উপবৃত্তি যখন অনুপ্রেরণা

  সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ কোনো ব্যয় নয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষা অর্জন করে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে, দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করবে নির্মোহভাবে; তাই শিক্ষা খাতের বরাদ্দ কোনো ব্যয় নয়, বরং এটা হলো উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ।

সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সামিটের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ১৯৯২ সালের ১ জুলাই থেকে সরকার ‘শিক্ষার জন্য খাদ্য’ কর্মসূচি চালু করে। পরবর্তী সময়ে এর ব্যাপ্তি প্রসারিত হয় ও পাশাপাশি ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়। এই উপবৃত্তির লক্ষ্য ছিল বিদ্যালয় গমনোপযোগী শিশুর ভর্তির হার বৃদ্ধিকরণ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধিকরণ, ঝরে পড়ার প্রবণতা রোধকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সর্বোপরি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন। উপর্যুক্ত প্যারামিটার অর্জিত হওয়ায় এবং এই প্রকল্পের সাফল্য বিবেচনা করে ২০০২ সালে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু করা হয় এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত তা চলতে থাকে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর উপবৃত্তি কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা হয় এবং সুবিধাভোগীর হার ৪০ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, যার ফলে বর্তমানে সারাদেশে ৬৬,৬৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৩০ লাখ সুবিধাভোগী ছাত্রছাত্রী প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে উপবৃত্তির সুবিধা ভোগ করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে উপবৃত্তি কার্যক্রমকেও ডিজিটালাইজ করা হয়েছে, যাতে করে মায়েরা নির্বিঘেœ ও অতি সহজেই উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে পারেন। শিক্ষকদেরও আর ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। বর্তমানে শিওর ক্যাশের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সারাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখ উপবৃত্তি সুবিধাভোগী মায়ের মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অনলাইনভিত্তিক টাকা ট্রান্সফারের উদাহরণ।

উপবৃত্তি প্রদানের কারণে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার প্রায় শতভাগে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির হার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যালয় থেকে ছাত্রছাত্রীর ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে এবং সর্বোপরি নারীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা প্রদান করে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার কারণে নারীরা সহজেই এই টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারছেন, যা কিনা আমাদের জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। শিওর ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারাদেশে ৬৬ হাজার ৬৭৪টি বিদ্যালয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৩ জনকে প্রায় ১ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এবং পাশাপাশি নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলায় ৭৮৪টি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তর বা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩১ জনকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা সুবিধাভোগীদের মায়ের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদানের কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের ল্যাপটপের মাধ্যমে নিজেরাই অনলাইনে চাহিদা প্রদান করতে পারছেন। এতে করে উপবৃত্তিবিষয়ক কার্যক্রমে শিক্ষকদের অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে না। শিক্ষকরা শ্রেণি কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারছেন। অপরদিকে সুবিধাভোগী অভিভাবকদের এতদিন দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে এসে টাকা সংগ্রহ করতে হতো। এ পদ্ধতি চালু হওয়ার কারণে তারা নিজেরাই বাড়ির পাশে শিওর ক্যাশের এজেন্টের মাধ্যমে সুবিধামতো সময়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। অন্যদিকে শিওর ক্যাশের এই অ্যাকাউন্টটিকে বিভিন্ন পেমেন্টের কার্যক্রমে ব্যবহার করতে পারছেন। মোট কথা এভাবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে।

সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন : জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নরসিংদী

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে