বন্যপ্রাণী পাচার

প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

  অনলাইন ডেস্ক

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীব্যাপী বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচারের কথা শোনা যায়। মূলত বন্যপ্রাণী পাচারের বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই চোরাচালানবাণিজ্যের ফলে বহু দেশেই বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও এর ব্যতিক্রম নয়। পাচার রোধ করতে না পারায় অনেক প্রাণীর অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে। এসব প্রাণী যেমন সরাসরি পাচার হচ্ছে, তেমনি কখনো হত্যা করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও চামড়া পাচার করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী ব্যবসার ওপর নজরদারির আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাফিক’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৫০০ কোটি টাকার বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ পাচার হয়, যা ২০১০ সালে ছিল ৩০০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বন্যপ্রাণী পাচারের রুট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে বিদেশ থেকে বন্যপ্রাণী আকাশপথে এসে সড়কপথে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া চলে যায়। আমরা মনে করি, পাচার রোধে অবিলম্বে এ দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসা যেতে পারে। সব দেশ মিলে যদি বন্যপ্রাণী পাচারের রুটগুলোর ওপর কড়া নজরদারি করা হয়, তা হলে পাচার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে আমাদের বিশ্বাস। তাই সরকারের অবশ্যই এ কাজে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের বন্যপ্রাণী এবং অপরাধ দমন ইউনিটকে আরও শক্তিশালী ও চৌকস করে গড়ে তুলতে হবে। প্রায়ই সংবাদপত্রে শাহজালাল বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী আটকের খবর পাওয়া যায়। আমরা বলতে চাই, শুধু পাচার হতে যাওয়া বন্যপ্রাণী আটকালেই বন্যপ্রাণী পাচার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এসব ঘটনার গভীরতর তদন্তও জরুরি। এ কাজের হোতাদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বন বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কারণ বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে