তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প স্থবির

  বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার গতি বাড়ান

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট চলছে। অনেক সময়ই পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ থাকে না। বাসাবাড়িতেও ঠিকমতো চুলা জ্বলে না। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানকে গুনতে হচ্ছে লোকসান। অন্যদিকে আমাদের গ্যাসের মজুদও ক্রমেই কমে আসছে। এক কথায়, গ্যাসের অভাবে দেশের সার্বিক আর্থিক অগ্রগতিই ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে নতুন নতুন কূপ খননের পাশাপাশি দেশের সম্ভাব্য স্পটগুলোয় জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার; কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোর মুখ দেখেনি। আমরা বরাবর লক্ষ করছি, কিছু গাফিলতির কারণে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে শেষ হয় না। আমাদের সময়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও অধিকাংশ প্রকল্পের অগ্রগতি চরম হতাশাজনক। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রকল্পের অগ্রগতি ৫ শতাংশের মধ্যে। ফলে চলতি বছরের জুনের মধ্যে ৫ হাজার ২২৭ বিসিএফ গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধি এবং প্রায় ১৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার যে পরিকল্পনা ছিল, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পিছিয়ে গেছে ছয় হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানে দ্বিমাত্রিক জরিপের কাজ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে জ্বালানি বিভাগের চিঠিতে।

আমরা মনে করি, প্রকৃতপক্ষে কী কী কারণে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গতি পাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ এসব প্রকল্পের সঙ্গে দেশের আর্থসামাজিক নানা বিষয়ের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। গ্যাসের অভাবে দৈনন্দিন জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে