x

সদ্যপ্রাপ্ত

  •  বিপিএল এর পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। মাশরাফির হাতে চতুর্থ ট্রফি

বিচ্ছেদের পথেই শাকিব-অপু

শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে আদালতে

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০০:৫৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিডিয়ার সবচেয়ে আলোচিত তারকাসন্তান আব্রাম খান জয়। বাবা ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খান। মা আলোচিত চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। স্বাভাবিক কারণে জয়কে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি। শুক্রবার গুজব উঠেছিল, আব্রাম খান জয়কে বাসায় গৃহপরিচারিকার জিম্মায় রেখে কলকাতা গেছেন অপু বিশ্বাস। সেই গুজবেরই সত্যতা পাওয়া যায় শুক্রবার রাত ৯টায় রাজধানীর নিকেতনে অপুর বাসায় গিয়ে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরেই শুক্রবার দুপুরে শুনতে পান এ ঘটনা। এর পরও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাই নিজ চোখে দেখতে রাত ৯টায় অপুর নিকেতনের বাসায় যান তিনি। অপুর বাসায় গিয়ে শাকিব দরজায় কড়া নাড়লে ভেতর থেকে নারী কণ্ঠের একজন জানান, দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া। খোলার জন্য তাদের কাছে কোনো চাবি নেই।

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন চলছে অনেক দিন ধরেই। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম বিশ্বস্ত সূত্র আর গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাতে ভীষণ চটেছেন অপু। শুধু তা-ই নয়, একটি ছবির মহরত অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এসব সূত্রের উৎস জানতে চান। কয়েক দিন ধরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাকিব-অপুর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র দুজনের সংসার ভেঙে যাওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তারা আরও বলেন, ‘দুজনের বিবাহবিচ্ছেদ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র!’

বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও শাকিবের কথায় কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সংসারজীবনে তিনি মোটেও ভালো নেই। দেশের চলচ্চিত্রে শাকিব যতটা সফল, ঠিক ততটাই যেন সফল হতে পারেননি নিজের সংসারজীবনে।

এদিকে ঘরে তালা মেরে জয়কে আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে গেলে শাকিবকে আদালতের স্মরণাপন্ন হতে বলে পুলিশ। সব কিছুর পর শাকিব-অপু শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথেই হাঁটছেন বলে শোনা যাচ্ছে। শাকিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আপাতত কিছুই বলতে চাই না। কিছু হলে সবাই দেখতে পাবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, যেটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক, সেটাই হবে।’

২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে করার পর শাকিব ও অপুর সংসার ঠিকমতোই চলছিল। দুজনই নিজেদের মতো করে কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেছিলেন। যেই না বিয়ে আর সন্তানের ব্যাপারটি জনসমক্ষে চলে আসে, তখনই শাকিব ও অপুর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, আর তখন দুজনের মধ্যে তৃতীয় পরে আবির্ভাব ঘটে, যাদের কারণে দিনের পর দিন দুজনের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পরস্পরের কাছ থেকে দূরে সরে যান। সবকিছু পাশ কাটিয়ে শাকিব কাজে মনোযোগী হলেও অপু পারেননি, কারণ তার হাতে ওই সময় কোনো কাজ ছিল না। হাতে অখ- সময় থাকায় তিনি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শোতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বিয়ে ও সংসার নিয়ে নানা কথা বলেন। তার কাছ থেকে শাকিব খান সম্পর্কে অনেক অজানা কথা বেরিয়ে আসে। আর অপুর এসব মন্তব্য নাকি শাকিবের কাছ থেকে তাকে আরও বেশি দূরে সরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়।

স্বামী-স্ত্রী হয়েও তাদের জীবনযাপন স্বাভাবিক ছিল না। শাকিব বলেন, ‘এমন তো অনেকের জীবনেই হয়। শুরুতে জটিলতার মধ্যে থাকলেও পরে কিন্তু সবাই ভালো আছে। অনেক বিখ্যাত মানুষের জীবনেও এমন ঘটনা হয়েছে। আমি যত দূর জানি, তারা সবাই ভালোই আছেন।’ বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে অপু বলেন, ‘আমি ডিভোর্স নিয়ে এখনই কিছু বলব না। বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত। যদি এমন কিছু ঘটে, তা আমি নিজেই আপনাদের ডেকে জানাব।’

‘সন্তানকে তালা দিয়ে কোনো মা কি পারে বিদেশে যেতে’

মাত্র এক বছরের একটি ছোট ছেলেকে কাজের মেয়ের জিম্মায় রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে কোনো মা কীভাবে দেশের বাইরে চলে যেতে পারে? এটা কীভাবে সম্ভব? এটা সন্তানের প্রতি মায়ের কেমন দায়িত্ব পালন? আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা আমি মানতে পারছি না। আমার ছেলের যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে এর দায় নেবে কে? ছেলের প্রতি যার দায়িত্ববোধ এটুকুই, তার প্রতি ব্যবস্থা আর কী নেব! তবে আমি এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব। কী এমন ঘটল যে এক বছরের ছেলেকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে বিদেশে যেতে হবে? দেশে কি কোনো চিকিৎসা ছিল না? ...শুনেছি, অপু এখন নিয়মিত জিমে যান, ব্যায়াম করেন। তাহলে তখন শরীরের কোনো সমস্যা না হলে বাথরুমে পড়েই পুরনো সেলাইয়ের জায়গা ছিঁড়ে যায়! এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে সে আমার ছেলেকে আমার বাবা-মায়ের কাছে রেখে যেতে পারত, নইলে সঙ্গে নিয়ে যেত। সে এর কোনোটাই না করে আমার ছেলেকে কাজের মেয়ের জিম্মায় রেখে বিদেশ চলে গেল! অবশ্যই এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। ছেলের প্রতি মায়া-দরদ থাকলে কাজের মেয়ের জিম্মায় রেখে কখনো বিদেশে যেতে পারে না। তাও আবার ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে! তার যদি এতই কলকাতা যাওয়ার প্রয়োজন থাকে, তাহলে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই যেতে পারত।

‘জয়ের ভাগ্য হয়নি ওর দাদা দাদির বাসায় থাকার’

এটা একদমই ভুল কথা। আমি বাসার বাইরে থেকে তালা দিয়ে আসিনি। বাসার ভেতর থেকেই তালা দিয়েছে। বাসার ভেতরে শেলি আপুসহ অন্যরা রয়েছেন। আমি নেই বলেই তারা ভেতর থেকে তালা দিয়ে রেখেছেন। এটা দোষের কী? আমি বিপদে পড়েই কলকাতা একাই চলে আসতে হয়েছে। জয়কে নিয়ে আসার পরিস্থিতি ছিল না। কারণ জয়ের শরীরটা খুব ভালো নয়। তাই ওকে নিয়ে আসিনি। আবার জয়কে রাখার লোক ঢাকায় খুঁজে পাইনি। তাই বাসায় আমার বোন শেলির কাছেই রেখে আসছি। জয়ের জন্মদিন অনুষ্ঠানে তার দাদা-দাদি বা ফুপুকে দেখেছেন? দেখেননি। তারা কোনো দিন জয়কে দেখতে আমার বাসায় আসেননি। আমার বাসার একদম কাছেই জয়ের ফুপুর বাসা। সেও কোনো দিন তাকে দেখতে আসেনি। তাহলে আমি কীভাবে তাদের কাছে রাখব বলেন। আমি কলকাতায় আসার সময় জয়কে কোলে নিয়ে অনেক কান্না করেছি। কারণ জয়ের ভাগ্য হয়নি ওর দাদা-দাদির বাসায় থাকার। আমি জানতাম না শাকিব বাসায় যাবেন। আর শাকিব বাসায় গিয়ে যখন এমন পরিস্থিতি দেখেছেন, তখন কেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই পারত। শাকিব তার সন্তানের বাবা, সে তার সন্তানকে দেখবে। আমার শরীর এখন একটু ভালো। ডাক্তার বলেছেন দুই মাস বিশ্রামে থাকতে। কলকাতায় থাকলেও প্রায় প্রতি মুহূর্তে জয়কে ভিডিও কলে দেখছি। জয় কী করছে, কী খাচ্ছে? সবই আমি এখান থেকে দেখছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে