sara

নির্বাচন কমিশনের জন্য কিছু কথা

  ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের এযাবৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নানাবিধ কারণে জটিলতায় ভরপুর। এর আগে বাংলাদেশের কোনো সংসদ নির্বাচন দশ বছর ক্ষমতায় থাকা এমন শক্তিধর দলীয় সরকারের অধীনে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিপরিষদ এবং ৩৫০ জন সংসদ সদস্য বহাল থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়নি।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রাক-নির্বাচনী এমন জটিল এবং চমকপ্রদ জোটের (সম্ভাব্য) নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনী মাঠে রয়েছে একাধিক জোট, যার মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ঘিরে যে জোট গড়ে উঠেছে তার গঠন প্রক্রিয়া এবং শরিকদের রাজনৈতিক দর্শন বলতে আলাদা করে দেখার কোনো উপায় নেই।

দুই জোটের গঠন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে তথাকথিত ধর্মীয় দল থেকে কথিত বামদের সমাগম। এমনকি এবারই প্রথম উভয় জোটেই সমাগম ঘটেছে সাবেক সামরিক সদস্য, যার মধ্যে সরকারি দলের পাল্লা ভারী। সংক্ষেপে এই দুই দলের মধ্যে দার্শনিক তফাত খুঁজে বের করা এক দুরূহ কাজ। এবারই উভয় জোটের এবং দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের সময় যে উন্মাদনা লক্ষিত হয় তেমন এর আগের কোনো প্রাক-নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়নি। ইতোমধ্যেই দুই দলের বা জোটের প্রাথমিক মনোনয়ন প্রদান নিয়েও জটিলতা দৃশ্যমান হয়েছে।

কোথাও কোথাও দলের মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে সহিংসরূপে। তথাপি সংক্ষেপে বলা যায়, শুধু জটিলতাই নয় আগামী নির্বাচন বাংলাদেশ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের বিগত নির্বাচন কমিশনগুলোর, বিশেষ করে ১৯৯০ সালের পরের কমিশনগুলোর কোনো কমিশনকেই মুখোমুখি হতে হয়নি।

এবারের নির্বাচন কমিশনের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে সেগুলোর মুখোমুখি হয়ে এবং সঠিক নির্ণয় নিতে পারলে হয়তো মোটামুটি একটি ভালো নির্বাচনের আশা করা যায়। তবে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান এবং আইন দ্বারা যে ক্ষমতা দেওয়া আছে তা যদি সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যা হালে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে নিতে দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোতে প্রকাশিত বরিশাল নির্বাচন নিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের রিপোর্টের সারাংসের উদাহরণ দেওয়া যায়। ওই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম এবং নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের নিরাপত্তা সদস্যদেরসহ পক্ষপাতিত্ব বা নির্লিপ্ততা যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদন থেকে এ বিষয় নিশ্চিত যে, নির্বাচন কমিশন তাকে প্রদত্ত ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারেনি অথবা কোনো কারণে করতে চায়নি।

বরিশালের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনটি যখন কমিশনের সর্বসম্মতিক্রমে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল (ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে) সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক না হলেও পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে পারত। সে ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের ১১৯ ধারায় দেওয়া রয়েছে। ওই ধারার আওতায় নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান বা প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। এ প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রিমকোর্টের একটি রায়ে যা নির্বাচন কমিশনের অগাধ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

১৯৭৭ সালে ভারতের লোকসভার সংসদ নির্বাচনকালে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সংসদীয় আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপির কারণে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সংসদীয় এলাকার নির্বাচন বাতিল করে। এই বাতিলের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতে মামলা করেন (মহিন্দর সিং গিল ও অন্যান্য বনাম নির্বাচন কমিশন : এআইআর ১৯৭৮ এসসি ৮৫১)।

মামলার আরজিতে বলা হয়, যে কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগ এবং ভোট কারচুপি হয়েছিল সেগুলো বন্ধ না করে নির্বাচন কমিশন এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সম্পূর্ণ সংসদীয় এলাকার নির্বাচন বন্ধ করাতে প্রার্থীর অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই মামলার নিষ্পত্তি করে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট যে রায় দিয়েছিল সেটি ছিল যুগান্তকারী এবং ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ ধারার আওতায় অবাধ ক্ষমতা দেওয়ার ব্যাখ্যা। ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়, নির্বাচন কমিশন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তার যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, অবশ্যই ওই ক্ষমতা সংবিধান অথবা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। কাজেই নির্বাচন কমিশনের সব ক্ষমতা যে লিখিত আকারে রয়েছে তেমন নয়। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।

ভারতের সংবিধান অনুরূপ আমাদের সংবিধানের ধারা ১১৯ একই ভাষায় প্রণীত। এ ধারাবলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনেরও অনুরূপ সীমাহীন ক্ষমতা (চষবহধৎু ঢ়ড়বিৎ) দেওয়া রয়েছে। ভারতের অনুরূপ বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ২০০৫ সালের একটি মামলার নিষ্পত্তিকালে (আব্দুল মোমেন চৌধুরী ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য : রিট ২৫৬১ আগস্ট ২৪, ২০০৫) সংবিধানের ধারা, ১১৯ (১)-এর অবাধ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কাজেই শুধু নির্বাচন চলাকালে নয়, নির্বাচনের দিনের আগে এবং পরে নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে যে কোনো এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় সে ক্ষেত্রে ওই নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

এরই আওতায় বরিশালের নির্বাচনের ওপর নির্বাচন কমিশনারের তদন্ত এবং কমিশনের একমত হওয়ার প্রেক্ষিতে (একটি জাতীয় দৈনিক; গায়েবি মামলা গায়েবি আওয়াজ নয়) ওই নির্বাচনটি বাতিল করে নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থার সঙ্গে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারত তার সুফল আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পরিলক্ষিত হতো। ১৯৯৪ সালে একই কাজ মাগুরা উপনির্বাচনকালে ওই সময়কার নির্বাচন কমিশন করলে হয়তো আজকের এমন রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হতো না। অবশ্য এখন সে চর্চা ঐতিহাসিক ‘যদি’র মতো মনে হতে পারে। তবে হয়তো বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে।

নির্বাচন কমিশন এ সময় একটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি যেহেতু ইতোমধ্যেই আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণের যে ধরন দৃশ্যমান তা অতীতে দেখা যায়নি। ইতোমধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রায় পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যু এবং বহু লোক হতাহত হয়েছে। এ হানাহানি অবশ্যই নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক। এগুলোর বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারিই নয়, নির্বাচনী আইনভঙ্গ করে ব্যাপক শোডাউন বা শক্তি প্রদর্শনের মতো গর্হিত কাজের বিরুদ্ধেও কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ছোটখাটো বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ধর্তব্যে না নেওয়াটা উচিত হবে না।

কোনো নির্বাচনই অতীত নির্বাচনের মতো ভালো বা খারাপ হবে বা অনুরূপ ব্যবস্থাপনার ছকে হবে তেমন ভাবার অবকাশ নেই। সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের আওতায় রাখতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে যেমন দায়িত্ব নিতে হবে, তেমনি নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনার (গরপৎড় গধহধমবসবহঃ) দিকে নজর দিতে হবে। এই ব্যবস্থাপনার ছক, তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতেই রাখতে হবে। কোনো ব্যত্যয় শুধু রিটার্নিং অফিসারের ঘাড়ে চাপালেই হবে না, নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত নির্ণয় নিতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ওপরে উল্লেখিত ঘটনার বিষয় রিটার্নিং অফিসারের প্রতিবেদনের অপেক্ষা না করে পত্রপত্রিকার রিপোর্টকে আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন স্বীয় উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারে এবং নিতে হবে। লিখিত অভিযোগের অজুহাত মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ মৌখিক, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত অথবা দৃশ্যমান সর্বক্ষেত্রেই আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে এসব অভিযোগ খ-ন অথবা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত অবশ্যই জনসমক্ষে উন্মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

ভেবেছিলাম নির্বাচন কমিশনের আরও কিছু করণীয় নিয়ে সম্পূর্ণ লেখাটাই শেষ করব কিন্তু মনোনয়ন বাতিল নিয়ে, পত্রপত্রিকা এবং টেলিভিশনে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে সে রকম এর আগে দেখা যায়নি। সব পত্রপত্রিকার সারাংশ হলো যে, প্রাথমিক বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিলের মধ্যে প্রায় ৯০ জনের মতো বিএনপির এবং আওয়ামী লীগের কথিত বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন। বাতিলের ফলে ছয়টি আসনে বিএনপি প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে, যদিও এসব আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছিল। বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরে মেলেনি অথচ পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী মির্জা ফখরুল নিশ্চিত করলেও তা গৃহীত হয়নি। এ ধরনের খবরই পত্রপত্রিকায় উঠে আসছে।

একটি জাতীয় দৈনিক (৩-১২-১৮)-এর শিরোনাম ছিল ‘মনোনয়ন বাতিলের রেকর্ড’ আরেকটি পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘চারজনে একজন বাতিল’। কারণ বাতিলের হার ২৫.৬৪ শতাংশ। তবে এই বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং তার পরও রয়েছে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ। তবে লক্ষণীয় হবে যে, আপিলে কতসংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত হবেন এবং নির্বাচন কমিশনের শুনানির পর কতজন বৈধতা লাভ করেন এবং তারা কোন দলের প্রার্থী।

আপিল শুনানিতে যদি কোনো রিটার্নিং অফিসারের গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুল পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে কমিশনকেই স্বচ্ছভাবে তার অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই উপমহাদেশে বাংলাদেশ অন্যতম, যেখানে নির্বাচন কমিশনকে এ ধরনের শুনানির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভারতে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হাইকোর্টে গৃহীত হয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর। সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত যদি ভুল হয়ে থাকে তাতে পুরো নির্বাচন (সংসদীয়) বাতিল ঘোষিত হয় এবং পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

যাহোক প্রাথমিক বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিল এবারই প্রথম তা কিন্তু নয়। ২০০৮ সালে (আমার তথ্য অনুযায়ী) ২৫৪২ জনের মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৫৬৭ জনের, যাদের মধ্যে ৮৯ স্বতন্ত্রসহ ৩৯৮ জন আপিল করেছিল, যার মধ্যে ১২৪ জন বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বৈধ হন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই রিটার্নিং অফিসারদের আইনের ব্যাখ্যাজনিত কারণে। শুধু একজনের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। স্মরণযোগ্য যে, ওই সময়ই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

ছোটখাটো ক্রটির জন্য বাতিল না করার নির্দেশ দিয়ে কয়েকটি ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ওই সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছিল আদালত কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত ও ঋণখেলাপি এবং বিলখেলাপির কারণে। পত্রিকার খবরান্তে জানা যায়, এবারও ঋণখেলাপির সংখ্যাই বেশি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত হতে হবে।

২০০৮ সালে প্রথম বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত হয়েছিল, এ ক্ষেত্রে ৮৯ আপিল গৃহীত হয়েছিল এবং কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিলও করা হয়েছিল। পরে আরও ১৭ জন প্রার্থী আদালতের রায়ের কারণে এমন সময় যুক্ত হয়েছিল যখন আমাদের প্রায় ২৮ লাখ ব্যালট পেপার পোড়াতে হয়েছিল নতুন ব্যালট পেপার তৈরি করতে। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদালতের প্রতি পরোক্ষভাবে হতাশা ব্যক্ত করায় উচ্চ আদালত কর্তৃক আপিল শুনানি বন্ধ হয়েছিল। ওই সময় বাতিলের কারণে প্রধান দলগুলোর কোনো আসনে প্রার্থী শূন্য হয়নি।

ওই সময়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং হিউম্যান রাইটস থেকেও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আমরা প্রতিটি আপিল ধৈর্যসহকারে শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেককে চাহিদামতো রায়ের কপি দেওয়া হয়েছিল, যাতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন।

আমি এই সংক্ষিপ্ত বিবরণ এ কারণে দিলাম, কারণ নির্বাচন কমিশনের কাছেই আপিল আসনে এবং নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। কাজেই নির্বাচন কমিশনকে নির্মোহভাবে শেষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুনানি হতে হবে প্রকাশ্যে এবং পরিচ্ছন্নভাবে। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারদের কোনো গাফিলতি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাতিল হয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

সন্দেহ নেই যে, নির্বাচন কমিশন এক জটিল পরিস্থিতি এবং কঠিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে। কাজেই বেলাশেষে সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর বর্তাবে। দৃশ্যত মনে হয়, নির্বাচন কমিশন একটি ভালো নির্বাচনের আশা করে কিন্তু সে আশা বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হলে সময় থাকতেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার সঙ্গে সুবিচারের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হোক মনোনয়ন প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে, তাদের সঠিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে ভবিষ্যৎ সংকটের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। অন্য কেউই তাদের ব্যর্থতার অংশীদার হবে না।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন : সাবেক নির্বাচন কমিশনার, কলাম লেখক ও বর্তমানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এসআইপিজি-এর সম্মানিত ফেলো

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে