রেলের জন্য নতুন ইঞ্জিন-বগি

মনোযোগ দিতে হবে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে

  অনলাইন ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে যাত্রী খাতে গণপরিবহন হিসেবে রেলই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এক্সপ্রেস সার্ভিস, ইন্টারসিটি ট্রেন, কমিউটার সার্ভিস, আজকাল বুলেট ট্রেন, দূরপাল্লার দীর্ঘ ট্রেন ইত্যাদি নানা সার্ভিস বেড়েছে। এ ছাড়া রয়েছে মেট্রো ট্রেন বা পাতাল রেল এবং স্কাই ট্রেন, টয় ট্রেন ইত্যাদি। সারা বিশ্বে যখন রেলসেবা বেড়ে চলেছে, তখন আমাদের দেশে তা থমকে আছে। স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকার জোর দিয়েছে সড়কপথে যোগাযোগের ওপর। আমাদের দেশে যে উন্নত মানের বাস সার্ভিস আছে, তা অনেক উন্নত দেশেও নেই। উপেক্ষিত কেবল রেলযাত্রাই হয়নি, নদীমাতৃক দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত অভ্যন্তরীণ নৌচলাচলেও বাড়ছে সংকট। সব গুরুত্ব কেড়ে নিয়েছে জাপানের গাড়ি ব্যবসা।

বহু বছর পর বর্তমান সরকার রেল চলাচলের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। আমাদের সময়ের খবরে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন পর সরকার নতুন ইঞ্জিন ও বগি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।

বর্তমানে রেলের যে ২৭৫টি ইঞ্জিন রয়েছে তার ৮০ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ, কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। সাধারণ একটি রেলইঞ্জিনের আয়ু ৩০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। বহু বছরের অবহেলায় বর্তমান সংকটের উদ্ভব হয়েছে।

স্বাধীনতার পর রেলের টেকনিশিয়ান পদের অবাঙালি কর্মীরা চলে যাওয়ায় এখানেও দক্ষ লোকবলের সংকট তৈরি হয়েছিল। এই ঘাটতি এত বছরেও ঠিকভাবে পূরণ করা যায়নি। দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশে কর্মকর্তাদের উৎসাহ বেশি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে। এতে তাদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ও যথেচ্ছ টাকা খরচের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে উপেক্ষিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের মতো জরুরি কাজ। আর এভাবে দ্রুত নষ্ট হতে থাকে অনেক নতুন কেনা ইঞ্জিন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি। রেলের ইঞ্জিন ও বগির মতোই রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণেও দুর্বলতা ও দুর্নীতি ব্যাপক। বর্তমানে অধিকাংশ লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত, প্রয়োজনীয় লোকবল নেই, তদুপরি রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ বস্তির বিপজ্জনক অবস্থান বাড়ছেই। মানুষও অসতর্ক ও নিরাপত্তা সম্পর্কে উদাসীন। ওভারব্রিজ বাদ দিয়ে রেললাইন ধরে পথ পারাপার, রেললাইনে বসে গল্পগুজব, কানে মোবাইল নিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটা এসব কা- হরদম ঘটছে এবং এ থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটছে বারবার। কিন্তু সচেতন হচ্ছেন না কেউই।

আমরা আশা করব, বর্তমান সরকার সড়কপথের মতো রেল চলাচলের দিকেও গুরুত্ব দেবে এবং এর উন্নয়নে গৃহীত সব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। আর বর্তমান ইঞ্জিন, কোচ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও খবরদারি দুটিই থাকবে। গণপরিবহনে সব ধরনের রেল যোগাযোগই হওয়া উচিত সবার প্রথম পছন্দের খাত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে