sara

রোহিঙ্গা ইস্যু

মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৪৩ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত করবে জাতিসংঘ। আর এ জন্য একটি নিরপেক্ষ মেকানিজম প্রতিষ্ঠার দ্রæত তাগিদ দিয়ে প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের তৃতীয় কমিটিতে গতকাল এ বিষয়ে ভোট হয়। প্রস্তাবটি সমর্থন করে ১৪২টি দেশ, বিরোধিতায় ছিল মাত্র ১০ দেশ। ২৬টি দেশ অবশ্য ভোটদানে বিরত থাকে। তৃতীয় কমিটির প্রস্তাবটি ৯৯টি দেশ কো-স্পন্সর করছে। গেল বছরেও এ কমিটিতে রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে চরম উদ্বেগ জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়। সেটিতেও ৯৭টি দেশ কো-স্পন্সর করেছিল।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের স্বাধীনতার পূর্বেই রাখাইন রাজ্যে মুসলিমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বসবাস করছে। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পুনর্বিবেচনা করে তাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়ার আহŸান জানিয়ে দেশটির সরকারকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর যারা অত্যাচার করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে।
বর্তমান প্রস্তাবে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের জন্য দ্রæততার সঙ্গে নিরপেক্ষ মেকানিজম প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর এতে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর যেন বেসামরিক সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা রাখাইনে সামরিক অভিযানের কারণে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এ অভিযান বন্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে আহŸান জানানো হয়। পাশাপাশি এর জন্য যারা দোষী তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্যও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবটিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফেরত যেতে পারে এবং জাতিসংঘসহ অন্য সাহায্য সংস্থাগুলো যেন সেখানে কাজ করতে পারে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ সব সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে এই প্রস্তাবে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

প্রত্যাবাসন হয়নি : বাংলাদেশকে দোষারোপ মিয়ানমারের
প্রস্তাবিত সময় অনুযায়ী তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফেরত না পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে দোষারোপ করছে মিয়ানমার। মিয়ানমার টাইমসের এক খবরে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার নেপিদোতে সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ মায়িন্থ থু বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চুক্তি মানতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাবাসন তালিকায় যাদের নাম ছিল তাদের বিষয়টি জানায়নি। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফের মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির নীতিকে সমর্থন জানিয়েছে চীন। এ সংকট নিরসনে মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা ও দেশটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের পাশে থাকারও চীন প্রতিশ্রæতি দিয়েছে।  
বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্যকার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রæপে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার বহুল আলোচিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের কেউ নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়ায় কাউকে ফেরত পাঠানো হয়নি। এর আগে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোও এ প্রত্যাবাসন তারিখকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের সবার দাবি, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য মিয়ানমার এখনো রাখাইনে অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি।
তবে পুরো বিষয়টির দায় বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তিন ধরনের রোহিঙ্গা রয়েছে। এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী আছে যারা মিয়ানমারে ফেরত না এসে তৃতীয় কোনো দেশে যেতে চায়। আরেক দল আছে যারা গত বছর ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তৃতীয় আরেকটি দল আছে যারা মিয়ানমারে স্বজনের কাছে ফেরত আসতে চায়। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরির রোহিঙ্গারা আর ফেরত আসবে না। তবে আমরা অবশ্যই স্বীকৃত শরণার্থীদেরই গ্রহণ করব। আর মিয়ানমার সরকার চুক্তি অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাবে।
তবে খোদ রাখাইন রাজ্যবিষয়ক কফি আনান পরিষদের এক সাবেক সদস্য উ আয়ে লাউয়িন বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর আগে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের কাছে প্রমাণ করতে হবে, তারা দেশে ফিরে সুরক্ষিত থাকবে। কারণ বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলোতে থাকা কোনো রোহিঙ্গাই এখন দেশে ফিরতে চায় না। রোহিঙ্গাদের দাবি অনুযায়ী, তাদের সুরক্ষা ও জীবিকা সংক্রান্ত নিশ্চয়তা যদি মিয়ানমার সরকার দেয়, তা হলেই সমস্যার সহজ সমাধান হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে আসিয়ান দেশগুলোর সম্মেলনে সু চির সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিকিয়াং রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রæতি দেন। চীনা প্রধানমন্ত্রী সু চিকে বলেন, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টা এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি যথার্থভাবে সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে চীন।
এর মধ্যেই গতকাল ইয়াঙ্গুন উপক‚লে একটি নৌকা থেকে শতাধিক রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ানমারের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, সাগরপথে এসব রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে পালাচ্ছিল। মিয়ানমারের এক অভিবাসন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে