শেখ হাসিনার নেতৃত্ব

প্রশংসনীয় ভূমিকা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

  অনলাইন ডেস্ক

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। দলীয় বিচারে সরকারের পরিবর্তন না হলেও মন্ত্রীদের বিচারে এটিকে সত্যিই একটি নতুন সরকার বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বাকি ৪৬ জনের মধ্যে ৩১ জনই নতুন মুখ। এই নতুন ব্যক্তিদের দিকে দেশের মানুষ যেমন নতুন আশায় তাকিয়ে আছে, তেমনি তারাও প্রথম থেকেই কথায় ও আচরণে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রিসভা যখন একই গন্তব্যে সাভার স্মৃতিসৌধে গেছে, তখন তারা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন মিনিবাস ব্যবহার করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও তার প্রজ্ঞার পরিচয় দিলেন যখন নতুনদের উদ্দেশে প্রথম ভাষণে তিনি স্মরণ করিয়ে বললেন, দেশের আজকের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে পুরনোদের অর্থাৎ আগের মন্ত্রিসভার সদস্যদের দক্ষতার গুণে। তাদের অবদানের প্রতি স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দেশ পরিচালনায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেছেন। তার এ উপলব্ধিজাত বক্তব্য দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা ও প্রবীণদের প্রতি নতুনদের শ্রদ্ধাশীল থাকার পথ দেখাবে। বস্তুতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণাবলি কেবল দেশে নয়, বিদেশেও প্রশংসিত হচ্ছে। নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে তার নেতৃত্বের মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়ে চলেছে। সবাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স নীতিও প্রশংসিত হয়েছে। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে একই নীতিতে পরিচালিত অভিযানের দিকেও আশাবাদ নিয়ে লক্ষ রাখছেন সবাই।

আমরা লক্ষ করছি, ভারত ও চীনের মতো দুই বিবদমান বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতা দিয়ে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। এ দুটি দেশই আমাদের উন্নয়ন ও বাণিজ্যের বড় অংশীদার। এশিয়ার এ দুই শক্তিধর দেশের পরস্পরের দ্বন্দ্বে শ্রীলংকা, নেপাল বা মালদ্বীপের মতো দেশ ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারায় সম্প্রতি যথেষ্ট ভুগেছে। এদিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত ঈর্ষণীয়ভাবেই সফল। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নানা ইস্যুতে দ্বিমত থাকলেও বাংলাদেশের সম্পর্ক কার্যকর ও ফলপ্রসূ রয়েছে। এখন পর্যন্ত অর্থনীতির ধারা ও উন্নয়নের গতি সঠিক পথেই রয়েছে। আশা করা যায়, শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে এই ধারা অব্যাহত থাকবে ও জোরদার হবে।

ঘরের মধ্যেও শেখ হাসিনা ক্রমেই তার বিরুদ্ধ শক্তিকে অকার্যকর করে ফেলেছেন। নিছক বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার কাল ও অভ্যাসের অবসান ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় মূলনীতি রক্ষা এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারকেও দুর্বল করা সম্ভব হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, ক্রমেই এককভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ক্ষমতার মধ্যমণি এই নেত্রী কীভাবে নিজ দল ও দেশে গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠানের বিকাশ নিশ্চিত করবেন। এটিই আগামী দিনে তার নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে