sara

পাগলামির ছলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করছেন কাজল ৩ দিনের রিমান্ড

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বাংলামোটরে ৬ ঘণ্টার নাটকীয়তার পর উদ্ধার শিশু নূর সাফায়েতের মরদেহের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত হয়েছে। আর পুরো রাত থানা হেফাজতে পাগলামি করেছেন শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা নুরুজ্জামান কাজল। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমানচন্দ্র ম-ল তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তা কার্যকরেরও আদেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চম্পক চক্রবর্তী আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামির পক্ষে তা বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট এমএ সাত্তার। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, ‘ঘটনার দিন আসামির সন্তান মারা যাওয়ায় মানসিকভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তা ছাড়া আসামির সঙ্গে বাড়ি লিখে নেওয়া নিয়ে স্ত্রী ও ভাইবোনের মধ্যে কিছু পারিবারিক ঝামেলাও
 চলছিল। সবকিছু মিলিয়ে আসামি অসুস্থ।’ তার চিকিৎসা করানোর পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিচারের কথা বলেন এ আইনজীবী।
এদিকে রিমান্ড শুনানির আগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি কাজল দাবি করেন, ‘চার দিন ধরে আমার বাচ্চার জ্বর ছিল। ঘুমের মধ্যেই সে মারা যায়।’ যদিও গত বুধবার সকালে বাসার পাশে মসজিদের খাদেমকে গিয়ে কাজল বলছিলেন, ‘আমার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা মাইকে ঘোষণা করেন।’ আবার আটকের পরও তিনি পুলিশকে বলেন, ‘বাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নূর সাফায়েত মারা গেছে। তাকে হত্যা করা হয়নি।’
রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার একটি বাসায় গত বুধবার সকালে শিশু সাফায়েতের লাশ নিয়ে বাবা ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে আছেনÑ এমন সংবাদ পেয়ে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু মাদকাসক্ত কাজল কাউকে বাসায় ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। সন্তানের লাশ টেবিলের ওপর রেখে এবং জীবিত আরেক সন্তানকে বুকে নিয়ে রামদা কাঁধে বসে ছিলেন তিনি। অবশেষে ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় জীবিত সন্তানটিকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে বাবা কাজলকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ওই ঘটনায় কাজলের স্ত্রী মালিহা আক্তার হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘সাফায়েতের কপালে একটি ছোট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাতে কোনো রক্তক্ষরণ হয়নি। তার মস্তিষ্ক ও লিভারও কিছুটা ফোলা অবস্থায় রয়েছে। এ জন্য তার ভিসেরা পরীক্ষায় মস্তিষ্ক, লিভার (যকৃৎ), রক্ত ও ফুসফুসের অংশ মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির শরীরে কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের আলামত নেই। তার কপালে যে আঘাতটি রয়েছে তা পড়ে গিয়েও হতে পারে। সেই আঘাত তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট দায়ী নয়। ভিসেরা পরীক্ষার পরই বলা যাবে শিশুটির আসল মৃত্যুর কারণ।’
পুলিশ জানায়, ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাজল একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। কখনো তিনি বলছেন, তার শ্বশুর কামরাঙ্গীর চর থেকে এসে সাফায়েতকে হত্যা করেছেন। আবার কখনো বলছেন, বৈদ্যুতিক শক খেয়ে মারা গেছে। কিসের শক খেয়ে মারা গেছে?Ñ এ প্রশ্ন করলে পুলিশকে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন কাজলÑ ‘আপনারা বাসায় গিয়ে দেখেন কিসে শক খেয়ে মারা গেছে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরো রাতে থানা হেফাজতে কাজল পাগলামি করেছেন। তিনি মূলত একজন ইয়াবাসেবী। এ কারণে তিনি অনেকটাই বিকারগ্রস্ত। যে কারণে তিনি স্ত্রীকেও প্রায়ই নির্দয়ভাবে পেটাতেন। এতে স্ত্রী নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান।’
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সরদার মারুফ হোসেন বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ। চার বছরের বড় ছেলেকে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে