পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিন

  অনলাইন ডেস্ক

০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪২ | প্রিন্ট সংস্করণ

টানা তৃতীয় দিনের মতো গত মঙ্গলবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। মূলত সরকার ঘোষিত কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত রবিবার থেকে বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে রবিবার পাঁচ ঘণ্টা বিমানবন্দর থেকে উত্তরা আজমপুর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

গত ২৫ নভেম্বর পোশাক খাতের নতুন মজুরি কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর নতুন কাঠামোর মজুরি জানুয়ারিতে পেতে শুরু করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরিপ্রাপ্তির পর থেকে পোশাক খাতে দানা বাঁধছে শ্রম অসন্তোষ। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ৮ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা। বাড়িভাড়া ২০৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৬৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা ধরে সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয়। চলতি বাজারদরের সঙ্গে এ মজুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে শ্রমিক সংগঠনগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে। ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আইএলও কনভেনশন অনুসারে বর্তমান বাজারদর, মুদ্রাস্ফীতি, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং শ্রমিকের জীবনমান বিবেচনায় এর চেয়ে কম মজুরি গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে মালিকপক্ষের দাবি, মজুরি কাঠামোতে ভারসাম্য রাখতে হবে। অন্যথায় বেতন বাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে তো বড় ক্ষতি হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না শিল্প বিকাশের শুরু থেকেই শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বিকাশমান শিল্পকে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে দিতে হবে। কর্মপরিবেশ উন্নয়নে তৈরি পোশাক শিল্পকে এমনিতেই নানা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ এবং মালিকদের বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এখন নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। এটি কাম্য নয়। এমনিতেই অবকাঠামোগত ও গ্যাস বিদ্যুৎ প্রভৃতি সমস্যায় পোশাক রপ্তানি ক্রমে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। তার সঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষ যুক্ত হলে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে। আমরা চাই, মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বসে নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হবে সরকার এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে