খেলাপি ঋণ

আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ খেলাপি ঋণ-সংস্কৃতির দেশে পরিণত হয়েছে অনেক দিন। এমন সব হাজার কোটিপতি দেশে তৈরি হয়েছেন, যারা মূলত ব্যাংকের ঋণ নিয়ে তা পুনঃতফসিলিকরণ করে বছরের পর বছর শোধ করছেন না। এভাবে ব্যাংকগুলোয় ঋণের পাহাড় জমেছে। বহু মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ইতোমধ্যে অবলোপন করা হয়েছে। তাতে দেশে খেলাপি ঋণ-সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এক ধরনের নব্য ব্যবসায়ী যেন এই সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। আবার হলমার্কের মতো অনেক কেলেঙ্কারির খবরও দেশবাসী জানেন। এভাবেও একেকটা কোম্পানি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছে।

আমাদের সময়ের তথ্যানুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ২০টি কোম্পানি গোটা খেলাপি ঋণের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে তৎপর হতে নির্দেশ দিলেও জনগণ সন্দিহান সে নির্দেশ কতটুকু পালিত হবে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সব ব্যাংকই কমবেশি একই খারাপ সংস্কৃতির খপ্পরে পড়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের মালিকানায় বেশ নাটকীয় কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। মালিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও পরিবর্তন আসছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোয় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। আবার ছয়-সাতটি ব্যাংকে অল্প সময়ের মধ্যে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পর্যায়ে পরিবর্তনের ফলে পুরো ব্যাংকিং খাতেই অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে। এটা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য সুখবর নয়।

বর্তমানে প্রথম প্রজন্মের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, সর্বশেষ প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংকসহ কয়েকটির অস্তিত্ব নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। খোদ অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সম্ভাব্য সমাধান হচ্ছে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাওয়া। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। কিন্তু এই প্রবণতা ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, যা দেশের অর্থনীতির দিক থেকে কাম্য হতে পারে না।

যখন বাংলাদেশ চমৎকারভাবে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, মাথাপিছু আয় ভালোভাবে বেড়েছে। মানুষের ব্যয়ক্ষমতা বাড়ছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ৩ বিলিয়নের ওপরে রয়েছে, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংক বা জনগণের সঙ্গে লেনদেনে লিপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নির্ভরযোগ্যতা হারাতে থাকে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কোনো কোনো ব্যাংক সম্পর্কে মৌলবাদী রাজনীতি ও জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগ ছিল। সেসব ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু হস্তক্ষেপ বা মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় যখন-তখন পরিবর্তনের প্রবণতা মানুষকে ভুল বার্তা দিতে পারে।

তা ছাড়া এ ধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার সুযোগ নেয় এক ধরনের উচ্চাভিলাষী মানুষ। যারা ব্যবসায়ীর ভূমিকায় নেমে ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের চক্রান্তে নামে। এতে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তাও জড়িয়ে যান। এই চিত্র বারবার আমরা দেখছি।

আশা করি, সরকার তাদের শেষ বছরে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগ দেবে। কারণ উন্নয়নের জন্য যেমন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সরকারের দক্ষতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্যও প্রয়োজনীয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে