• অারও

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

কার্যকর ব্যবস্থা নিন

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকিং খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত। এখানে পুঁজিবাজার, বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেটÑ আর্থিক খাতের এসব অংশ তেমন শক্তিশালী নয়। গত তিন দশকে বাংলাদেশে অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকিং খাতেরও বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু সেই বিকাশ যে সুস্থধারায় প্রবাহিত হয়নি, তার প্রমাণ ১৩টি ব্যাংকের বেহাল অবস্থা।

একের পর এক কেলেঙ্কারি ঘটেছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ সীমা ছাড়িয়েছে, কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহকদের আস্থা হারিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণ বারবার পুনঃতফসিলিকরণ এবং নতুন ঋণ মঞ্জুর করে পুরনো খেলাপি ঋণ ‘অ্যাডজাস্ট’ করে নেওয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হলে খেলাপি ঋণের দুষ্টচক্র থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব প্রকট। প্রত্যেক সরকারের সময় আমরা খেয়াল করে আসছি, ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণের হাতিয়ার ব্যবহারে যতটা উৎসাহী, খেলাপি ঋণ আদায়ে ততটাই নিরুৎসাহী। খেলাপি ঋণের কারণেই ব্যাংকের সুদের হারও কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

এর দায় অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে আইনের সীমাবদ্ধতা যেমন আছে, তেমনি নজরদারির ঘাটতিও আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অসততার অভিযোগ পাওয়া গেলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ নেই। রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থও তারা উদ্ধার করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটিই যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তবে প্রতিষ্ঠানটি অন্যের দুর্নীতি-অনিয়ম কীভাবে ধরবে? এ অবস্থায় সরকারের উচিত ব্যাংকিং খাতের সংকট উত্তরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে