দেশের বাজার চীনের দখলে

উত্তরণে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি

  অনলাইন ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শিশুদের খেলনাসামগ্রীর বাজার এখন আমদানিনির্ভর। এ বাজার প্রায় পুরোটাই দখল করে রেখেছে চীন। বিদেশি খেলনার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় খেলনাসামগ্রী। অথচ এ খাত বিকশিত হলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দেশের চাহিদা পূরণ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে। কিন্তু যথাযথ নীতিমালার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

আমাদের সময় সংবাদসূত্রে জানা গেছে, আবহমানকাল ধরে বাংলার ভূখ-ে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে মেলার আয়োজন করা হতো। সেসব মেলায় শিশুদের খেলনা পাওয়া যেত। মাটি, রঙিন কাগজ, টিন, কাঠ, বাঁশবেতের পুতুল, হাঁড়ি-কড়াই, পাখিসহ নানা রকম খেলনা পাওয়া যেত মেলায়। কিন্তু সেসব খেলনা এখন সেকেলে হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের খেলনার বাজার চলে গেছে ভিনদেশের দখলে। সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর ৫ হাজার কোটি টাকার খেলনার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ খেলনা আমদানি হয় বিদেশ থেকে। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। আর নগরভিত্তিক হিসাবে ৯০ শতাংশ খেলনাই আমদানিকৃত। বিদেশ থেকে এনে গড়ে ৯২ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। তাই আমদানিকৃত খেলনা ন্যায্য দামে বিক্রি হলেও তার মূল্য দাঁড়ায় দেশে তৈরি খেলনার দ্বিগুণ। ত্রেবিশেষে এসব খেলনা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি দামেও। অথচ শ্রমের মূল্যের বৈশ্বিক বিচারে এ দেশেই স্বল্প ব্যয়ে খেলনা কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে বিশাল একটি শিল্প খাত বিকশিত হতে পারে। উপরন্তু আমদানির মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার পরিবর্তে বিপুলসংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বিদেশি খেলনার অবাধ প্রবেশ রোধ করতে না পারায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, এ শিল্পের েেত্র বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটাই আত্মঘাতী। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি। এ জন্য সর্বপ্রথম দরকার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা। এ েেত্র শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় দেওয়া; সহজ শর্তে ঋণদান এবং অন্যান্য আইনি সহায়তা প্রদানে সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবেই বাড়বে কর্মসংস্থান, সচল থাকবে অর্থনীতির চাকা।

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে