শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুখবর নেই বাজেটে

  এম এইচ রবিন

০৩ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৩ জুন ২০১৭, ০০:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কোনো সুখবর দেননি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট ৬৫ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট বাজেটের ১৬.৪ শতাংশ। এ বরাদ্দ জিডিপির ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যা গতবছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। এ হারে দশমিক দুই শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে এবং টাকার হিসেবে বেড়েছে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তি, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা পুনর্নির্মাণ, ভর্তি হার বৃদ্ধি ও ঝরেপড়া রোধ করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আইসিটি রিসোর্স সেন্টার স্থাপন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রকল্প নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা নেই।

২০১০ সালে সর্বশেষ এক হাজার ৬০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে সরকার। এর আগে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম বন্ধ ছিল ৬ বছর। ২০১৩ সাল থেকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সময় শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, এমপিও সুবিধা দাবি করা যাবে না। এমপিওভুক্ত করা বন্ধ আছে ৭ বছর।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে নতুন এমপিও নীতিমালা তৈরির তাগিদ দেন। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয় নীতিমালাও তৈরি করেছে। তবে নীতিমালা হলেও মন্ত্রণালয়ের কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই এমপিওর জন্য। প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দের ঘোষণা না থাকায় হতাশ নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী।

একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তীব্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু তা আদৌ বাস্তবায়ন হয়নি, প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের নতুন বাজেটেও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় আমরা ক্ষুব্ধ।

এ প্রসঙ্গে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. এশারত আলী আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেওয়া না হলে শিক্ষকরা দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যাবেন। সরকার যখন মানসম্পন্ন লেখাপড়ার কথা বলে, তখন আমাদের জীবন-জীবিকার কথা কি চিন্তা করেন?

বাজেট বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য। এর জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই শিক্ষা খাতের বিনিয়োগকে আমরা সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে এ খাতকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আমরা প্রথমেই চেষ্টা করেছি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে। পরবর্তী অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলা। এতদুদ্দেশ্যে শিক্ষকদের বেতনভাতা অনবরত উন্নীত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সার্বিক শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ চলমান কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখব। পাশাপাশি, মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং উৎকর্ষতা সাধনে চলমান কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) শিরোনামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুণগত উৎকর্ষতা সাধনের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৫০৩টি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ শ্রেণিকক্ষ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে ১৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতি জেলায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সাক্ষরতা উত্তর জীবিকায়ন দক্ষতা প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইসিটি রিসোর্স সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া ভর্তি হার বৃদ্ধি ও ঝরেপড়া রোধের লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তি, নতৃন অবকাঠামো ও অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমসহ চলমান অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এবারে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দের মধ্যে শিক্ষায় ৫০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা, বাকি ১৫ হাজার ১২ কোটি টাকা বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে