অর্থপাচার মামলায় দুই ব্যাংককর্তার জামিন বহাল জামিনে সতর্ক হতে হবে : হাইকোর্ট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থপাচারের মামলায় এবি ব্যাংকের ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে বিশেষ আইনের মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, বিশেষ আইনে দায়েরকৃত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিকে জামিন দিতে পারেন। তবে অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে
 আসামির জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মামলার এজাহার, বাদী-বিবাদী পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও সঠিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে। কারণ এ ধরনের মামলার সঙ্গে অর্থপাচারের মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকে। এ ক্ষেত্রে মামলার গুণাগুণ দেখে অত্যন্ত সতর্কভাবে জামিন দিতে হবে।
দুই কর্মকর্তার জামিন বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের তিন বিচারপতির একটি বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় দেন। বেঞ্চের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, বিশেষ আইনের মামলায় বিচারপূর্ব এবং বিচারপরবর্তী অবস্থায় আসামিরা কোন আদালতে জামিন চাইবে, সে বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিত। এটা থাকলে আসামির জামিন চাওয়া ও মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হবে না। এ জন্য আপনাদের উচিত বিশেষ আইন প্রণয়নকালে আদালতের এই মনোভাব সরকারকে অবহিত করা।
এদিকে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল রুল যথাযথ ঘোষণা করে ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি, অর্থপাচার আইন ও ক্রিমিন্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট ল’ অ্যাক্ট একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে এটা পরিষ্কার যে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ওই জামিন দিয়েছেন। আশরাফুল কামাল বলেন, দুর্নীতি অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে আজ কুরে কুরে খাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ সোচ্চার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্বভৌম সংসদও বেশকিছু আইন প্রণয়ন করেছে। তাই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি আদালতকেও সতর্ক থাকতে হবে। এই সতর্কবার্তা দিতে হবে যে, সবাই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এবং সবাই মিলে দুর্নীতিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। পরে ওয়াহিদুল হকের আইনজীবী মোহাম্মদ আরসাদুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন বহাল রেখেছেন। অর্থাৎ তারা জামিনেই থাকবেন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ আটজনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় মুদ্রাপাচার আইনে এ মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে মৎস্য ভবন এলাকা থেকে ওয়াহিদুল হক, আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের দুই ঘণ্টার মধ্যে ওই দিনই দুজনকে জামিন দিয়ে একজনকে রিমান্ডে পাঠান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। অর্থপাচার আইনে বিশেষ জজ আদালতকে এ ধরনের মামলার আসামিকে জামিনের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ওই জামিন নিয়ে দুদকের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন। পরে হাইকোর্ট জামিন বাতিল প্রশ্নে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে