দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এনসিটিবিতে

  লুটপাট বন্ধ করুন

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘এনসিটিবি : পা-ুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের পা-ুলিপি তৈরি, ছাপা ও বিতরণের ২০টি ধাপের মধ্যে ১৭টিতেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়। এতে স্বেচ্ছাচারিতার এক চরম রূপ প্রকাশ পেয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এ অপকর্মে সর্বোচ্চ পদ থেকে পিয়ন পর্যন্ত জড়িত। সম্মানীর নামে এ বছরের পাঠ্যবইয়ের কাজ থেকে তারা মোট ৫১ লাখ টাকা নিজেরাই নিয়েছেন। আবার আঁতাতের মাধ্যমে টেন্ডার সম্পর্কিত গোপনীয় তথ্য টেন্ডারদাতার কাছে প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাম্প্রদায়িক মতাদর্শী গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তাদের খুশিমতো রাজনৈতিক বিবেচনায় পাঠ্যবইয়ে কিছু কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়। আবার সরকার পরিবর্তন হলে তারা নিজের মতো করে পরিবর্তন করে ফেলে। ফলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ইতিহাস ও অনেক ইস্যুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। এনসিটিবিকে অনিয়ম-দুর্নীতির রাহুমুক্ত করার জন্য টিআইবি ১৬ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এনসিটিবিকে একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটি তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এনসিটিবি পুনর্গঠনের সুপারিশ করবে। স্বাধীন কমিশন গঠনের আগে অন্তর্র্বর্তীকালীন সময়ের জন্য চারটি কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো এনসিটিবির কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব হ্রাস করা; কারিকুলাম ও পা-ুলিপি প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন; বর্তমান পাঠক্রমের প্রকাশ বা উন্মুক্তকরণ; অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এনসিটিবির বোর্ডে সদস্য হিসেবে নিয়োগ; জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুযায়ী এনসিটিবির কর্মীদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং সব তদন্ত প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ। এ ছাড়াও পাঠ্যবইয়ের জন্য সম্পাদক, সংকলক ও লেখকদের সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তির প্রথা প্রবর্তন এবং দক্ষতাসম্পন্ন লেখক নিয়োগ ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় লেখকদের সম্মানী নির্ধারণ ইত্যাদি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিআইবির সুপারিশগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিলে কাজের কাজ কিছু হতে পারে বলে আমরা মনে করি। তবে শেষ কথা হলো, এ দেশে কে শোনে কার কথা। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করি, টিআইবির প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সরকার সকল অনিয়ম বন্ধ করতে সঠিক পদক্ষেপ নেবে। উচিত হবে সোজাসুজি সব ত্রুটি ও দুর্নীতি অস্বীকারের প্রবণতা বাদ দিয়ে এ দুর্নাম ঘোচাতে বাস্তবানুগ পদক্ষেপ নেওয়া। দেশ ও জনগণের সার্বিক স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এসব নেতিবাচকতার অবসান হোকÑ এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে