপি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য শরিকদের সঙ্গে খুব একটা দরকষাকষি করতে হবে না বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। অবশ্য ৩০০ আসনেই বিএনপি তাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে।

বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এবার ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থিতায় বেশ নাটকীয়তা থাকতে পারে। জোটের কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী ঢাকা থেকে নির্বাচন করতে পারেন। তাদের পছন্দের কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিকে নির্বাচনের মাঠে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

জানা গেছে, জোটের যেসব দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না, সরকারে গেলে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন দায়িত্বে বসানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, বিএনপির কাছে তারা ৬০ আসনে ছাড় চাইবেন। তবে কোনোভাবেই ৪৫টির কম আসনে রাজি হবে না তারা। সমঝোতা না হলে দলটি বাকি আসনগুলোতেও প্রার্থী দেবে। এ অবস্থায় ধানের শীষ না স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না জামায়াত।

আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো এ দলের নেতারা মনে করছেন, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে বিজয়ী হওয়া সহজ হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিএনপির দেওয়া আসনের মধ্যে তাদের সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। দলটির নায়েবে

আমির মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, স্বতন্ত্র না ধানের শীষ, কোন প্রতীকে নির্বাচন করব, এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেব। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের জন্য ৩৫ আসনে ছাড়সহ আরও চারটি আসন উন্মুক্ত রাখে। এ প্রসঙ্গে গোলাম পরোয়ার বলেন, এবার এর চেয়ে বেশি আসন চাইব। তবে কতটা তা এখনই বলা যাবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, আমরা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আছি। এ লক্ষ্যে বিরোধী সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সবার লক্ষ্য যেখানে সুনির্দিষ্ট, সেখানে আসন কোনো বড় সমস্যা নয়।

জানা গেছে, মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকেও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেড় ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনের তফসিল, নির্বাচনী পরিবেশসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এ আলোচনার একপর্যায়ে আসন বণ্টনের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে প্রত্যেক দলকে তাদের প্রার্থী তালিকা করতে বলা হয়েছে। সেই তালিকা ধরে আলোচনায় বসা হবে। এ আসন বণ্টন প্রশ্নে একটি কমিটিও গঠন করবে বিএনপি। জানা গেছে, আগের প্রতিটি নির্বাচনে আসন বণ্টন কমিটির শীর্ষ পদে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এবারও তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে এ জোটের শরিক দলগুলো তালিকা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে এসব তালিকা জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এর পরপরই আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে বৈঠক হবে। পাশাপাশি ২০-দলীয় জোটের সঙ্গেও আসন বণ্টন নিয়ে বসবে বিএনপি। যে যেমন তালিকাই দিক, জামায়াতকে বিএনপি ২৫টির বেশি আসন দেবে না। বিশেষ করে ২০০১ সালে যেসব আসনে জামায়াত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন, ওই সব আসনে তাদের ছাড় দেওয়া হবে। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত নেতাদের পরিবারের সদস্যরা মনোনয়ন চাইলে তাদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তা না হলে ওই সব আসনে বিএনপির যোগ্য প্রার্থী থাকলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৫ আসন দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তারা হলেন-দলটির প্রধান অলি আহমেদ, রেদোয়ান আহমেদ, আবদুল গণি, আবদুল করিম আব্বাসী, শাহাদত হোসেন সেলিম। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মুহাম্মদ ইবরাহিম, পিপলস পার্টির রীতা রহমান, মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল ছাড়াও ২০-দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের আরও কয়েক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নিবন্ধিত দলগুলোর বাইরে এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) দু-একজন নেতাকে সুযোগ হলে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ২০-দলীয় জোটের বাকি দলগুলোকে সরকারে গেলে ১৪ দলের শরিকদের মতো নিয়ম মেনে যোগ্যতা দেখে নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে ঢাকা-১০, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭ এবং কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা চলছে। ড. কামাল চাইলে আরও কয়েকজনকে গণফোরাম থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও তানিয়া রবকেও মনোনয়ন দেওয়া হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-৭ আসন দেওয়া হতে পারে। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৮ ও ৪ আসন দেওয়া হতে পারে। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন। তিনি এই আসনের সাবেক এমপি। তবে ঢাকা-৮ ও সিলেট-১ আসনে তাকে নিয়ে আলোচনা আছে। এর বাইরেও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে ড. কামাল হোসেন ১০ জনের নাম বিএনপির কাছে পাঠিয়েছেন।

জানতে চাইলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আমাদের সময়কে বলেন, ভোটারবিহীন এ সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, এটিই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে যারা যেখানে জনপ্রিয়, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। সেখানে কে কোনো দলের সেটি দেখা হবে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে