তবলিগ জামাতের বিভক্তি

এটি অনভিপ্রেত, দ্রুত সমাধান প্রয়োজন

  অনলাইন ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে প্রতিবছর আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের এক গৌরবময় অর্জন। এই ইজতেমা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশÑ পবিত্র হজের পরই এর স্থান। প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে আয়োজিত এ বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সারাবিশ্ব থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সমবেত হন। বাংলাদেশের সরকার, যে দল বা যে মতেরই হোক না কেন, এ আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে পুণ্য কাজে শরিক হয়। সরকারপ্রধানরাও বরাবর আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়ে এসেছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন-বাস-লঞ্চের ব্যবস্থাও করা হয়।

এমন একটি পবিত্র কাজকে ঘিরে কখন প্রতিপক্ষতা তৈরি হয়েছে, দুপক্ষের মতভেদ চরম সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছেছে তা সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেনি। গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে বিভেদ প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। তবলিগ জামাত নামে পরিচিত এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দিল্লির হজরত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভি। দিল্লিতে এর মূল কেন্দ্র। তার অনুসারীরা দেশে দেশে তবলিগের বারতা পৌঁছান আর বছরে একবার তিন দিনের জন্য বাংলাদেশে তুরাগতীরের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির জন্য সমবেত হন। তার মৃত্যুর পর পুত্র সাদ কান্ধলভি এই জামাতের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এটি বহু বছর ধরে চলে আসছে। সাম্প্রতিককালে কলেবরে বিশাল আকার ধারণ করেছে। ক্রমবর্ধমান মুসল্লির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আয়োজন সুষ্ঠু রাখার জন্য কয়েক বছর ধরেই ইজতেমা দুই দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

কিন্তু এখন ইজতেমার পরিচালকদের অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারণে এ বছরের ইজতেমা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত বছর দুপক্ষের কয়েক দফা সংঘর্ষ এবং একপক্ষের প্রাধান্যের ফলে দিল্লি থেকে ঢাকায় এসেও সাদ কান্ধলভি ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি। আর এবার ইজতেমার আগেই মাঠ দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। আমরা জানি সব ধর্মের ইতিহাসই সংঘাত ও রক্তপাতের ঘটনায় রঞ্জিত। ইসলামে আলেম-ওলেমা-পীর-মাশায়েখরা শাস্ত্রের নিজ নিজ ব্যাখ্যা অনুযায়ী পথ চলেন এবং কখনো কখনো তাদের পারস্পরিক মতভিন্নতা শিষ্য-অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতেরও সৃষ্টি করে। নিকট-অতীতে ইসলামের কট্টরপন্থি ধারার তালেবান, আইএস এবং আরও অসংখ্য দল-উপদলের সশস্ত্র যুদ্ধবিগ্রহ ও আত্মঘাতী হত্যাযজ্ঞের কথা আমরা জানি। প্রচলিত ধর্মগুলোর মধ্যে এখনো ইসলামি জঙ্গিবাদ কেবল সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বশান্তির পথে বিঘœ ঘটাচ্ছে না, মুসলিম জাতি ও দেশের ক্ষতি করেও থামছে না, তারা খোদ ইসলামের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। আমরা আশা করব তবলিগ জামাতকে ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি হয়েছে তা নিজ নিজ পক্ষের মুরব্বিরা থামাবেন এবং তা তারা করবেন অবিলম্বে। আমরা চাইব সরকারও সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত দুপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে। সর্বোত্তম সমাধান হলো উভয়পক্ষের সংযত হয়ে তবলিগ জামাতের ঐক্য বজায় রেখে ইজতেমার বিভক্তি রোধ করে শান্তিপূর্ণ পথে ফেরা। আর কোনো কোনো মৌলানার প্রস্তাব অনুযায়ী ঐক্য প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে উভয়পক্ষ নিজ নিজ পথে শান্তিপূর্ণভাবে তবলিগ ও ইজতেমার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

এই সূত্রে আমরা বলব, মানুষের ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ও কালান্তরের এই পর্বে ধর্মীয় নানা বিষয় নিয়ে গঠনমূলক ইতিবাচক মনোভাব থেকে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি জরুরি। বিভিন্ন আলেম, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকার মিলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। তাতে ধর্মচর্চাকে কেন্দ্র করে এ রকম আকস্মিক অনভিপ্রেত উত্তেজনা বা সংঘাতের সম্ভাবনা এড়ানো যাবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে