সাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রহীনতার বিপদ

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

১২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তান আমলজুড়ে এ দেশের মানুষকে শোষণ-বঞ্চনা, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জাতিগত শোষণের বিরুদ্ধে লাগাতার সংগ্রাম করতে হয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সে সংগ্রামে দেশবাসীর বিজয় সূচিত হয়েছিল। কিন্তু বিজয়কে আমরা সংহত করতে বা এমনকি ধরে রাখতে পারিনি। জাতিগত অধিকারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘গোলামির জিঞ্জির’ ভেঙে বের হতে পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির শোষণ-নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখা যায়নি। শ্রেণিগত শোষণ-বৈষম্যও কমার বদলে আরও বেড়েছে। শোষণ-বঞ্চনার কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় পাকিস্তান আমলের গণতন্ত্রহীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার ভূত দেশের ওপর আবার চেপে বসেছে। এভাবে আজ একাত্তরের মূল বিজয় কার্যত হাতছাড়া হয়ে গেছে। বিজয় অর্জন না করতে পারাটি নিঃসন্দেহে বেদনার বিষয়। কিন্তু বিজয় অর্জন করার পর তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঘটনা অসহনীয় যাতনা ও গ্লানি, তার কোনো সীমা নেই।

জাতিগত ও শ্রেণিগত শোষণ অবসানের যে স্বপ্ন একাত্তরে রচিত হয়েছিল, সে স্বপ্নভঙ্গের বিষয়ে অনেক কথা বলার আছে। সেসব কথার অবতারণা আজ করব না। আজ শুধু দেশের শাসনব্যবস্থার গণতন্ত্রহীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার পুনর্আবির্ভাবের বিষয়ে দুকথা আলোচনা করব। তবে এ কথা মনে রাখা দরকার যে, শোষণ-বৈষম্য অবসানের প্রশ্নটির সঙ্গে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

একই সঙ্গে এ কথাটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে, সাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রহীনতার সম্পর্ক হলো টাকার এপিঠ-ওপিঠের মতো। সাম্প্রদায়িকতা বহাল রেখে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। একইভাবে এ কথাও সত্য যে, গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করা যায় না। ‘সাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র’ কিংবা ‘অগণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িকতা’ দুটো হলো সোনার পাথর-বাটির মতো অলীক কল্পনার অসম্ভব বিষয় মাত্র। অথচ সেই ভ্রান্তি ও অপরাধমূলক রাজনৈতিক কৌশলের (অপকৌশলের!) ধাক্কায় দেশ আজ ডুবতে বসেছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হলো বর্তমানে এ দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে দিলেও সে একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতাকে ধারণ করে চলেছে। তার ‘জাতীয়তাবাদের’ মধ্যে ইসলামÑ পছন্দ গন্ধ বেশ স্পষ্ট, স্বঘোষিত ও প্রকাশ্য। একে তো ঘোরতর মার্কিনপন্থি হওয়ায় বিএনপির ‘জাতীয়তাবাদ’ মোটেও জাতীয় মুক্তির ধারায় পরিচালিত জাতীয়তাবাদ নয়, অন্যদিকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা মিশ্রিত হওয়ায় তা গণতান্ত্রিকও নয়।

অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগের গর্ভ থেকে আওয়ামী লীগের উদ্ভব হলেও সে এক সময় মুসলিম জাতীয়তাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে অগ্রসর হয়েছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঝা-া নিয়ে। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে আদর্শিকভাবে সুদৃঢ় করার পর্যাপ্ত প্রয়াস সে কখনই নেয়নি। প্রায়োগিক প্রয়োজনে সে শর্টকাট ও আপস করে চলার পথ গ্রহণ করেছে। অনেক সময়ই ক্ষমতার রাজনীতির প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে সে সাম্প্রদায়িক শক্তির চাপের মুখে অথবা সুবিধা নেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে কৌশলী সহাবস্থানের পথ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রদায়িকতাকে মৌলিকভাবে মোকাবিলা না করে, নির্বাচনে ‘ইসলামি ভোট’ হাত করার কৌশলের যুক্তি দেখিয়ে সাম্প্রতিককালে আবার আওয়ামী লীগের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতাকে বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। সমাজের মধ্যে প্রবলভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দৃঢ় অসাম্প্রদায়িক শক্তিরূপে বামপন্থি প্রগতিবাদীরা সে পদস্খলনকে সামাল দিতে পারত এবং তা করাটা তাদের কর্তব্য ছিল। কিন্তু তাদের শক্তির সীমাবদ্ধতা ও সেই সঙ্গে তাদের কিছু ভুল-ভ্রান্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের সাম্প্রদায়িককরণ প্রবণতা সেসব কারণে আতঙ্কজনকভাবে বেড়েছে।

নাগরিক সত্তার অসাম্প্রদায়িক পরিচয়বোধ গণতান্ত্রিক সমাজের একটি আবশ্যিক উপাদান। গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কাছে ধর্ম-বর্ণ-জাতি-বিত্ত ইত্যাদি পরিচয় নির্বিশেষে সবাই হলো একই ‘নাগরিক’ পরিচয়ে মূর্তমান। হিন্দু হোক বা মুসলমান হোক, আমির হোক বা ফকির হোক, পুরুষ হোক বা নারী হোক, বাঙালি হোক বা আদিবাসী হোকÑ রাষ্ট্রের সামনে সবারই প্রাথমিক পরিচয় হলো এই যে, তারা সবাই ‘রাষ্ট্রের নাগরিক’। এই যদি হয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দার্শনিক ও নীতিগত ভিত্তি তা হলে সেখানে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা কখনই প্রধান হতে পারে না। কিন্তু সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে প্রধানরূপে গণ্য করেই পরিচালিত হয় সাম্প্রদায়িকতার ধারা। সে কারণে গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা হলো পরস্পরের বৈরী মতবাদ ও ব্যবস্থা। সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করার পথ গ্রহণ করা ছাড়া গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে অথবা সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামকে ‘পেন্ডিং’ রেখে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া যাবে না। যারা সাম্প্রদায়িকতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও লালন করে অথবা সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলগত ছাড় দিয়ে চলে, গণতান্ত্রিক হিসেবে তারা হয় ‘ভুয়া’ নয়তো ‘ভেজাল’।

এদিকে গণতান্ত্রিক পরিচয়ের ব্যাপারটিও একেবারে সহজ নয়। গণতন্ত্র একটি বহুমাত্রিক বিষয়। তার যেমন রয়েছে অর্থনৈতিক মাত্রা, তেমন রয়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক, প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত প্রভৃতি নানামাত্রিকতা ও উপাদান। আমাদের দেশে এখন বাজার অর্থনীতি প্রচলিত। বাজার অর্থনীতি জন্ম দিয়েছে বাজার রাজনীতির। দেশে চলছে সাম্রাজ্যবাদনির্ভরতা। তা থেকে জন্ম নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদের তোয়াজ ও তাঁবেদারি করার রাজনীতি। দেশে চলছে লুটপাটের অর্থনীতি। তা থেকে জন্ম নিয়েছে লুটপাটের রাজনীতি। গণতন্ত্রের সঙ্গে এসবের রয়েছে সরাসরি সংঘাত। প্রচলিত অর্থনৈতিক-সামাজিকব্যবস্থায় গণতন্ত্র দৃঢ়মূল করা সম্ভব নয়। যেটুকু সম্ভব তা কার্যত ‘লেবাসী গণতন্ত্রের’ বেশি কিছু নয়। কিন্তু সেটুকুও বা আজ রয়েছে কই? আজ দেশের বড় একটি বিপদ এ ক্ষেত্রেই।

ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেওয়া বিএনপির মাঝে এখনো রয়েছে মিলিটারি কায়দাকানুন ও মেজাজের অস্তিত্ব। স্বৈরাচারী এরশাদী শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি তার জন্মগত বৈশিষ্ট্য থেকে আজও পরিপূর্ণভাবে মুক্ত হতে পারেনি। আওয়ামী লীগের জন্ম ও ইতিহাস ভিন্নধারায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চার অভাব রয়েছে। উভয় দলই ‘পরিবারতন্ত্র’, ‘ব্যক্তি পূজা’, ‘সুপ্রিমো সংস্কৃতি’ ইত্যাদি রোগে কমবেশি আচ্ছন্ন। সামন্তবাদী জমিদারি রেওয়াজের সঙ্গে আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থার সিইওভিত্তিক (চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার) ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’র সংস্কৃতি মিলে দল দুটি কার্যত ব্যক্তিমর্জিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে তারা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একই পন্থা অনুসরণ করছে। ফলে দেশে সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশ গুরুতরভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে।

গণতন্ত্রের পথে দেশের অগ্রযাত্রা আজ কঠিন সংকটে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল রাষ্ট্রক্ষমতার ইস্যুকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার বিষয়টি তাদের কাছে আজকাল অপ্রধান ও ক্ষেত্রবিশেষে পরিত্যাজ্য হয়ে উঠেছে। তাদের কাছে আদর্শের বিষয়ের চেয়ে ক্ষমতার বিবেচনাটি প্রধান বলে গণ্য হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রধান টার্গেট হয়ে আছে বিএনপি এবং বিএনপির প্রধান টার্গেট হয়ে আছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একপক্ষ গণতন্ত্রের ধুয়া তুলে জামায়াতকে মাথায় তুলেছে আর অপরপক্ষ সাম্প্রদায়িকতা মোকাবিলার কথা বলে আজ পতিত স্বৈরাচারকে পাশে নিয়েছে ও গণতন্ত্রের চর্চাকে ক্ষুণœ করছে। এখন ‘এক জোটে রাজাকার, আরেক জোটে স্বৈরাচার।’ আনুষ্ঠানিক জোটের বাইরেও রয়েছে গোপন সমঝোতার নানা খেলা। আওয়ামী লীগ হেফাজতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে। এভাবে এই দুই দলের ভ্রান্তি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সুযোগে আজ জামায়াত-হেফাজত প্রভৃতি শক্তি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বস্তুত এক ধরনের যুদ্ধ তৎপরতা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চেতনা ও ধারা থেকে সম্পূর্ণ পথচ্যুত করে এ দেশে পাকিস্তানি জামানার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়।

আওয়ামী লীগ সাম্পদ্রায়িক অপশক্তি মোকাবিলার কথা বলে গণতন্ত্রকে খর্ব করলেও ক্ষমতার বিবেচনাকে সবচেয়ে ওপরে রাখার কারণে সে বিবেচনা থেকে ইসলামপন্থিদের নিজের দলে ভেড়ানোর পথ গ্রহণ করেছে। জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। হেফাজতসহ বেশ কিছু ইসলামি দলকে সে হাত করে নিয়ে তাদের ‘সাম্প্রদায়িক দাবি’ বাস্তবায়ন করে চলেছে। আওয়ামী ওলামা লীগকে দিয়ে নানাকথা বলিয়ে সে বিএনপির সঙ্গে ‘কে বেশি ইসলাম-দরদি’ তার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। ফলে আওয়ামী ও বিএনপির হাতে একই সঙ্গে ‘গণতন্ত্র’ ও ‘অসাম্প্রদায়িকতা’Ñ দুটোই বলি হচ্ছে।

গণতন্ত্রের কথা বলে জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে বিএনপি গাঁটছড়া বাঁধলেও গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে সে তার সামরিক-সংশ্লিষ্টতার অতীতকে ত্যাগ করতে অক্ষম বলে প্রমাণ করেছে। ক্ষমতার জন্য সে বারবার ষড়যন্ত্রের পথ গ্রহণ করছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ‘শর্টসার্কিট’ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পথ করে নেওয়ার জন্য ফন্দিফিকির করছে। তার হাতেও গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে। ‘আমের’ পাশাপাশি ‘ছালাও’ হাতছাড়া হওয়ার বিপদ তারাও সৃষ্টি করে রেখেছে।

ইতিহাস এই শিক্ষাই দেয় যে, অসৎ পথে কোনো সৎ লক্ষ্য হাসিল করা যায় না। ‘সাম্প্রদায়িক বিপদ’ মোকাবিলার জন্য ‘গণতন্ত্র’কে কালিমালিপ্ত করে গৃহীত পদক্ষেপ সেই বিপদকে সাময়িকভাবে দমিত করতে পারলেও অন্যভাবে তা এই বিপদের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলবে। ফলে ‘গণতন্ত্র’কে কালিমালিপ্ত করে গ্রহণ করা ছলচাতুরির পদক্ষেপ ‘সাম্প্রদায়িক বিপদ’কে মোকাবিলার বদলে তাকে নতুন শক্তি ও রসদসহকারে আরও ভয়াবহতা নিয়ে পরবর্তী কোনো এক সময় আঘাত করার পথ তৈরি করে দেবে। তেমনই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আর যাই হোক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যে মোটেও সম্ভব নয়, সে কথা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না।

দুটি কথাই আজ স্পষ্ট। সাম্প্রদায়িকতাকে বহাল রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যেমন অসম্ভব, তেমনি গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করে সাম্প্রদায়িক বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়াও সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে দিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যেমন আজ অসম্ভব হয়ে উঠেছে, তেমনি সাম্প্রদায়িক বিপদ থেকে দেশকে মুক্ত করাও আজ তাদের দিয়ে সম্ভব নয়। দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এই দুই দল ও জোটের হাতে আর নিরাপদ নয়। এটি প্রধানত এ কারণে যে, এ দল দুটির শ্রেণিচরিত্র ও তাদের নেতৃত্বের শ্রেণি ভিত্তি হলো লুটেরা ধনিক শ্রেণির ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্রক্ষমতা তাদের কাছে লুটপাটের সুযোগ করে নেওয়ার একটি শ্রেষ্ঠ উপায় বলে বিবেচিত। এই বিবেচনাই তাদের কাছে প্রধান। এই স্বার্থের বিবেচনার কাছে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা বা অন্য যে কোনো নীতি-আদর্শের বিবেচনা গৌণ ও প্রয়োজনবোধে পরিত্যাজ্য। তাই গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার পথে দেশকে পরিচালনার জন্য আজ প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। দেশ আজ তার জন্য অপেক্ষমাণ।

য় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি।

ংবষরসপঢ়ন@ুধযড়ড়.পড়স

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে