অরিত্রির আত্মহত্যা

শিক্ষকের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

  অনলাইন ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার শিক্ষকরা যদি আরেকটু মানবিক হতেন তা হলে এমন ঘটনা ঘটত না নিশ্চয়ই। অরিত্রির অপরাধ ছিল ক্লাসে নকল করা। সেজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বাবা-মাকে দেখা করতে বলে। নির্দেশ অনুযায়ী তারা দেখা করেন এবং অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমাও চান। কিন্তু তারা কোনো সুযোগ না দিয়ে মঙ্গলবার এসে টিসি নিতে বলেন।

শিক্ষকতা পেশাটিকে সমাজ মহান, আদর্শিক অথবা অনুকরণীয় এসব বর্ণনায় ভূষিত করেছে। তারা ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত চিন্তা আর জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকতা অন্য আর দশটা পেশার মতো নয়। মূলত পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ফলে এসব ঘটছে। একদিকে শিক্ষার্থী যে কোনো উপায়ে পরীক্ষায় ভালো করতে চাইছে, অন্যদিকে শিক্ষকরা গড়ে তুলছেন কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট টিউশন। শুধু তাই নয়, এক শ্রেণির শিক্ষক ও অভিভাবক জড়িত হয়ে পড়ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো হীন কাজে। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে, পরিবারগুলো সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠায় একটা মূল্যবান সনদের জন্য, ভালো মানুষ হওয়ার জন্য নয়। শিক্ষকের কাছ থেকে সে কী পেল? তাদের চিন্তাচেতনায় সমুন্নতি ঘটল কিনা, তারা উদার মানবিকতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতার শিক্ষা পেল কিনা, তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখল কিনা, এসব নিয়ে কেউ আর ভাবেন না।

শিক্ষা হবে আনন্দের মধ্য দিয়ে। এটাই শিক্ষার আধুনিক কৌশল। কিন্তু আমাদের এখানে এর উল্টো ব্যবস্থা চলছে। শিক্ষার্থীদের নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক চাপে রাখা হয়। আর এর ফলে অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। উন্নত বিশ্বে এই পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষার ফল পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে এককভাবে জানানো হয়। যাতে সে তার বন্ধুদের কাছে খারাপ ফলের জন্য হেয় বা অপমানিত না হয়। আর অরিত্রি তো শুধু নিজে নয় তার বাবা-মায়ের অপমানও দেখেছে। তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নকল করা তার অপরাধ হয়েছে। তাই বলে তার সব কটি পরীক্ষা বাতিল করে বাবা-মাকে অপমান করে স্কুল থেকে বের করার হুমকি দিতে হবে? যারা এমন নিষ্ঠুর হতে পারে তাদের কাছে শিক্ষার্থীরা কতটুকু নিরাপদ? যে শিক্ষক শিক্ষার্থীর সাইকোলজিই বোঝে না তিনি আর যা-ই হোন না কেন শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা তার নেই। শিক্ষককে অবশ্যই মানবিক হতে হবে। আমরা ভবিষ্যতে আর কোনো অরিত্রির অকালমৃত্যু দেখতে চাই না। সেজন্য অবশ্যই জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে