আদালতে মুখোমুখি আ.লীগ ও বিএনপির আইনজীবীরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:১৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে এবার আদালত প্রাঙ্গণে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। গতকাল তিনদিনের কর্মবিরতির কমর্সূচি ঘোষণা করে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। এর আগে একই দিনে সারা দেশের আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ফোরাম। আজ (রবিবার), আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার উভয় দলের কর্মসূচি পালিত হবে।

আওয়ামী পেশাজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বলেন, একটি মহল রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সপ্তাহে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা যে তিনদিন সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করবেন, একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে বিএনপি।

গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর পর ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হয়। সরকারি দলের নেতাদের মতোই প্রায় কাছাকাছি সুরে রায়ের পর্যবেক্ষণে সমালোচনামুখর হন আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক, যিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে একটি রায়ে উল্লেখ করেছিলেন।

গত শুক্রবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে এবিএম খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেপ্তার, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির বিধিমালার গেজেট প্রকাশের দাবি এবং সুপ্রিমকোর্টকে হেয়প্রতিপন্ন করে সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার সারা দেশের আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ দেখাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের গতকালের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিবাদে আগামী ১৩, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট (অর্থাৎ রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এক ঘণ্টার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে আপিল বিভাগের রায়ে যেসব ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানান শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দেবে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা মনে করেছি, এ রায় নিয়ে কোনো মহল বিচারাঙ্গনককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোনো বক্তব্য দেবে না; কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।

সদস্য সচিব বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন, তাতে আইনজীবীসহ সারা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত।

আওয়ামী লীগের এ নেতা মনে করেন, প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কটূক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা।

আমরা মনে করি, দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র ও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

ফজলে নূর তাপস বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে চায়, তারা সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। যারা বিচারাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে চায়, আমরা তাদের প্রতিহত করব।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতি একমত এবং সমর্থন ব্যক্ত করে লিখিত বক্তব্যে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা মনে করি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে