ইতিহাসের এই দিন, এই দিনের ইতিহাস

প্রকাশ | ১০ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৫০

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

আজ ১০ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মাটি স্পর্শ করেন, বিজয়ী নেতা হিসেবে তিনি তার জনগণের মধ্যে ফিরে আসেন, জনগণ তাকে এক ঐতিহাসিক সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করে, একইভাবে তিনি তার জনগণকে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি রূপকল্প প্রদান করেন। কাকতালীয়ভাবে জায়গাটি ছিল একই ময়দানে- যেখান থেকে তিনি এক বছর আগে তখন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার কল্পনা গোটা জাতির কাছে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি তার কল্পনার বাস্তবতাকে বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করলেন, যে দেশটি হবে ফেলে আসা পাকিস্তান থেকে চরিত্রগতভাবে একেবারেই আলাদা অর্থাৎ উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে ময়দানটির নাম ছিল রেসকোর্স, ১৯৭২ সালে গণতন্ত্রের মানসপুত্র সোহরাওয়ার্দীর নামে সেটির নামকরণ করা হয়। অন্য কোনো দেশে হলে হয়তো স্বাধীনতার প্রধান নেতার নামেই ময়দানটি অভিষিক্ত হতো কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক গুরুকেই বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পরবর্তী সময়ে এই নামকরণটি করলেন। সেই থেকে ঐতিহাসিক এমন স্থানটির নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামেই পরিচিত হতে থাকে। এখানেই ১৬ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তান বাহিনী শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণও করে। জাতির ইতিহাসে স্থানটি নানাভাবে মহিমান্বিত, বিনম্র শ্রদ্ধা এবং প্রেরণার একমাত্র জায়গায় পরিণত হলো।

আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে তখন এই জায়গায় ১০ জানুয়ারি দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে জনসভার আয়োজন করে থাকে। যখন ক্ষমতায় থাকে না তখন অন্য কোথাও পরিস্থিতি মোতাবেক আয়োজন করে থাকে। অন্য কোনো দল দিনটিকে সেভাবে স্মরণ কিংবা পালন করে না। যদিও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে অনেকেই নিজেদের দাবি করে থাকে কিন্তু ১০ জানুয়ারি সম্ভবত তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বাইরের ঘটনা। তাদের বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধ ২৬ মার্চ শুরু হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটেছে। একইভাবে ৭ মার্চকেও তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বাইরে রাখেন, ১০ জানুয়ারি তো তাদের বিবেচনায় অনেক পরের ঘটনা, বঙ্গবন্ধুকেও এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতহাস থেকে বাইরে রাখার, দেখার ও দেখানোর মানসিকতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ৭ মার্চ ও ১০ জানুয়ারি নিয়ে তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের চুপচাপ থাকার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দিন দুটিকে আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির বিষয় হিসেবে দেখানোর মানসকিতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকেও আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হিসেবে দেখানোর চিন্তা কাজ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে বাঙালির ঈর্ষাপরায়ণতা, কাতরতা, ইতিহাসমুখিনতা এবং অস্বীকার করার হীননির্লজ্জ মানসিকতার প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধু দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা হলেও স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রাণপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনিই। তাকে কেন্দ্র করেই সংগ্রাম, আন্দোলন, দিকনির্দেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তাই ৭ মার্চ ও ১০ জানুয়ারি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ৭ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন, অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, অর্থাৎ গোটা জাতিকে তিনি স্বাধীনতা লাভের জন্য প্রস্তুতি নিতে ডাক দেন। তিনি যদি হুকুম দিবার নাও পারেন তা হলেও শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এমন স্পষ্ট কথাই ছিল দিকনির্দেশনা হিসেবে। শেষ পর্যন্ত ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন জনগণের বুঝতে বাকি থাকেনি, কখন কী করতে হবে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের রূপকল্প এবং নির্দেশনা, গোটা মুক্তিযুদ্ধ দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত সেভাবেই পরিচালিত হয়েছিল। পাকিস্তানের কারাগারে ফাঁসির আসামি হিসেবে বন্দিজীবন কাটালেও দেশে-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ছিল মুজিব সরকারের নাম। ফলে পাকিস্তান ছিল পূর্ববাংলা থেকে বিতাড়িত হওয়ার অপেক্ষায়, আন্তর্জাতিকভাবে ধিকৃত, বঙ্গবন্ধুকে স্পর্শ করার সাহস তাই পাকিস্তান হারিয়ে ফেলে। মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতার মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ এবং এর নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-এর বছরজুড়ে ছিলেন পৃথিবীর প্রধান আলোচনার বিষয়ে, ভাবাবেগের জায়গায়।

১৬ ডিসেম্বর অবশেষে পাকিস্তানের জল্লাদ বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে আবির্ভূত হয়, পৃথিবীতে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হলো বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে, রক্ত ও ধ্বংসযজ্ঞকে বরণ করে পৃথিবীব্যাপী অভূতপূর্ব এক মর্যাদার আসন সৃষ্টি হলো নতুন এই দেশটির এবং এর প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য ততদিনে পাকিস্তান হারিয়ে ফেলে তার সব শক্তি এবং নৈতিক অধিকার স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলার। সেই দেশের নেতার প্রতি কোনো অন্যায় আচরণ করার প্রশ্নই তখন আর কাজে আসেনি। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিজয় যথেষ্ট নয়, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ছাড়া জনগণ স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবে না। তখন বাংলাদেশের হাতে আটক ছিল পাকিস্তানের ৯৪ হাজার বন্দি সেনাবাহিনী। পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই। তাই ৮ জানুয়ারি তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলো পাকিস্তান সরকার। বঙ্গবন্ধু প্রকৃতই সরকারপ্রধানের মর্যাদা পেলেন লন্ডনে, ব্রিটিশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গোটা ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দিলেন। অবশেষে ১০ তারিখ তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দরে পা রাখলেন, গোটা বাংলাদেশ তাকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাসে নেচে উঠল, গ্রামগঞ্জে সর্বত্র সাধারণ মানুষ আনন্দে নেচে উঠেছিল, ঢাকা শহর উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল, রেসকোর্স ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলে দিলেন নতুন রাষ্ট্রের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা। বললেন, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদের কথা যা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার আদর্শ হিসেবে তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিবেচিত হচ্ছিল। একই সঙ্গে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, কারো প্রতি শত্রুতা নয়, এমন নীতিরও ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটাকে দ্রুত গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন। মনে রাখতে হবে, সেদিন বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার গুরুত্ব নতুন রাষ্ট্রের যাত্রার শুরুতে অতীব জরুরি ছিল। বাংলাদেশ একটি উদারবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে গড়ে ওঠার দিকনির্দেশনা পায় তার কাছ থেকে। সেই সময় এমন একটি কণ্ঠস্বরের প্রয়োজনীয়তা কতটা প্রবল ছিল তা যুদ্ধফেরত বাস্তবতার ইতিহাসবাদের জানা আছেÑ তারা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। সবচেয়ে যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মনে রাখতে হবে তা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সেই সময় ফিরে না আসতে পারলে অথবা আগেই যদি পাকিস্তান সরকার তার জীবনের ওপর কোনো আঘাত আনত তাহলে বাংলাদেশে বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অধিকন্তু মুক্তিযুদ্ধকালের সরকারের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অস্বাভাবিক ছিল না। যুদ্ধের সময় সব পক্ষেরই অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকে। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অনেক কিছুই বদলে যায়। যুদ্ধফেরত অনেকেরই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে তার প্রিয় নেতার নির্দেশ কেবল টনিকের মতো কাজ করে থাকে। বঙ্গবন্ধু যখন অস্ত্র জমাদানের আহ্বান জানান তখন হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র সমর্পণ করেন। এটি বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতির কারণেই সম্ভব হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এমন বাস্তবতা মোকাবিলা করা কতখানি সম্ভব হতো বলা কঠিন। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান অনেক ক্ষেত্রে বেশ সহজ হয়েছে। বিশেষত ভারতীয় বাহিনীকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি মোটেও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব, দৃঢ়তা ও স্বাধীনচেতা অবস্থান ভারত সরকারের কাছে স্পষ্ট ছিল। ফলে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধ সাদরে ভারত সরকার গ্রহণ করে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন মাত্রা লাভ করে। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে উঁচু জায়গায় তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশ স্বীকৃতি প্রদান করতে থাকে, অনেকেই উদারভাবে সাহায্য এবং সহযোগিতা প্রদান করতে এগিয়ে আসে। তখন বাংলাদেশের হাতে না ছিল বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, না ছিল অভ্যন্তরীণ সম্পদ, অধিকন্তু এক কোটি উদ্বাস্তুর পুনর্বাসনসহ রাস্তাঘাট, কালভার্ট, পুল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সাহস ও দৃঢ়তা অনেকাংশেই হোঁচট খেতে পারত। বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি তার জনগণের মধ্যে ফিরে আসার কারণে একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণতা পেল, নতুন করে হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার কোনো ষড়যন্ত্র অগ্রসর হতে পারেনি, অন্যদিকে শত বাধা-বিপত্তি, ধ্বংসস্তূপ, হত্যাযজ্ঞ, মানুষ হারানোর বেদনার পরও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী একটি সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে পেরেছে। বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছর দেশ শাসন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার পরও বঙ্গবন্ধু নতুন সংবিধান, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, নতুন শিক্ষানীতি, নতুন নির্বাচনসহ অনেক কিছুই দিতে পেরেছিলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি, ব্যাপক সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতি ছিল। সে সবই সম্ভব হতো যদি ১৯৭২-এর সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনীয় সময় তিনি পেতেন। তিনি শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে গেলে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী তাকে হত্যার পথ বেছে নেয়। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে তাই ঘটে। অভিজ্ঞতা বলে, বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী বাংলাদেশ দীর্ঘদিন চলেছিল পাকিস্তানের ভাবাদর্শে, কেবল ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত চলছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের কাছে-ধারে, পুরোপুরি চলতে অনেক কিছুই ঢেলে সাজাতে হবে। সে জন্য একদিকে কর্তব্য নির্ধারণ করতে হবে, অন্যদিকে সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সে জন্যই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গতায় বুঝতে হবে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সেভাবে ঢেলে সাজাতে হবেই। তবেই বাংলাদেশে রাষ্ট্র হবে আধুনিক কল্যাণ ও মানবতাবাদী। সেটিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চলার পথ হওয়া উচিত। আজকের দিনটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য এক পর্ব, বঙ্গবন্ধু সেই ইতিহাস গড়ার রূপকার, ১০ জানুয়ারি তিনি ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি টানলেন, শুরু করলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার ইতিহাসের নতুন পর্বের যাত্রা। সেই পর্বের সূচনাও তিনিই করে গেছেন এই দিনে।

আজকের দিবসটি পালনকালে ইতিহাসের এমন সমগ্রতা নিয়েই আমাদের বসতে হবে, তবেই পাওয়া যাবে পথের সন্ধান।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, কলাম লেখক