sara

ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের পরিবর্তে ইসির আওতাভুক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে গতকাল সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দাখিল করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহমান এ রিট করেন।
রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব বলেন, রবিবার আবেদনটি শুনানির দিন ধার্যের জন্য মেনশন স্লিপ জমা দেব। সোমবার শুনানি হতে পারে।
রিটের অনুলিপিতে যুক্তি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছেÑ জেলা প্রশাসকেরা নির্বাচন পরিচালনাকারী হতে পারেন না। এতে সাংবিধানিক বাধা রয়েছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’ আর ডেপুটি কমিশনারগণ প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী বিভাগে
 কর্মরত আছেন। ফলে তারা নিজেরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালক হতে পারবেন না। তারা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারেন।
দরখাস্তে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ডিসিদের দায়িত্ব পালনের কারণে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ৪ দফার ব্যত্যয় ঘটবে। কারণ এতে বলা আছেÑ ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।’ কিন্তু বাস্তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করেন।
রিট আবেদনকারী আব্দুর রহমান জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে আমরা রিট দরখাস্ত দাখিল করেছি। আগামী রবিবার এর ওপর শুনানি হতে পারে। আমরা নির্বাচন বন্ধ বা স্থগিতের জন্য কোনো প্রতিকার দাবি করিনি। আমরা বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের পরিবর্তে ইসির আওতাভুক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিস্থাপনের কথা বলেছি। কারণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন লোকবল দরকার।
রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা আছেÑ রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ নির্বাচন পরিচালনা করবেন। কিন্তু ডিসিদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা সংবিধান সমর্থন করে না।
মার্কিন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা এনডিআই সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন পরিচালনায় যথাসম্ভব কম সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগে সুপারিশ করেছিল। এর আগে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোয় ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারাই নির্বাচন পরিচালনা করেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে