৩৪ হাজার চোখ দেখবে ভোট

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ

  আরিফুজ্জামান মামুন

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার আজ সকালে শেষ হয়েছে। এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। বিগত সময়ের মতো এবারের নির্বাচনও গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রগুলো। এসব দেশের ঢাকার দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ভোটের মাঠে যাবেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। দেশি পর্যবেক্ষকরাও প্রস্তুত নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য। তবে এবার দেশি পর্যবেক্ষক কমেছে কয়েকগুণ। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার দেশি ও ২০০-এর মতো বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন নিয়ে তাদের আশাবাদ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব পক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান হয়।

এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’ (অ্যানফ্রেল)-এর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) মাধ্যমে অ্যানফ্রেলকে অর্থায়ন করে থাকে। এবারের নির্বাচনে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল।

তবে যথাসময়ে ভিসা না দেওয়ায় সংস্থাটি বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিল করেছে। এতে হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনী প্রচারে সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে য্ক্তুরাজ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশের ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কানাডা। ভোটের দুদিন আগে গতকাল সিলেট গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক। এ ছাড়া দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে দেখা করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নথি থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের নির্বাচনে ২ লাখ ১৮ হাজার দেশি এবং ২২৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন এবং বিদেশি ৫৯৩ জন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮ হাজার ৮৭৪ জন। বিদেশিদের মধ্যে ছিলেন ফেমবোসার চারজন।

এবার সব মিলিয়ে দেশের ৮১টি প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯২০ জন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ২৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন করলেও এখন পর্যন্ত এনজিও ব্যুরোর অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে। এ সংখ্যা ২০০১ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১২ ভাগের এক ভাগ এবং ২০০৮ সালের তুলনায় ৯ ভাগের এক ভাগেরও কম।

২৮ সংগঠনের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) সূত্র জানায়, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি অনুদান পেয়ে থাকে, তাদের টাকা ছাড়ের জন্য এনজিও ব্যুরো থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। এনজিও ব্যুরোর অনাপত্তিপত্রের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হয়। ইডব্লিউজির প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা পেয়ে থাকে এশিয়া ফাউন্ডেশন, ইউকেএইড ও ইউএসএইড থেকে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮টি সংগঠন বা রাষ্ট্রের ১৭৬ জন পর্যবেক্ষকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। মিশনগুলোর পক্ষ থেকে ভোটের মাঠে যাওয়া কূটনীতিকদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। সূত্রমতে, ঢাকাস্থ বিভিন্ন মিশন থেকে কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা ভোটের দিনে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা এ নিয়ে দফায় দফায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। গত রবি ও সোমবার নিজেদের মধ্যে অন্তত ৩টি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পশ্চিমা কূটনীতিকরা।

সূত্রমতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, উপ-রাষ্ট্রদূত জুয়েল রিফম্যান, পলিটিক্যাল কাউন্সেলর বিল মুয়েলারসহ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং মার্কিন দাতব্য সংস্থা ইউএসএআইডির অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা মাঠ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনজোল্জ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিঙ্কও কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যেসব দেশ তাদের পর্যবেক্ষক নিশ্চিত করেছে সেগুলো হলো-ফ্রান্স দূতাবাসের ৪ জন, জাপানের ৯, স্পেনের ১, ডেনমার্কের ৩, নরওয়ের ২, সুইজারল্যান্ডের ৬, মার্কিন দূতাবাসের ৬৫, জার্মানির ৮, নেদারল্যান্ডসের ৪, কানাডার ৭, যুক্তরাজ্যের ১৮, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ২৪, ডিকেআই নেপালের ৩, ইইউর ২, আইআরআইয়ের ৪, এশিয়া ফাউন্ডেশনের ৭ ও সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের ৯ জন।

তবে ভোটের আগে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন ৩-৪ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠাবে বলে নিশ্চিত করেছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে