ধর্ম

হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম লাইলাতুল কদর

  মাহমুদ আহমদ

১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ পবিত্র মাহে রমজানের নাজাতের দশকের ষষ্ঠ রোজা। আমরা জানি, নাজাতের এ দশকে বিশেষ এক রাত অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের কথা রয়েছে। লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত, যার সঙ্গে কোনো রাতের তুলনা হয় না। বসন্ত মৌসুমে ফুটন্ত ফুলের সমারোহ থেকে মধু আহরণ করে মৌ-মক্ষিকা যেমন সেই মৌসুমকে সার্থক করে, তেমনিভাবে একনিষ্ঠ চিত্তের খোদা প্রেমিকরা রমজানে নিবেদিত ইবাদত গোজারের মাধ্যমে জীবনোদ্দেশ্যকে সার্থক করে এবং আবিষ্কার করে নেয় রমজানের সেই রাতটিকে। মহান এ রাত সম্পর্কে আল্লাহপাক তার পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং তোমাকে কিসে অবহিত করবে যে, লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। ওই রাতে ফেরেশতারা এবং কামেল রুহ সব তাদের প্রতিপালকের হুকুম অনুযায়ী যাবতীয় বিষয়সহ নাজেল হয়’ (সুরা কাদর)। একটু ভেবে দেখুন, আল্লাহপাক নিজে এ রাতের কল্যাণ ও বরকত বর্ণনা করছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো এ মহিমান্বিত রাতকে লাভ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা সাধনা করা। এ রাত কখন আসে, কীভাবে আসে এবং কেমন আরাধ্য আত্মার কাছে মহিমান্বিত এ রজনী ধরা দেয়, সে বিষয়ে আমাদের অবগত হতে হবে।

হজরত রাসুল পাক (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের জীবনে আগত প্রতিটি রমজানের শেষ দশকের কোনো এক বেজোড় রাত্রিতে এ সম্মানিত রজনীকে সন্ধান করো’ (বোখারি)। অর্থাৎ রমজানের ত্রিশটি দিবস অসম্ভব কঠোর সাধনায় অবিরাম আরাধনার পর এ মাসের প্রায় শেষ প্রান্তে এসেই কেবল একজন আরাধক তার কাক্সিক্ষত রাতের সন্ধান লাভ করতে পারে। আর এটাই হলো রমজানের নিবিড় ইবাদতের মর্মকথা। নদীর জলের মাছগুলো যেমন জেলের ছড়ানো জলের শেষ প্রান্তে এসে জমা হয় তেমনিভাবে রমজানের যতসব কল্যাণ তার সবটুকুই সে মাসের শেষ দশকে এসে সঞ্চিত হয় আর সেই অংশের কোনো বেজোড় রাত্রিতেই আত্মগোপন করে থাকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম ওই রজনী, ঐশী জগতে যার নাম ‘লাইলাতুল কদর’।

তাই আসুন! রমজানের এ শেষ দিনগুলোতে সবাই সিয়াম সাধনায় নিবিড়চিত্তে নিবেদিত হয়ে সেই মাহাত্ম্য আহরণে মত্ত হই, যার মাঝে প্রকৃত সুখ নিহিত। এই শেষ দশকেই আল্লাহতায়ালা আমাদের আত্মার নাজাতের প্রতিশ্রুতিসহ লাইলাতুল কদরের উপহার রেখেছেন। এমনিভাবে বিভিন্ন ইবাদতে খোদা মানুষের আত্মার মঙ্গলার্থে নানান উপায়ে মজুদ রেখেছেন তার অনন্যসব অবদান। এসব ব্যবস্থা মানুষের প্রতি খোদার অনুকম্পা প্রদর্শনেরই প্রমাণ। তাই আমাদের উচিত হবে খোদা সকাশে ধরনা দিয়ে সেসব অনুকম্পা আহরণ করা। নচেৎ জীবন হবে মূল্যহীন।

হে আমাদের পরম প্রিয় করুণাময় খোদা! তুমি আমাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করো এবং রমজানের সব কটি নেয়ামত আমাদের প্রত্যেককে দান করো আর তোমার নাজাত থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না। কেননা তুমি রহমান ও রাহিম, পরম দাতা ও দয়ালু, আমিন।

য় মাহমুদ আহমদ : ইসলামি গবেষক ও কলাম লেখক

[email protected]

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে