sara

উচ্চ আদালতের আদেশ

পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও যাচাই হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল হলে তাকে ইসিতে আপিল করারও সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ ছাড়া সিটিসেল কোম্পানির বকেয়া বিলের জন্য এম মোর্শেদ খানকে দায়ী করা যাবে না উল্লেখ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রয়েছে। হাইকোর্ট ঢাকা-১৬, কিশোরগঞ্জ-১ ও ২ আসনের তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল হাজারীর করা আবেদন আদালত কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। পাশাপাশি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদেশে ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল লতিফ জনিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের উভয় বিভাগের পৃথক বেঞ্চ থেকে এসব আদেশ আসে।
 মির্জা আব্বাস : গত মঙ্গলবার ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বাছাই সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে রুল জারি করেন আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আপিল বিভাগে আপিল করেন। ওই আপিলের শুনানিতে আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ। এ ছাড়া যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তাকে ইসিতে আপিল করারও সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিলের দায় মোর্শেদ খানের নয় : নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সিটিসেলের কাছে কিছু বকেয়া বিলের জন্য এর মালিক এম মোর্শেদ খানকে দায়ী করে চিঠি দেয়। কিন্তু ওই বিলের দায় প্রতিষ্ঠানের, ব্যক্তিগতভাবে মোর্শেদ খানের দায় নেই উল্লেখসহ ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। গত ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই রিটের শুনানি নিয়ে সিটিসেলের সেই বিলের জন্য মোর্শেদ খানকে দায়ী করা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নেসকোর ওই বিল স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া বিলের জন্য মোর্শেদ খানকে ব্যক্তিগতভাবে যেন দায়ী না করা হয় সেই পর্যবেক্ষণও দেন আদালত। এরই মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সরকার ও নেসকো আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। এ আবেদন বিচারাধীন অবস্থায় সিটিসেলের কাছে নেসকোর ওই বকেয়া বিলের কারণে মোর্শেদ খানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ সরকার ও নেসকোর ওই আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দিয়েছেন।
মোর্শেদ খানের আইনজীবীরা জানান, আপিল বিভাগের আদেশের ফলে সিটিসেলের কাছে নেসকোর পাওনা বিলের জন্য মোর্শেদ খানকে দায়ী করা যাবে না বলে হাইকোর্টের আদেশটিই মূলত বহাল রয়েছে। তাই তার মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা এসেছে। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে মোর্শেদ খানের আপিল বিচারাধীন রয়েছে। শনিবার ইসিতে আপিলের শুনানিকালে আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার নির্দেশ : কিশোরগঞ্জ-১ ও ২ আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম ডি আজহারুল ইসলাম ও  এম শফিউর রহমান খান বাচ্চুর মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে তা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ঢাকা-১৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদাকাত খান ফাক্কুর মনোনয়নপত্রও জমা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। পৃথক পৃথক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিকে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ফেনী-১ আসনে জয়নাল হাজারীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদন আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম জানান, জয়নাল হাজারীর আবেদনে তিনটি ত্রুটি পাওয়া গেছে। তিনি বিকাল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হননি, জামানতের টাকার রশিদ দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ছিল না। এসব কারণে আদালত রিট আবেদনটি খারিজ না করে আউট অব লিস্ট করেছেন।
আটকে গেলেন আবদুল লতিফ জনি : ফেনী-৩ আসনের বিএনপি সমর্থক প্রার্থী আবদুল লতিফ জনির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না। সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা ঋণখেলাপির অভিযোগ আনে এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় জনি ঋণখেলাপি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত ১৯ নভেম্বর রিট করেন। এর পরও রিটার্নিং কর্মকর্তা ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন জানায়। পরে গতকাল চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এতে করে ঋণখেলাপির কারণে জনির নির্বাচনে নেওয়ার সুযোগ আটকে যাবে বলে জানান আইনজীবীরা।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে