ভেজাল এখন চতুর্দিকে, এমনকি রাজনীতিতেও

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

০৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৩৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনীতি হলো ‘রাজার নীতি’ অথবা ঘুরিয়ে বললে ‘নীতির রাজা’। আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় হলোÑ দেশের অন্য প্রায় সবকিছুর ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি রাজনীতিতেও এখন প্রবলভাবে ‘ভেজাল’ ঢুকে গেছে। ভেজালের রাজত্ব সেখানেও এখন মূলধারা হয়ে উঠেছে।

খুব বেশিদিনের কথা নয়, যখন ভেজালের সঙ্গে এ দেশের মানুষের তেমন একটা পরিচয় ছিল না। মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের শেষদিকে ভেজালের সঙ্গে মানুষের প্রথম কিছুটা পরিচয় ঘটে। এটি বিশেষভাবে তীব্রতা পায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পাকিস্তান আমলে ভেজালের কারবার শুধু অব্যাহতই থাকেনি, তা আরও জোরদার হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে ভেজালের প্রাদুর্ভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করা যায়নি। কিন্তু ভেজাল বলতে মানুষ তখন পর্যন্ত প্রধানত খাদ্যে ভেজালের সঙ্গেই বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ভেজালের পরিধি ও বিস্তৃতির মাত্রায় গুণগত উল্লম্ফন ঘটেছে। ভেজাল এখন শুধু খাদ্যে নয়, তা এখন সর্বত্র প্রসারিত হয়েছে।

আজকাল শুধু শাকসবজি, ফলমূল, খাওয়া-খাদ্যেই নয়, ভেজালের রাজত্ব ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। যেমন কিনা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চলছে ভেজাল (প্রশ্নপত্র ফাঁস)। নির্মাণকাজে ভেজাল (লোহার রডের বদলে বাঁশ)। আয়-উপার্জনে ভেজাল (ঘুষ-দুর্নীতি)। কোটি টাকার সম্পদ বানাতে ভেজাল (লুটপাট)। ছাত্রলীগ-যুবলীগে কিংবা ছাত্রদল-যুবদলে ভেজাল (অনুপ্রবেশকারী)। রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভেজাল (ওয়ানটাইম অথবা হাইব্রিড)। সংসদে ভেজাল (গৃহপালিত বিরোধী দল)। এমনকি জাতির পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদের প্রতি সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে ভেজাল (সম্মাননা ক্রেস্ট)। ভেজাল এখন চতুর্দিকে!

শিক্ষাব্যবস্থায়ও লেগেছে ভেজালের বদহাওয়া। ভুঁইফোড় সব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র ভর্তি করে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। টাকা দিয়ে ডিগ্রির ‘ভেজাল’ সার্টিফিকেট কেনাবেচা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফলে মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ঢুকে পড়ছে ‘ভেজাল’।

‘ভেজালের’ এ সমাজে এখন চলছে ভেজালের ‘মুক্তবাণিজ্য’। চলছে ভেজালের প্রতিযোগিতা। ফলে তাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-হানাহানি-নৈরাজ্য। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে তার প্রত্যক্ষ নিদর্শন হলো একের পর এক ঘটতে থাকা গুম-খুন-হত্যা-অপহরণ-ধর্ষণের ঘটনা। এসব প্রতিটি ঘটনা শুধু বর্বর ও লোমহর্ষকই নয়, তার বীভৎসতা ক্রমাগত সব কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী এহেন পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে পারে না। অথচ ‘সবকিছুই ঠিকঠাক আছে’ বলে ক্ষমতাসীনরা ক্রমাগতভাবে বলে চলেছে।

সমাজে ‘ভেজালকরণের’ এরূপ সর্বগ্রাসী প্রাদুর্ভাব একদিকে যেমন দেশের সার্বিক রুগ্নতা, বিকারগ্রস্ততা, অপরাধ প্রবণতা ও নৈরাজ্যের জন্মদাতাÑ তেমনই তা হলো সমাজের মধ্যে ঘটতে থাকা গভীর ও সামগ্রিক পচন প্রক্রিয়ার অভিপ্রকাশ বা লক্ষণ। এগুলো মোটেও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া এক-একটি আলাদা ঘটনা নয়। এর প্রতিটিই একই যোগসূত্রে গাঁথা। এগুলো সবই হলো দেশের রুগ্ন হয়ে পড়া অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফলাফল মাত্র।

রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও আজ ‘ভেজাল’ উপাদানে ভরপুর হয়ে পড়েছে। মানুষের পিলে চমকে দেওয়ার মতো প্রায় প্রতিটি গুম-খুন-হত্যা-ধর্ষণের ঘটনাবলির মধ্যেও সে সত্যটি উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। সর্বত্রই দৃশ্যমান হচ্ছে ‘ভেজালের’ বহুমাত্রিক উপসর্গগুলো। দেখা যাচ্ছে, এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে গডফাদার, মাফিয়া চক্র, প্রাইভেট সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী, প্রশাসনের যোগাযোগে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রভা-ার, টর্চার চেম্বার, বাগানবাড়ি, ব্ল্যাকমেইলিং ইত্যাদি। এসবের গোড়ায় রয়েছে অর্থনৈতিক লুটপাটের এক বিশাল আয়োজন। এসব ক্রাইমের সঙ্গে জমিদখল, নদীদখল, বালুমহালের বেআইনি কারবার, স্মাগলিং, মাদক ব্যবসা, ইয়াবা-ফেনসিডিল ব্যবসা, জিম্মি ব্যবসা, নারী ব্যবসা, চাঁদাবাজি ইত্যাদি যে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, সে কথা এখন আর অজানা নয়। এসব অপরাধী চক্র তাদের ‘অপরাধ-রাজত্ব’ প্রতিষ্ঠা করে যাবতীয় ক্রিমিনাল কাজকমের্র মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার প্রাইভেট বাজেটে ‘রাজা’ বনে গিয়ে তাদের ‘স্বাধীন রাজত্বে’ এক ধরনের ‘সার্বভৌম’ শাসন কায়েম রাখতে সক্ষম হচ্ছে। তারা ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের ছায়ার নিচে এসে আশ্রয়-প্রশ্রয় নিচ্ছে। তেমনই আবার তারা সেসব রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে সন্ত্রাসী ক্যাডার সরবরাহসহ নানাভাবে ‘সেবা’ দিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে তাদের রয়েছে অর্থনৈতিক লেনদেনের সম্পর্ক। একদিকে এসব ক্রিমিনাল গ্যাং ও অন্যদিকে প্রশাসনÑ এই দুইয়ের মধ্যে কার হাতে প্রকৃত ক্ষমতা বেশি, তা বলাটা এখন বেশ মুশকিল। এই আয়োজনের নিট ফলাফল হলোÑ অপরাধী চক্রের প্রাইভেট রাজত্ব, তাদের হাতে কল্পনাতীত সম্পদের সমাবেশ, টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের ও বিভিন্ন বাহিনীর একাংশ কর্তৃক ভাড়ায় তাদের হয়ে ‘কাজ’ করে দেওয়া ইত্যাদি। এভাবে একই রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে এ ধরনের অনেক প্রাইভেট ‘ভেজাল রাষ্ট্র’!

এক ধরনের অন্ধকারের জগৎ দেশকে গ্রাস করে ফেলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার ‘ক্ষমতার দ্বন্দ্ব’কে সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে এসব অন্ধকারের শক্তি আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। এই অপশক্তি ‘অন্যথায় অন্যপক্ষে চলে যাব’ বলে দল দুটিকে হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। একই সঙ্গে উভয় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে তারা কব্জা করে নিচ্ছে। এসব অপরাধী চক্র বস্তুত দল দুটিকে দখল করে নিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার জন্য দল দুটিও এসব অপরাধী চক্রকে ‘হাত করার’ মরণ খেলায় মেতে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব মাফিয়া ডন একদিকে হয়ে উঠছে দলের নেতা, আবার অন্যদিকে দলের কিছু কিছু নেতা নিজেরাই মাফিয়া ডন হয়ে উঠেছে। ‘ভেজালের’ জন্মদাতা ও লালনকারী শক্তির মদদে ‘ভেজালের রাজত্ব’ উত্তরোত্তর আরও সর্বগ্রাসী ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়ও লেগেছে ‘ভেজালের’ ছাপ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের খুব সামান্যসংখ্যক ভোটারই ভোট দিয়েছে। ১৫৪টি আসনে কোনো ভোট ছাড়াই এমপিরা ‘নির্বাচিত’ বলে ‘ঘোষিত’ হয়েছিল। এ কথা সবাই জানত যে, সে সময় আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থনে গুরুতর ভাটা চলছিল। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কিছু সময় আগে অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার ঘটনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনে অবশিষ্ট ১৪৬টি আসনেও নগণ্যসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিল। ফলে সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনসমর্থনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাচনের শেষ চার পর্বে যে ‘কারচুপির তামাশা’ চালানো হয়েছিল, তা দিয়েও জনসমর্থনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি পাওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি। অধিকাংশ মানুষ ও পর্যবেক্ষকের ধারণা হলো এই যে, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি কমার বদলে গত ৪ বছরে আরও বেড়েছে। তাই বলা যায়, ‘ভেজাল’ জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতাসীনরা এখন দেশ শাসন করছে। জনসমর্থনের প্রত্যক্ষ অভিব্যক্তি ছাড়া একটি দেশে স্থায়ী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক শাসন চালানো সম্ভব নয়। ‘ভেজালের’ ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনীতির বিপদ সবচেয়ে বেশি আজ এখানেই।

অন্যদিকে বিএনপি সে সময় চেয়েছিল নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগকে সহিংস সন্ত্রাস-তা-ব সৃষ্টির মাধ্যমে উৎখাত করতে। এ জন্য বিএনপিকে জামায়াতের জঙ্গি শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে চলা একটি দলের পক্ষে নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করা যে নিতান্তই একটি ‘ভেজাল’ দাবি, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএনপি তার পক্ষে ইতিবাচক জনসমর্থন সমবেত করতে সমর্থ হয়নি। সরকারকে উৎখাত করা বা মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন বিএনপির নেই। ফলে রাজনীতিতে এখন এক ধরনের ত্রিশঙ্কু অবস্থা চলছে। রাজনীতিতে বিরাজ করতে থাকা এ রকম এক ধরনের শূন্যতা সামগ্রিক ক্ষেত্রে ‘ভেজালের’ শক্তির বিস্তৃতির জন্য সুবিধা করে দিচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে জামায়াতকে ‘ছুটিয়ে’ আনার কৌশল নিয়েছে। সে কৌশলের অংশ হিসেবেই ‘জামায়াত নিষিদ্ধ করার সময় এখনো আসেনি’ বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া, ‘মদিনা সনদ’ অনুযায়ী দেশ চলবে বলে উক্তি করা ইত্যাদি পদক্ষেপ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। জামায়াতকে মূল টার্গেট করে বিএনপিকে কৌশলে তার থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টার বদলে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে মূল টার্গেট করে জামায়াতকে তার থেকে দূরে সরিয়ে নিজের কাছে আনার কৌশল অনুসরণ করছে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই সে নিজেকে বিএনপির চেয়ে বেশি ‘ইসলাম পছন্দ’ দল হিসেবে পরিচিত করে তুলতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এদিকে নানা ধরনের কনসেশন দিয়ে মৌলবাদী হেফাজতকেও সে অনেকটাই হাত করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের লোক দেখানো ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ মধ্যে প্রবেশ করেছে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ ভেজাল। ক্ষমতার বিবেচনার কাছে নীতি-আদর্শের বিবেচনাকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতির নীতি-নিষ্ঠতায় এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে ‘গদির লোভের’ ভেজাল।

বিএনপি চলছে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে। শুধু আদর্শবোধই নয়, ন্যূনতম দেশপ্রেমের প্রশ্নে ‘ভেজাল’ মিশ্রিত না হলে এ রকম অধঃপতন সম্ভব নয়। তার সরকার বিরোধিতার মধ্যেও রয়েছে ভেজাল। প্রচ-ভাবে সরকারবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও লক্ষণীয় যে, সে প্রচ-ভাবে সরকারের ‘গদির’ বিরোধিতা করলেও আর্থ-সামাজিক মূলনীতির প্রশ্নে সরকারের বিরোধিতা করতে সে মোটেও ইচ্ছুক নয়। বরং এ ক্ষেত্রে সে কার্যত সরকারের ‘সমমনা’। দেখা যাচ্ছে, সরকারবিরোধিতার ক্ষেত্রেও এখন চলছে ‘ভেজালের’ কারবার।

রাজনীতিতে ‘ভেজালের’ উপস্থিতির আরও ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা যায়। বস্তুত শুধু উপস্থিতি নয়, রাজনীতির তথাকথিত ‘মূলধারায়’ এখন ‘ভেজালেরই’ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, প্রচারমাধ্যম, শিক্ষা, সাহিত্য, স্বাস্থ্যসেবা, নীতি-নৈতিকতাÑ অর্থাৎ দেশের সর্বত্র আজ চলছে অশুভ ও আত্মঘাতী ‘ভেজালের রাজত্ব’। ফলে দেশের বর্তমান জনগোষ্ঠীর শারীরিক, সামাজিক, নৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ বংশধরদের জীবনও হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, ভেজালের এরূপ সর্বগ্রাসী প্রাদুর্ভাব জাতির অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজালের সর্বব্যাপী বিস্তার ভয়ঙ্কর এক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও রুগ্নতার জন্ম দিয়েছে। নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষয়রোগ আজ সমাজদেহে বাসা বেঁধেছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট স্থাপন করে ফরমালিন মিশ্রিত আম-লিচু-মাছ রাস্তায় ফেলে ধ্বংস করা কিছুটা সম্ভব হলেও নীতি-নৈতিকতাসহ সমাজজীবনে ক্রমপ্রসরমান ভেজালের উৎপাত নিবারণ বা অবদমিত করা শুধু কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের প্রয়াস দ্বারা সম্ভব হবে না। বিচ্ছিন্নভাবে এদিক-ওদিক সংস্কারের মলম লাগিয়ে বা ‘ভেজালহীনতার’ পানি পড়া প্রয়োগ করেও কাজ তেমন একটা হবে না। কারণ ‘রোগ সংক্রামক হলেও স্বাস্থ্য সংক্রামক নয়।’ অবস্থার অবনতি এখন এমন এক চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, একটি বিপ্লবী গণজাগরণ ও সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের চেয়ে কম কোনো কিছুতে এ মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

‘ভেজালের’ রাজত্ব থেকে পরিত্রাণের জন্য তাই এখন ‘দিনবদল’ করাটাই একমাত্র পথ। সে জন্য ঘটাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ‘ভেজালমুক্ত’ নতুন শক্তির অভ্যুদয়! এ কাজে যত বিলম্ব হবে, দেশের সর্বনাশ ততই বাড়তে থাকবে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

selimcpb@yahoo.com

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে