sara

পারিবারিক সহিংসতা নারীদের ক্ষমতায়নে বাধা

সেমিনারে বক্তারা

  বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:১৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

পারিবারিক সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে না। গণমাধ্যমে বাইরের সহিংসতাগুলোকে যেভাবে তুলে ধরা হয়, ঘরের ভেতরের সহিংসতার ঘটনাগুলোকে সেভাবে তুলে ধরা হয় না। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত নারীর প্রতি সহিংসতা ও প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন
আলোচকরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর প্রতি সহিংসতা কোন পর্যায়ে আছে,
সেটি বোঝা ও তার সমাধান খুঁজতে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ)  যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ওপর দৃষ্টিপাত : প্রবণতা এবং সমাধান’ নামক গবেষণা করে। গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরে গবেষক আহমেদ ইব্রাহিম বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বেসলাইন জরিপ ২০১৫-এর তথ্য এবং দেশের ২০ জেলায় সহিংসতার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার সবচেয়ে ব্যাপক রূপ হচ্ছে পারিবারিক সহিংসতা। প্রতি ৩ জনে একজন, অর্থাৎ ৬৬ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার। নিজ সঙ্গী দ্বারা সহিংসতার শিকার হওয়ার হার উচ্চ হওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ নারী (৭২ দশমিক ৭ শতাংশ) তাদের অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলেন না। মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ নারী স্থানীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন এবং মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ নারী পুলিশের সাহায্য চান। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নিজেদের পক্ষে বিচার পায়, বাকি ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশের অভিযোগ আদালতে শুনানির পর্যায়ে যায় না বা গেলেও বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে আদালতে মামলা খারিজ করা বা অপরাধীকে খালাস দেওয়ার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ।
‘নগরাঞ্চলে সহিংসতা : ভালো কি মন্দ?’ নামক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়, যার সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৯। ঢাকায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৭৬টি। কিন্তু অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনার কথা বলা হয় না।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, সহিংসতা আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একটি অস্তিত্বের যুদ্ধ।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে আরবান রেজিলিয়েন্স বিষয়ক প্রবন্ধে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিভাগের ব্যবস্থাপক এএম নাসির উদ্দিন বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়নের অভাব সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। অপরদিকে শহরের অবকাঠামোগত পরিকল্পনায় নেই নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি। আইনি কাঠামোয় নেই হয়রানির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা। শহরাঞ্চলে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিতে প্রয়োজন গণসেবার সহজলভ্যতা ও অভিগম্যতা।
আলোচনায় অনেকের মধ্যে আরও অংশ নেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও সাংগাতের প্রতিনিধি ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন এবং কালারস এফএমের প্রধান (অপারেশন) তাসনুভা আহমেদ।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে