ক্ষমতাসীন দলে কোন্দলে ঝরছে রক্ত

কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

  অনলাইন ডেস্ক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নতুন নয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, নির্বাচনের প্রথম দফা তফসিল ঘোষণার পর গত ২৬ দিনে দলটির ১২ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। কেন্দ্রের কড়া অবস্থানের পরও নিয়মিতই নিজেদের রক্ত ঝরাচ্ছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতার রাজনীতিতে বিভোর। আদর্শ প্রায় অনুপস্থিত। ফলে তারা যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে বদ্ধপরিকর। দলে গণতন্ত্রচর্চার মতো যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য, সেগুলো থেকে তারা অনেক দূরে।

ফলে সবাই পদ চায়, চায় ক্ষমতা সেজন্য জনকল্যাণে রাজনীতির চর্চা এখন সীমিত। রাজনৈতিক দলের কর্মীর হাতে খুনের এ সংস্কৃতি কোনো সভ্য দেশে চলতে পারার কথা নয়। কিন্তু দিন দিন এটাই আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধারালো অস্ত্রপাতি নিয়ে তারা পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এর আগেও আমরা দেখেছি এসব কোন্দলের ঘটনা তদন্তেই আটকে থাকে। অবশ্য তদন্তের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রতা তো আছেই। ফলে শাস্তির ভয় না থাকায় অপরাধীরা ক্রমেই বেশি করে অপরাধ সংঘটনে উৎসাহী হচ্ছে। সাধারণভাবে সব আমলেই আমরা দেখে আসছি, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ফৌজদারি অপরাধ সংঘটন করেও অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে এক ধরনের ছাড় পান। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও যদি এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে তা একটি পক্ষপাতদুষ্ট পরিস্থিতি হিসেবেই বিবেচিত হবে। ফলে এ ধরনের ঘটনায় এখন নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত। নয়তো জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সব ধরনের সংঘাত-সহিংসতা। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে