প্রতিবন্ধী জরিপে ত্রুটি

জীবন মানোন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৫৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল ছিল বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। বাংলাদেশে এবার দিবসটির স্লোগান ছিলÑ ‘সাম্য ও অভিন্ন যাত্রায় প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন।’ বস্তুত দিবস আসে দিবস যায় কিন্তু প্রতিবন্ধীদের কাক্সিক্ষত জীবনমানের উন্নয়ন আশানুরূপ ঘটে না।

ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার সব শ্রেণির প্রতিবন্ধীকে চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে শনাক্তকরণ জরিপ করছে, যা চলবে ২০২১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ জরিপ প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ। কারণ এ জরিপ থেকে দেশে কোন শ্রেণির প্রতিবন্ধীর সংখ্যা কত, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকছে না। এর সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন জরিপসংশ্লিষ্টরাও।

দেশে বর্তমানে পুরুষ প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৯ লাখ ৮১ হাজার ৭৪১ জন এবং নারী প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে ৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী নিবন্ধিত হয়েছেন, যা জরিপের অন্য সব শ্রেণির প্রতিবন্ধীর সংখ্যা থেকে অনেক বেশি। প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কিছু পদক্ষেপ সাধুবাদ পেয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে এখনো সত্তর শতাংশ মানুষের বসবাস গ্রামাঞ্চলে। স্বভাবত বেশিরভাগ প্রতিবন্ধী গ্রামবাসী। একজন প্রতিবন্ধীকে শিক্ষার আলো পেতে গেলে আজও নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

অস্বীকার করা যাবে না, দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে তাদের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে পারলে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আরও বেগবান হবে।

আমরা মনে করি প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতার মূল্যায়নের পর পেশাগত পথনির্দেশ দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে তৃণমূল স্তরে গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোতে যুক্ত করা সময়ের দাবি। দেশের স্বার্থেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সর্বাগ্রে দরকার ঠিক পরিসংখ্যান, সর্বস্তরে পুনর্বাসন, পরিসেবা, কর্মবিনিয়োগ এবং এ ধরনের মানবিক কাজে পরিবেশ সৃষ্টি করে বেশি প্রশিক্ষক তৈরি করা। তবেই প্রতিবন্ধী দিবস সার্থক হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে