খেলাপি ঋণ বেড়েছে

আরও তৎপর হওয়া দরকার

  অনলাইন ডেস্ক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো নানাবিধ পদক্ষেপের কথা বললেও কার্যত কমছে না খেলাপি ঋণ। চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। গত জুনে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত মাসে প্রভাব খাটিয়ে ছাড় গ্রহণের রেকর্ড করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। কতজন গ্রাহক কী পরিমাণ খেলাপি ঋণ নবায়ন করে নিয়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা যায়নি।

১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অন্তত সাত দিন আগে নির্ধারিত অঙ্ক পরিশোধ করে ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেটি সংশোধন করে ঋণখেলাপিদের কিছুটা ছাড় দিয়েছে। প্রার্থীর ব্যক্তিগত ঋণ ও বিলের ক্ষেত্রে সাত দিনের সময়সীমা ঠিক রাখলেও প্রতিষ্ঠানের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। আইনগত এই ছাড় সত্ত্বেও খেলাপি ঋণগ্রহীতারা ঋণের অর্থ কিছুমাত্র পরিশোধ না করে ঋণ আদালতে মামলা ঠুকে নির্বাচনে অংশ নেন।

মূলত এই হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা পুনঃতফসিলের নামে বর্তমানে খেলাপি ঋণের এক-দশমাংশ জমা দিলেও নির্বাচনের পরই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যে তারা ব্যাংকগুলো থেকে আরও অনেক বেশি ঋণ হাতিয়ে নেবেন, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। অথচ সব দলই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণে এই ঋণখেলাপি সংস্কৃতি কিছুতেই বদলানো যাচ্ছে না। ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা ব্যাংকগুলোর মালিকানার অংশীদার হয়েছে এবং বারবার আইন সংশোধন করে পরিচালকদের জন্য নানা সুবিধা আদায় করছে। এদের সঙ্গে একশ্রেণির ব্যবসায়ী যুক্ত হয়ে ব্যাংকগুলোতে বেপরোয়া লুণ্ঠন চালাচ্ছে। সাধারণত নির্বাচনের প্রাক্কালে হলফনামা ঠিক রাখার জন্য মনোনয়ন প্রার্থীরা খেলাপি ঋণ পরিশোধ করত। তাতে প্রতিবারই নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় ভালোই হতো। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এর অর্থ হলো ব্যাংক লুটেরারা আগের তুলনায় আরও বেপরোয়া। আমরা মনে করি সরকার, দুদক ও নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে আরও তৎপর হওয়া দরকার।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে