sara

নির্বাচন ঘিরে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব

ক্রেতাদের আস্থা ফিরছে : বিজিএমইএ

  আব্দুল্লাহ কাফি

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:০৭ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে রপ্তানি খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদেশি ক্রেতারা নির্বাচনকালীন পণ্য না নিয়ে আগেই কার্যাদেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত গার্মেন্ট শিল্পে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকা- ও রানা প্লাজা ধসের পর ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে দেশের সব পোশাক কারখানা নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। সংস্কার আনা হয় শ্রম আইনে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে এখন নতুন করে আস্থা ফিরে আসছে বলে মনে করেন রপ্তানি খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বরে রপ্তানি খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৪২ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার। অথচ এ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১০ কোটি ৮ লাখ ডলারের। গত বছরের নভেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩০৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বরে পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এর বিপরীতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। সে হিসেবে এই পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ শতাংশ। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

জানা গেছে, তৈরি পোশাকের ওভেন, নিট ও হোমটেক্সটাইল সব খাতেই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ওভেন খাতে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ ও নিটওয়্যার খাতে ১৭ শতাংশ রপ্তানি আয় বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর নানা উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কারখানাগুলোর সংস্কার হয়েছে। এখন অনেক কারখানা গ্রিন কারখানায় রূপান্তর হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল, চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। এর ফলে কোনো কন্টেইনার জ্যামে পড়ে না। ক্রেতাদের চাহিদা মতো সময়ে আমরা পণ্য পাঠাতে সক্ষম হচ্ছি। এ কারণে ক্রেতারা কার্যাদেশ বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত কয়েক মাস আগে থেকেই রপ্তানি বাড়ছে, এর কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন সামনে রেখে ক্রেতারা আগে থেকেই তাদের পণ্য তৈরি করে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে নতুন ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের বেতন বেড়ে যাবে। তাই পুরনো বেতনেই দ্রুত কাজ শেষ করতে চাচ্ছেন তারা।

এদিকে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান খাতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, কৃষি পণ্য, উৎপাদনমুখী নিত্যপণ্য, প্লাস্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, রাসায়নিক পণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানিতে আয় বেড়েছে। তবে বেশকিছু খাত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা দূরে থাক, আগের বছরের সমানও আয় করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, সিমেন্ট, লবণ, পাথর, রবার, পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, বিল্ডিং মেশিনারিজ পণ্য, কাচ ও কাচজাত পণ্য।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে