sara

কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

আ.লীগ বলছে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, আস্থা নেই বিএনপির

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:০৬ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ ভোটের জন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে যে সংস্কার করা হয়েছে এর মাধ্যমে আজকে একটি সিস্টেম দাঁড়িয়ে গেছে। যার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব কিছু করেছেন।

গতকাল বুধবার নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও নির্বাচন পর্যক্ষেকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা।

কানাডা, আইআইডি ও এনডিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভায় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন, নরওয়ে, জাপানের কূটনীতিকরা ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভা হয়। এতে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, গওহর রিজভী, দীপু মনি, বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রিয়াজ রহমান, বিকল্পধারার শমসের মবিন চৌধুরী ছিলেন। ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর শারমিন মুরশিদ, সুজনের বদিউল আলম মজুমদারসহ প্রমুখ।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবকিছু করেছেন। কিছু বিষয়ে সমস্যা আছে; তা সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সব রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূলত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার যে প্রয়োজনীয়তা সেটা আমরা বলেছি। বর্তমান যে প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের, তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হওয়া সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনে এসেছি। এখন আমরা দেখছি আমাদের জার্নি হচ্ছে দীর্ঘ। আমরা আরও নিচের দিকে যাচ্ছি। আমরা আশা করি বাকি দিনগুলোয় ইসি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ পর্যন্ত জনগণের কোনো আস্থা সৃষ্টি হয়নি। এ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে যদি বেরিয়ে আসতে চান তা হলে ইসিকে প্রমাণ করতে হবে তারা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। নইলে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, নির্বাচন কীভাবে আরও ভালো করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে বক্তব্য সেটা হলো, গত ১০ বছরে ও তার আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে ধরনের সংস্কার করা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই ছিল আওয়ামী লীগের উদ্যোগে। ওইসব সংস্কারের মাধ্যমে আজকে একটা সিস্টেম দাঁড়িয়েছে। যার মাধ্যমে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।

বৈঠকে উপস্থিত ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ বলেন, এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যেহেতু এখানে নির্বাচনের সব অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই তাদের জায়গা থেকে সমস্যাগুলো জানিয়েছেন। সরকারের যারা প্রতিনিধি ছিলেন, তারাও যথেষ্ট খোলাসাভাবে তাদের বোধগুলো পেশ করেছেন। আমরা আশা করি এ ধরনের আলোচনা সবার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করবে, টেনশন ও অস্থিরতা কমাবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে পরিবেশ সম্পর্কে তারা কী ভাবছেন প্রশ্নে শারমিন মুরশিদ বলেন, আমরা আগামী দিনের দিকে তাকাতে চাই। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর একটু সহনশীল হওয়া দরকার। ইসির নিরপেক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভূমিকাটা শক্ত করার জন্য সরকারি দল কমিশন থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচন পুরো বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের অর্জনগুলো ম্লান হতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে