৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ফেরত পাঠাতে চায় ভারত

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কেএস ধাতওয়ালিয়া এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। রয়টার্স।

এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আসছে নতুন কারফিউ। পাশাপাশি রাজ্যটিতে আবারও চালানো হবে সরকারি বাহিনীর অভিযান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার ভারত সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারগুলোকে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালাতে থাকে। তাদের অধিকাংশই আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। আর কিছু কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও প্রবেশ করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় নিবন্ধন আছে ভারতে বসবাসরত প্রায় ১৪ হাজার রোহিঙ্গার। অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে আছে। এসব অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের এখন তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চাইছে ভারত।

জাতিসংঘের সঙ্গে শরণার্থী বিষয়ে কোনো চুক্তি নেই ভারতের। এ ছাড়া দেশটির জাতীয় পর্যায়ে যে আইন আছে, সেই আইনেও শরণার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকনির্দেশনা নেই। ওদিকে গত বুধবার ভারতের পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে রাজ্য সরকারগুলোকে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

উল্লেখ্য, কিরেন রিজিজু সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেছেন। তবে সফরকালে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে কিনাÑ তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো ও পরিত্যক্ত রাখলে তা হবে অবিবেচকের মতো কাজ। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির প্রকৃত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে ভারতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত অক্টোবর থেকে ৭৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রাখাইন রাজ্যে গত বছরের অক্টোবরে ৯ সীমান্ত পুলিশ হত্যাকা-ের প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী পুলিশ একযোগে রোহিঙ্গা দমনে অভিযান শুরু করে। মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত চলা সেই সেনা অভিযানে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়। এ কারণে প্রাণের ভয়ে পালাতে থাকে রোহিঙ্গা মুসলিমরা।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ আনে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমার সরকার দাবি করছে, মে ইউ নামের পাহাড়ি এলাকায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা সোচ্চার রয়েছে। গতকাল শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খবর দিয়েছে, সেখানে নতুন করে অভিযান (ক্লিয়ারেন্স অপারেশন) চালাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত বছর অক্টোবরের অভিযানের সময়ও ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শব্দটি ব্যবহার করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অক্টোবরের সেই দমন অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ নিপীড়ন চালানো এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সে সময় তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। ইউএনএইচসিআরের তৎকালের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের যথাযথ সহায়তা না দিলে তারা আবার নিপীড়িত হতে পারে। শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার অবশ্য রোহিঙ্গা নিপীড়নের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শনিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট জানায়, রাখাইনে নিরাপত্তা জোরদার ও বাড়তি সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যটির সুনির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। মে ইউ নামের পাহাড়ি এলাকায় রোহিঙ্গা জঙ্গিবাদ দমনেই এই অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে