অর্ধেক আসনেই প্রার্থী বদল হবে আ.লীগের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর ১৫ আসনের ৪টি ছেড়ে দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। এর মধ্যে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ২টি, ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বিএনএফ ১টি করে আসন পায়। দুই সিটি করপোরেশনের বাকি ১১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই ১৫ আসনের প্রায় অর্ধেকটিতে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতারা জানান, ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে ভালো প্রার্থী রয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে প্রার্থী নেই; মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। কিন্তু দলটির নেতারা চাচ্ছেন একই সঙ্গে কর্মীবান্ধব এবং জনবান্ধব প্রার্থী। ঢাকার নির্বাচনী আসনগুলোয় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এমন জনবান্ধব প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনী প্রচার চালানো প্রার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশে নির্বাচনী আমেজ দেখে অনেকেই প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। তবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে তফসিল ঘোষণার পর।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমাদের সময়কে বলেন, গত নির্বাচনে আসন বণ্টনের হিসাব আগামী নির্বাচনে প্রযোজ্য হবে না। একাদশ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দল অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরাও চাইব দলগতভাবে নির্বাচনে সক্রিয় হতে। বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী কাজ করছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি একটাই আহ্বান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে, আওয়ামী লীগে নৌকার পক্ষে কাজ করুন। জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা সিটির আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১১, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৮- এই পাঁচ আসনে দলের বর্তমান এমপিদের মনোনয়ন দিলেই আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরা হলেন সাবের হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, একেএম রহমতউল্লাহ, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এ ছাড়া বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী পরিবর্তন না করলে জয়ের সম্ভাবনা কম। ঢাকা-৪ ও ঢাকা ৬-এ জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছেন বর্তমানে। এই আসনে এবার আওয়ামী লীগ নিজ দলের প্রার্থী দিতে চায়। ঢাকা ৮-এ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্থলে প্রার্থী পরিবর্তন হবে কিনা, জানা যাবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে। তবে এই আসনে দলীয় প্রার্থী চান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা ৭-এ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী মো. সেলিম গত নির্বাচনে জয়ী হন দলীয় প্রার্থীকে হারিয়ে। এবার তার শারীরিক অবস্থা সুবিধাজনক নয়। এখানে নতুন প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের স্থলে মনোনয়ন পেতে পারেন মোহাম্মদপুরের স্থানীয় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। ঢাকা-১৪ আসনে আসলামুল হক আসলামের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য যুব মহিলা লীগ নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন। ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়ন পেতে বর্তমান এমপি কামাল মজুমদারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে গাজী মেসবাহুল হোসেন সাচ্চু, মাইনুল হাসান খান নিখিলের মতো তরুণ নেতাদের সঙ্গে। কালসি অগ্নিকা-সহ বেশকিছু বিতর্কিত কর্মকা-ে সমালোচিত মিরপুরের মোল্লা পরিবারের সন্তান ঢাকা-১৬ আসনের বর্তমান এমপি ইলিয়াস মোল্লার আগামীতে মনোনয়ন পাওয়া কঠিন হবে। ঢাকা-১৭ আসনে গুলশান এলাকায় গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় বিএনএফের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদের কপাল খুলে যায়। এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াকিল উদ্দিন। ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন দলীয় মনোনয়ন পাবেন মোটামুটি নিশ্চিত। তবে বয়সের কারণে তিনি যদি নির্বাচন করতে না চান, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে