খেলাপি ঋণে নাজেহাল

প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ ৬ ব্যাংক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মে ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ মে ২০১৭, ০০:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত পরিমাণের অর্থ সংরক্ষণের (প্রভিশন) আবশ্যকতা রয়েছে ব্যাংকিং ব্যবস্থায়। প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক মুনাফাও নিতে পারে না। চলতি বছরের মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় খাতের ৩ ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের ৩ ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৯৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। কয়েকটি ব্যাংকের প্রভিশন উদ্বৃত্ত থাকায় ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৫ হাজার ২৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিংয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় খাতের রূপালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১ হাজার ৪৯৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ২৪১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে রূপালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ১ হাজার ২৫৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই প্রান্তিকে বেসিক ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। তথ্যে দেখা যায়, মার্চ শেষে বেসিক ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৪ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত তিন মাসে বেসিক ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি কমেছে ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মার্চ প্রান্তিকে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৩২৭ কোটি টাকা বেড়ে ২ হাজার ১০৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা দাঁড়ায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ২৮৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল, তা আবার খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের ঋণ নিয়ে উধাও হয়ে যায়। তারা অনেকটা স্বভাবজাত খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। ব্যাংকগুলোও তাদের ঝুঁকির বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি। যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি, তাদের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর যা ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোকে শ্রেণিকৃত ঋণ ও অন্যান্য সাধারণ ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্টহারে অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংক ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে অর্থ সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৪১ হাজার ৯২০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ সময়ে ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করে ৩৬ হাজার ৬৮৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসাবে মার্চ প্রান্তিক শেষে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। তিন মাস আগে এই ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, ডাউটফুল বা সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা খারাপ ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে