ফিটনেস ছাড়া চলছে স্পিডবোট

আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই

  অনলাইন ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের পরিবহন খাতে কী পরিমাণ নৈরাজ্য চলছে, ভুক্তভোগী মানুষ প্রতিনিয়ত তা টের পাচ্ছে। ফিটনেস ছাড়া যানবাহনের সংখ্যা দিয়ে এর ভয়াবহতা পরিমাপ করা যায়। এসব দেখভালের কেউ আছেন, এর প্রমাণ মিলছে না। ফিটনেস নেই, এমন যানবাহন যেমন ফিটনেস সনদ নিয়ে চলছে, তেমনই ফিটনেস সনদ নেই, এমন যানবাহনও চলছে কোনো বাধা ছাড়াই।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সড়কের মতো নৌপথেও যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে মাথা ঘামাবার কেউ নেই। দেশের বিভিন্ন নৌপথে স্পিডবোটের চলাচল ক্রমেই বাড়ছে কিন্তু এগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশেরই ফিটনেস (সার্ভে) ও রেজিস্ট্রেশন নেই। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চলাচলরত এসব নৌযান নিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। স্থানীয় কোনো সমিতির আওতায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে চলছে এসব বাহন। শুধু তা-ই নয়, নিষিদ্ধ এলাকায়ও যেন স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়, এ জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বৈধতা না থাকলেও তারা বেশ সহজেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে পারছে। অবৈধ স্পিডবোট একটি উদাহরণ মাত্র। দেশের অসংখ্য খাতে এমন অনিয়মের মচ্ছব দেখা যায়। এ যেন ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়ের মতো অবস্থা! সর্বশেষ পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থেকে, গলাচিপার বোয়ালিয়া সøুইসগেট থেকে কয়েকটি স্থানে স্পিডবোট চলাচলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নদীটি অনেক সময় উত্তাল থাকে। তাই এ পথে স্পিডবোট চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু সেখানে চলাচলের জন্য আবেদন করেছে পানপট্টিঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতি। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএ এই চাপের ফলে বিপাকে পড়েছে; সুরাহার আশায় শরণাপন্ন হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের।

বলার অপেক্ষা রাখে না দেশে সব ধরনের রুটে যানবাহনের যে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে, তা বর্তমান লোকবল বা কাঠামো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। বিশৃঙ্খল দশা কাটিয়ে উঠতে হলে শুরুতেই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, এর কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং দুর্নীতি দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নিতে। আইন কঠোর করার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে