জি-৭ সম্মেলন

ট্রাম্পের নাটকীয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি আছে

  অনলাইন ডেস্ক

১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চূড়ান্ত বিবৃতিতে বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষর ছাড়াই শিল্পোন্নত ৭টি দেশের সংস্থা জি ৭-এর বৈঠক শেষ হলো। কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের দুদিনের বৈঠক শুরুও হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার অন্য মিত্র দেশের মতবিরোধের মধ্য দিয়ে। জি ৭-এর অন্তর্ভুক্ত সাতটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও জার্মানির নেতাদের মধ্যে সবার শেষে পৌঁছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দোহাই দিয়ে কানাডা ছেড়েছেন সবার আগে। বিমান থেকে টুইটে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের সম্মেলনের ঘোষণায় স্বাক্ষর দিতে নিষেধ করেছেন।

জি-৭ কিছুদিন আগেও ছিল জি-৮। কিন্তু ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অভিযানের অজুহাতে এর ইউরোপীয় অংশীদাররা ২০১৪ সালে রাশিয়াকে এ দল থেকে বাদ দেন। ট্রাম্প মনে করেন বিরোধ সত্ত্বেও বাস্তবতার নিরিখে রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনা উচিত। এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি কঠোরভাবেই বিপক্ষে রয়েছে। এ ছাড়া ন্যাটোর বর্তমান ভূমিকা, ইরান চুক্তি বাতিল ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্যারিস ঘোষণা ইত্যাদি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ বেড়েছে। এসবই ট্রাম্প জামানার নতুন ঘটনা। তবে অতিসম্প্রতি চীনকে শায়েস্তা করতে গিয়ে ইস্পাত ও অ্যালুমিনয়াম সামগ্রীতে ট্রাম্প ব্যাপক শুল্ক আরোপ করায় প্রতিবেশী কানাডাসহ জি ৭-এর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূতিয়ালি করেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। উল্টো ট্রাম্প টুইটারে ট্রুডোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের ওপর কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্ক হার নিয়ে তার ক্ষোভ ট্রাম্প গোপন করেননি। আবার ট্রুডোও ট্রাম্পের একতরফা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ১ জুলাই থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

বড় ধনী দেশগুলোর এই চাপানউতোরের মধ্যে এবারের সম্মেলনে আমন্ত্রিত উন্নয়নশীল দেশের নেতাদের মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন। তিনি এই বিশ্ব মঞ্চটিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগ ও শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের প্রতি ধনী দেশগুলোর মনোযোগ আকর্ষণে কাজে লাগিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যু তুলে ধরে পলিথিন ও সমুদ্র দূষণ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রমেই বিশ্ব রাজনৈতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটা আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়। জি-৭ সম্মেলন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ততটা সফল না হলেও বাংলাদেশ তার সাম্প্রতিক উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে সেটাই বড় কথা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে