ভুলে ভরা পাঠ্যবই

জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ক্ষমার অযোগ্য

  অনলাইন ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

 

 

কয়েক বছর ধরে দেশে পাঠ্যবইয়ে অব্যাহতভাবে ভুল ধরা পড়ছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু ভুল নয়, প্রশ্ন উঠেছে এসব বইয়ের ছাপার মান নিয়েও। চলতি বছর সরকারের বিতরণ করা প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে ভুলভ্রান্তি এবং অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এ প্রসঙ্গে দেশের বিশিষ্টজনরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিষয়টি সত্যিই জাতির জন্য হতাশাজনক।

আমাদের সময় সংবাদসূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির সঙ্গে সরকারের আপস-রফার চূড়ান্ত বহিপ্রকাশ ঘটেছে অভিযোগ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ৮৫ ব্যক্তি। তারা অবিলম্বে ভুলে ভরা পাঠ্যবইগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান এবং বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পাঠ্যপুস্তকে দলীয়করণ ও তোষামোদী করার অভিযোগ তুলে এরও নিন্দা জানান বিশিষ্ট ওই ব্যক্তিরা। শুধু বিশিষ্টজনদের নয়, সবারই প্রশ্নÑ কোমলমতি শিার্থীদের যদি ভুল শিায় বুনিয়াদ গঠন করা হয়, তা হলে ভবিষ্যতের দায় কে নেবে? বিশেষ করে চলতি বছরের পাঠ্যবইগুলোয় বানান ও তথ্যগত বিকৃতি, বাক্য গঠনে ভুল এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ পুরো জাতিকে হতাশ করেছে। বিশিষ্টজনদের মতে, ১ ও ২ নম্বর ভুলগুলো সঠিক পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে হচ্ছে। কিন্তু তৃতীয় ভুলটি পরিকল্পিত। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। শিশু-শিক্ষা নিয়ে এমন খামখেয়ালি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শিশু শিার্থীদের নিয়ে এমন পরিকল্পিত খেলা কার স্বার্থে?

অবশ্য নতুন পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চলা তীব্র সমালোচনার পরিপ্রেেিত এগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করেছে জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কিন্তু কমিটি গঠন ও কর্মকর্তাকে ওএসডি করাই সমাধান নয়। ভবিষ্যতে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এ জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশের যাবতীয় কার্যক্রমের দায়িত্ব দিতে হবে প্রকৃত যোগ্য, দ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের। একই সঙ্গে এমন ভুল কেন করা হলো, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে