সম্পর্কের দুষ্টচক্র

  সৈয়দা আখতার জাহান

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পর্ক একটি সর্বজনীন শব্দ। অধিকাংশ মানুষই কোনো না কোনো সম্পর্কে বাস করে। সেটা হৃদয়বৃত্তিক, বৈবাহিক কিংবা সামাজিক যে কোনো সম্পর্কই হতে পারে। যুগ যুগ ধরেই মানুষ সঙ্গী চায়। এই চাওয়ার অনুপ্রেরণা আমাদের এক ধরনের বন্ধনের কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। আইনের অনুমোদনে ধর্মীয় রীতি মেনে সামাজিক স্বীকৃতি পেতে মানুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রাক-বৈবাহিক স¤পর্ক যাকে আমরা প্রেম বলি সেখানে আইনের অনুমোদন না থাকলেও হৃদয়ের দাবি তো থাকেই। স¤পর্কের ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়েই আমাদের পথচলা। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যেমন কিছু শক্তির একত্রীকরণ যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দেশকে দরিদ্র করে রাখে। ঠিক তেমনি সম্পর্কের দুষ্টচক্রও অনেকগুলো পারিপার্শ্বিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে একজন মানুষকে স¤পর্কে আবদ্ধ করে রাখে। এ দেশে বিয়েকে মনে করা হয় সর্বরোগের মহৌষধ আর সব সমাধান। তাই তো বিয়ে নিয়ে আলোচনা অন্য বিষয়াদি থেকে বেশি হবে সেটাই স্বাভাবিক। সেটা আরও বেশি স্বাভাবিক বিয়ে ভাঙা নিয়ে আলোচনা। এ ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদকারী দুজন বাদে বাকি সবাই বিশেষজ্ঞ!

সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকজন তারকার ঘর ভাঙলেও তাহসান-মিথিলার বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বেশ কিছুদিন বেশ সরগরম ছিল। সেই সুবাধে মিডিয়া প্রতিদিন বিষয়টার নতুন নতুন এঙ্গেল নিয়ে নিউজ করতে থাকে। থাকে ফলোআপ।

বিচ্ছেদ শব্দটার সঙ্গে বিষাদময় অনুভূতি জড়িত। সাধারণত আইন দ্বারা স্বীকৃত হতে হয় এমন স¤পর্কে বিচ্ছেদ করতে হলে বেশ কিছু পর্ব পেরোতে হয়। কিন্তু যে স¤পর্ক অলিখিত সেখানে বিচ্ছেদ শব্দটা অনেক বেশি আড়ম্বর মনে হতে পারে। বিচ্ছেদ লিখিত স¤পর্কে হোক কিংবা অলিখিত স¤পর্কে হোক তার জন্য মানসিক প্রস্তুতির দরকার আছে এবং সে জন্য সময় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো উচিত। কোনো রুগ্ন স¤পর্ককে দিনের পর দিন বাঁচিয়ে রেখে মহৎ মানুষ হওয়া যায় বটে, সুখী মানুষ নয়। একটা বিষয় উল্লেখ্য যে, মানুষের সম্পর্কগুলো আলো-বাতাসের মতো সহজ এবং স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন। তাতে আন্তরিকতা, সমানুভূতি আর সহমর্মিতার মিশেল থাকা চাই। একে অন্যের প্রতি দায়িত্ব থাকবে, তবে অবশ্যই সেটা দায়বদ্ধতা নয়। যেখানে আপনার প্রিয়জন আছে, লাইফ নেই; সেটাই দায়বদ্ধতা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পারস্পরিক সম্পর্কটা আর আন্তরিকতার নয়, কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। সম্পর্কে সাইকোলজিক্যাল স্যাটিসফেকশন না থাকা মানেই বেদনার তাড়না এবং ব্যর্থতার বোধ। ভালোবাসা এবং ঘৃণা খুব দূরের কিছু নয়। একই রেখাপথে নিকটতম দূরত্বে তাদের বাস। তবে বিচ্ছেদ মানেই কিন্ত ঘৃণা নয়, আবার যথেচ্ছা অবজ্ঞার নামও ভালোবাসা নয়। পুরোটা ঝরে পরেও অটুট থাকার মানে ভালোবাসা। ভালোবাসা এমন একটা ব্যাপার যা নিজে নিজেই সবকিছুকে বদলে নেয়। প্রেম পোশাকের মতো বদলে ফেলা যায়; ভালোবাসা তো শরীর, সেটা বদলানো যায় না। পেছনে ফিরে তাকালেই যে সম্পর্কটাকে খুব দূরের এবং নিরানন্দের মনে হচ্ছে সেই সম্পর্কের বিষয়ে চিন্তা করার সময় বের করা উচিত। মনে রাখতে হবে, ইমোশনাল এবং সেন্টিমেন্টাল এক বিষয় নয়।

এ বছর মে মাসের মাঝামাঝি রাজধানীর ধানম-িতে একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত নস্টালজিক ক্যাফে থেকে লাফিয়ে পড়ে সুলভ (৩৬) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। কাজী ফার্মস গ্রুপে কর্মরত ওই ব্যক্তি রেস্টুরেন্টের বারান্দায় বসে ধূমপান করছিলেন। এর আগে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। পরে ৯ তলার বারান্দা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। বছরখানেক আগে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপেক্সের অষ্টম তলা থেকে এক সন্ধ্যায় লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন বুয়েটের শাহরিয়ার রিপন (২৬) নামের এক শিক্ষার্থী। আত্মহত্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী পিংকি, আত্মহত্যার আগে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখে যান, ‘সবাইকে ধন্যবাদ।’ সম্প্রতি রাজধানীর সোবহানবাগে প্রেমিকার সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করেছেন সুমন কুমার পাল (২৬) নামের এক যুবক। স¤পর্কে টানাপড়েনের কারণে শনিবার বিকালে সুমন তার প্রেমিকাকে ডেন্টাল কলেজ হোস্টেলের পাশে ডেকে আনেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুমন নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে রবিবার রাতে মোহাম্মাদপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, সুমন বেকারত্বের হতাশায় ছিলেন। তার প্রেমিকার বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। যেহেতু তিনি প্রেমিকার সামনেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সেহেতু ধরে নিচ্ছি, প্রেমের জটিলতাটাই তাকে সব থেকে বেশি পীড়া দিয়েছে। ভল্টেয়ারের মতে, যে লোক মানসিক অবস্থার কারণে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়, সে আর এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারলে হয়তো জীবনে বেঁচে থাকতে আগ্রহী হতো। অনেকে তাৎক্ষণিক তর্ক-বিতর্কের কারণে ‘চংুপযবধপযব’-এ আক্রান্ত হয়ে ইগো নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আত্মহত্যা করে বসে। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছাড়াও অনেকে আত্মহত্যা করে থাকে। এই সময়ের একটা বয়সের (১৬-২৪ বছর) বেশিরভাগ মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে ‘প্রেম করা’। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা ফেসবুকের কল্যাণে মানুষ এখন তার অনুভূতি ছড়িয়ে দেয় এবং অন্য অনেকেরটা জানার ও মেশার সুযোগ পায়। প্রেম যে আসলে করা যায় না, বরং সেটা হয় এই বোধটাই তাদের নেই। নিজেকে কৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করে, অন্যের চাওয়া অনুযায়ী বদলে প্রেমিক-প্রেমিকার মন রক্ষা করে। এভাবে অন্যের জীবনে প্রয়োজনীয় হওয়া যায়, অপরিহার্য হওয়া যায় না। আমার মনে হয়, ভালোবাসার জন্য চাই ‘যথাযথ মন (ঢ়ৎড়ঢ়বৎ সরহফ) এবং প্রস্তুত মন (ঢ়ৎবঢ়ধৎবফ সরহফ)।’ ‘যথাযথ মন’ প্রয়োজন, কেননা সবার সঙ্গে প্রেমটা ঠিক হয় না। দুজনের চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা-অনিচ্ছার মধ্যে কোথাও একটা কমননেস থাকতে হয়। কারো চোখ দেখে, হাসি দেখে আপনি প্রেমে পড়তেই পারেন। তাতে সুন্দর সমাপ্তি হবে এমন নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না। মানুষ আসলে আশ্রয় খোঁজে। দিন শেষে হেলান দেওয়ার জন্য একজন মানুষ চায়। আমার কাছে ঠিক মানুষটা হচ্ছেন তিনি যার কাছে আমার বারবার ফিরতে ইচ্ছে করে। কারণে- অকারণে। ভালোবেসে-অভিমানে, ঝগড়া আর আপসে। ‘প্রস্তুত মন’-এর ব্যাখ্যাটা হলো, আপনাদের মধ্যে সবকিছুই ঠিকঠাক কিন্তু সম্পর্কটা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। খুব সি¤পল, হতেই পারে। কারণ আপনি যাকে ভালোবাসেন তিনি হয়তো ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত নন। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দুপক্ষেরই প্রয়োজন। জীবনে ‘সঠিক সময়’টাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগেও না পরেও না। লোহা নামক প্রয়োজনীয় ধাতুটাকে গরম করে-নরম করে ঠিক সময়ে শেইপ দিতে হয়। যাকে বলা হয় ঙহ ঞরসব। ঠিক সময়ের আগে কিংবা পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেও খুব একটা ফলপ্রসূ কিছু হয় না। বাছবিচারহীনভাবে জীবনে কিছু গ্রহণ করাটা মস্ত বড় বোকামি। যাকে ধারণ করতে পারবেন না তাকে গ্রহণ করে ‘লেজেগোবরে করবেন না।’ আকাশ যেমন চোখের মাপে হয় না, ঠিক তেমনি মনের মাপে মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। এ প্রজন্মের বড্ড তাড়াহুড়া। প্রেম তো করতেই হবে তাদের। এখনো হচ্ছে না কেন! আরও ভয়ঙ্কর কথা তাদের মধ্যে হারানো ভয় এক্কেবারেই নেই। ভালোবাসার মানুষকে হারানো ভয় না থাকাটা অনেকটা ‘ব্রেক লেস’ গাড়ির মতো। উদাসীনতা থেকে আর যা কিছুই হোক; ভালো কিছু যে হয় না, এটা নিশ্চিত।

জীবন আমাদের অনেক কিছু দেয়। আপনি বলতেই পারেন যারা আত্মহত্যা করেছেন তাদের ব্যক্তিগত জীবনে যা টানাপড়েন ঘটে গেছে সেখানে প্রাপ্তিটা কোথায়? জীবনে অপ্রাপ্তির সব থেকে বড় প্রাপ্তি হলো ‘শিক্ষা কিংবা অভিজ্ঞতা’। দিনশেষে, একটা ভ্রমণ শেষে যেটা শিখলেন, সেটাই বা কম কী। জীবনে একজন ভালো মানুষ দেখার আগে অনেকজন খারাপ মানুষ দেখা উচিত। তা হলেই আপনি বুঝতে পারেন ‘আপনার জীবনে আসা ভালো মানুষটা আসলে কত ভালো।’ হুমায়ূন আহমেদের ‘চলে যায় বসন্তের দিন’ আমাকে যতটা হতাশ করেছে, তার থেকেও আরিয়ানা ফ্যালাচির ‘সুন্দর আগামীকাল আসবেই’ আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে। অনেকেরই অভিযোগ থাকে, ভালো কাউকে পেলেই মেয়েটি বা ছেলেটি বিয়ে করে চলে যায়। ভালোর প্রতি কার না লোভ থাকে বলুন। ‘প্রলোভন জয় করা কি সহজ পরীক্ষা?’ সামাজিক অবস্থান আর নিরাপদ ভবিষ্যতের মোহ কাটতে সম্ভবত খুব বেশিদিন সময় মানুষের লাগে না। তার পরৃ সারাজীবনের আফসোস। কত কাছের মানুষ, শুধু প্রলোভনের কাছে হেরে গিয়ে, কত সহজেই অচেনা হয়ে যায়। হেসে, ভালোবেসে, মন থেকে। সেই মানুষটাকে মনে রাখা মানে তো শুধু কষ্ট পাওয়া। মানুষ যখন ভালোবাসে তখন কেবল নিজের মনের কথা শোনে। আর যখন বিয়ে করে তখন তাকে পরিবারের সবার কথা মাথায় রাখতে হয়। তাই তো প্রেম-ভালোবাসা আর বিয়ের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব। বাঙালি পরিবারে ছেলেরা বাবার কথা না শুনলেই তাকে ‘ত্যাজ্য’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পথে আনা হয়। আর মেয়ে কথা না শুনলেই বাবা ‘হার্ট অ্যাটাক করেন’ তার পর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে তথাকথিত পথে আনেন মানে সন্তানের মত পরিবর্তন করান। একটু ভাবুন তো আপনার বাবা-মাই যেখানে আপনার ভালোবাসা সম্মান করেন না, মেনে নেন না, স্বীকৃতি দেন না; সেই আজন্ম পরিচিত গ-ির বাইরে পরিমিত পরিচিত একজন মানুষ আপনাকে তার জীবনে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, আপনার জন্য সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে চলে আসবে, সেই চাওয়াটা অনেক অনেক বেশি কিছু। প্রেমে বিশ্বাস থাকতে হয়, আর বিয়েতে বিশ্বস্ততা। কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন, ‘তোমার প্রেম, প্রিয়া, সরকারি প্রেসনোটের চেয়েও মিথ্যা।’ কিংবা মুজতবা আলী লিখে গেছেন, আমার প্রেমে তুমি অভ্যস্ত হয়ে যেও না, আমার বিরহে তুমি অভ্যস্ত হয়ে যেও না। ভালোবাসায় কখনো প্রমাণ দিতে নেই, ভালোবাসায় জানান দিতে হয়। ভালোবাসতে হলে সময় দিতে হয়। আমাদের আশপাশের অনেকেই প্রেমে ব্যর্থ হচ্ছেন। সবাই আত্মহত্যা করেন না, কেউ কেউ করেন। এই আত্মহননের পেছনে রয়েছে নিজস্ব চিন্তা, ধারণা আর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি। পরিস্থিতি কাটিয়ে না উঠতে ব্যর্থতা। জীবনে কিছু মানুষ আসেন, যারা ভালোবেসে থেকে যান আজীবন। তারা আমাদের জন্য ‘উপহার’স্বরূপ। আর কিছু মানুষ আসেন যারা জীবনটাকে অগোছালো করে দিয়ে চলে যান নিজ গন্তব্যে। তারা আমাদের জীবনের জন্য ‘শিক্ষা কিংবা অভিজ্ঞতা।’ প্রবল অভিমানে হেরে গিয়ে হারিয়ে যাওয়াটা অন্যায়। কেননা ‘অপূর্ণতার মাঝেই থাকে জীবনের সব দাম্ভিক সুখের গল্প।’ বেঁচে থাকলে মানুষ ভালো থাকাটাও শিখে যায়।

প্রশ্ন আসতে পারে, বিচ্ছেদের মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া উচিত? যার ক্রাইসিস যত বড় তাকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, তিনি ক্রাইসিসটা কীভাবে ম্যানেজ করবেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ভাবি, ‘মানুষ জিজ্ঞেস করলে কী বলব? তাকে (পার্টনারকে) আমি আমার সিদ্ধান্তটা কীভাবে জানাব? জানার পর কী রি-অ্যাক্ট করবে?’ সবার আগে মনে রাখতে হবে, ‘কেউই জীবনে অপরিহার্য নয়।’ বড়জোর প্রয়োজনীয় হতে পারে। সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত সীমারেখা সামনের সীমাহীন সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। মূলত অবিশ্বাস থেকেই সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। দানা বাঁধে অসন্তোষ। শুরু হয় সন্দেহের পৌনঃপুনিকতা। একের কাছে অন্যের গোপনীয়তা। বাড়তে থাকে কলহ-বিবাদ। আস্থাহীন-নির্ভরতাহীন স¤পর্কে বয়ে বেড়ানো হয়ে ওঠে অভিশাপের মতো। সমাধানযোগ্য হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেওয়া যেতে পারে। আর তা না হলে সম্পর্ক মচকে থাকার চেয়ে ভেঙে যাওয়াই ভালো। তাতে যন্ত্রণাটা কিছুটা কম হয় বলে মানি। সংসার, সম্পর্কের কাঠামোগত ধারণাগুলোর একটা। সম্পর্কে আড়াল থাকতে হয়। স্পেস থাকা লাগে। সমমানসিকতাস¤পন্নদেরই শয্যাসঙ্গিনী হওয়া উচিত। ‘শীতের সঙ্গে বসন্তের পরিণয় কখনো সুখের হয় না। না শীতের জন্য, না বসন্তের।’ বিয়ে সামাজিকভাবে হলেই টেকার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। এত বেশি মানুষকে ইনভলব করে যাতে সবাই নিজ দায়িত্ব বুঝতে পারে। সংসার, গোছানো জীবন; এর বাইরে অনেকে বের হতে পারে না। তাই সম্পর্ক উষ্ণ থাকুক আর না থাকুক একসঙ্গে থাকতেই হবে সেই সামাজিক প্রেসার নিয়ে অনেকে একসঙ্গে থাকে। বিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে ওঠে আনন্দহীন দায়িত্ব পালন। আনুষ্ঠানিকতা মাত্র! বিয়েতে স্ত্রীরা ছেলেদের দায়িত্ব আর স্বামীরা মেয়েদের কর্তব্যবোধের অবস্থানে চলে আসে। খুব গোছানো সংসারে ক্ষেত্রবিশেষ মনোসংযোগের অভাব থাকে। সংসারে সব সময়ই হ্যাঁ মানে উপেক্ষাও হতে পারে। যদিও তাকে আমরা বাইরে থেকে ইতিবাচক বলে ধরে নিয়ে থাকি। ভালোর সঙ্গে মন্দের দ্বন্দ্ব হয় না। দ্বন্দ্বটা ভালোর সঙ্গে আরও ভালোর। কিছু সম্পর্কের ওপরটা চাকচিক্যময় জৌলুসে ভরা; ভেতরটা অন্তঃসারশূন্য, ফাঁকা। প্রেমহীন দা¤পত্য জীবন যেমন ‘হয় বরফ নয় অগ্নিরথ!’ জীবনের সব থেকে বড় শিক্ষা, ‘জীবন কখনো থেমে থাকে না।’ তাই অন্যরা আপনার স¤পর্কে কী ভাববে সেই ভাবনাই নিজেকে ক্লান্ত করে তোলার কোনো কারণ নেই। ভাবনার আচ্ছন্নতা আচরণে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মানুষ এক সময় শিখে যায় যাবতীয় না-পাওয়াকে ভুলে যেতে। বুঝতে শিখে যায়, ছোটখাটো লোকসান, অপূর্ণতা, শোক, ব্যর্থতা এগুলো সত্যিকারের দুঃখ নয়। তার পরও কোনো একজনকে ভালোবেসে বলতে ইচ্ছে করেÑ ‘তোমাকে পেতে ঈশ্বরকেও বেঁচে দেব ওই খুচরো বাজারে।’

য় সৈয়দা আখতার জাহান : সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে