চট্টগ্রামে প্রতি ৭ দিনে ৩ নারী ধর্ষণের শিকার হন

  মীর রাতুল হাসান, চট্টগ্রাম

২০ মে ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ মে ২০১৭, ০০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে প্রতি ৭ দিনে গড়ে তিনজন নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই বয়স ১৮ বছরের কম। কয়েক বছরে ধর্ষণের শিকার হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসা নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়।

চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১০ বছর আগে ২০০৬ সালে ধর্ষণের শিকার হয়ে চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন ১৫ জন নারী। কিন্তু গতবছর ধর্ষণের শিকার হয়ে ১৫৪ জন নারী চমেক হাসপাতালে এসেছেন। অর্থাৎ গত ১০ বছরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে দশগুণ।

ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০০৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়ে চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন ৪৪ জন নারী। ২০০৮ সালে আসেন ৫৪ জন। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ১০১৫ সালে যথাক্রমে ৭৩, ১০৫, ১১২, ১০৭, ১০৩, ১২৮, ১১৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে মোট ৪৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে আসা অধিকাংশ নারীর বয়সই ১৮ বছরের কম। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর বেশিরভাগ সময় ধর্ষণের শিকার ওই নারীর সাথে ধর্ষকের বিয়ে দিয়ে অথবা ভুক্তভোগীর পরিবারকে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলা হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে পড়েও অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। তারপরও ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে আসা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। দোষীদের উপযুক্ত বিচার হচ্ছে না বলেই এ ঘটনা বারবার ঘটছে। এ প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই ধর্ষণের মতো ঘটনা বারবার ঘটছে। ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, প্রতিটি সন্তানের ওপরই সবসময় বাবা-মায়ের নজরদারি থাকা প্রয়োজন। সন্তানরা কী করছে, কাদের সাথে চলাফেরা করছে, কার সাথে বন্ধুত্ব করছেÑ এসব জানা থাকা প্রয়োজন। দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কম ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে